সিঙ্গাপুরে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের অভিযোগে সাবেক এক ব্যাংক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর, কোম্পানি গঠন, শেয়ার মালিকানা, কর পরিশোধ এবং ব্যাংকিং লেনদেনসহ বিভিন্ন নথি তলব করেছে সংস্থাটি।
দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ২৯ জুলাই জারি করা এক আদেশে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আগামী ১০ আগস্ট সকাল ১০টার মধ্যে প্রয়োজনীয় রেকর্ড ও তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রাপ্ত নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগের সত্যতা মিললে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে। বিদেশে অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই এ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
দুদকের নথি অনুযায়ী, অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি প্রায় ৫ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকার বেশি) বিদেশে পাচার করে সিঙ্গাপুরে M/S Ariel Maritime (Pvt) Ltd. নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং সেখানে অর্থ বিনিয়োগ করেন। অর্থের প্রকৃত উৎস, অবস্থান ও মালিকানা গোপনের মাধ্যমে বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য একজন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছে দুদক। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি চাওয়া হয়েছে।
দুদকের চাহিদা অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে ব্যবহৃত পাসপোর্টের সত্যায়িত অনুলিপি, রেসিডেন্ট হিসেবে দাখিল করা আয়কর রিটার্ন, Accounting and Corporate Regulatory Authority (ACRA) থেকে ইস্যুকৃত কোম্পানির নিবন্ধন সনদ ও বিজনেস প্রোফাইল, শেয়ার সনদ, মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন, পরিচালকদের নিবন্ধন সংক্রান্ত কাগজপত্র, ৫ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার পাঠানোর ব্যাংকিং নথি (টিটি/সুইফট কপি), কোম্পানির কর রিটার্ন, নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং শেয়ার মালিকানার তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
