প্রতারণা বন্ধ না করলে প্রত্যেকের কপালে শনির দশা আছে: নুরুল হক

প্রতারণা বন্ধ না করলে প্রত্যেকের কপালে শনির দশা আছে: নুরুল হক

ফন্ট সাইজ:

অবৈধভাবে প্রতারণার চক্র হিসেবে যারা কাজ করছেন তাদের ভালো হয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক। তিনি বলেন, প্রত্যেককে ডিবি পুলিশ বিভিন্ন এজেন্সি নজরদারি করছে। রেহাই পাওয়ার সুযোগ নাই। সুতরাং আপনারা যদি এখনও এগুলো বন্ধ না করেন তাহলে আপনাদের কপালে শনির দশা আছে। আজ রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের (ওইপি) আওতায় অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থাপনা মডিউলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার প্রসেস নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে যে কী প্রক্রিয়ায় এখানে লোক পাঠানো হবে। বিগত দিনের বিতর্কিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে আমরা একটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কম খরচে আমাদের বাংলাদেশিদের যাতায়াতের একটা পথ তৈরি করতে চাই। তার আগে দেখছি যে টাকা নেয়ার জন্য লাইন দেয়া, সিরিয়াল করা, এগুলো বিজ্ঞাপন চলছে। এটা তো স্পষ্টত অভিবাসী আইনের বিরুদ্ধে। কারণ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বিজ্ঞাপন দেয়ার সুযোগ নেই।

দেশে প্রায় তিন হাজার রিক্রুটিং লাইসেন্সধারীর মধ্যে অধিকাংশই অনিয়মে জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিকভাবে নিয়ম মানলে চার-পাঁচশর বেশি লাইসেন্স টিকবে না। ভুয়া ও অনিয়মে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলসহ অভিবাসন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে কোনো ধরনের ঘুষ বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানান।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোখতার আহমেদ বলেন, আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে ম্যাজিস্ট্রেট পদায়ন করা হবে যারা অভিযোগ বা সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান করবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মোঃ শাকিরুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমান সরকারের কিছু ‘ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম’ রয়েছে, এর মধ্যে একটি হচ্ছে প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’। আজকে যেই অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যাপারে এখানে একত্রিত হয়েছি তার কিছু সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে প্রবাসী কার্ডে।

সিস্টেক ডিজিটাল লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় তৈরি এই মডিউলটি বিএমইটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশের সব জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনবে। প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ঘরে বসেই অনলাইনে অভিযোগ জমা দেয়া, নথি আপলোড এবং অভিযোগের হালনাগাদ অগ্রগতি ট্র্যাক করতে পারবেন। বিএমইটি কর্মকর্তারা ডিজিটাল পদ্ধতিতে তদন্ত, সালিস, নিষ্পত্তি ও প্রতিবেদন তৈরির পুরো প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে সম্পাদন করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, রামরু এর নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনীম সিদ্দিকীসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন