সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী ১২ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সাংবাদিক সমাজ। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) যৌথ সভায় এ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আদালতে সাংবাদিকদের নির্বিঘ্নে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাংবাদিক নেতারা।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এলআরএফ সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াছিন এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মুন্না। প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম।
সভায় বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশ ও বিচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ একটি প্রতিষ্ঠিত চর্চা। গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ২৫ জন প্রধান বিচারপতির আমলে সাংবাদিকরা আদালতে প্রবেশ করে শুনানি পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ এবং সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টসহ কয়েকটি আদালতে সাংবাদিকদের প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যা জনগণের তথ্য জানার সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।
বক্তারা অভিযোগ করেন, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে সংবাদকর্মীদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হলে বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকারও সীমিত হয়ে পড়বে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।
সভা থেকে আগামী ১২ আগস্টের অবস্থান কর্মসূচি সফল করতে সম্পাদক পরিষদ, ন্যাশনাল এডিটর্স কাউন্সিল, জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও তাদের সমর্থন আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় এলআরএফের সাবেক সভাপতি সালেহ উদ্দিন, আশুতোষ সরকার, সাঈদ আহমেদ খান, ওয়াকিল আহমেদ হিরন, মাশহুদুল হক, শামীমা আক্তার, হাসান জাবেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুল হান্নান, আব্দুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সিনিয়র সদস্য শংকর মৈত্র, খোকন বড়ুয়া, সাজেদুল হক, মিলটন আনোয়ার, মহিউদ্দিন ফারুক, সহসভাপতি আবু সালেহ রনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ আল আমীন, দপ্তর সম্পাদক মাহমুদুল আলম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল বাশার এবং কার্যনির্বাহী সদস্য ইলিয়াস সরকার ও এসএম নূর মোহাম্মদ বক্তব্য দেন।
