চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটে থমকে গেছে উৎপাদন দীর্ঘ লাইনে সিএনজি অটোরিকশা

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটে থমকে গেছে উৎপাদন দীর্ঘ লাইনে সিএনজি অটোরিকশা

ফন্ট সাইজ:

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে চট্টগ্রামে ভয়াবহ গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ কম গ্যাস সরবরাহ পাওয়ায় শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে বেড়েছে লোডশেডিং, সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ সারি, আর আবাসিক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাস না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ১লা আগস্টের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ১১ই আগস্টের আগে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

দেশে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পুনঃবাষ্পীভবনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দু’টি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি পরিচালনা করছে সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি। চট্টগ্রামে নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস সরবরাহ না থাকায় অঞ্চলটি পুরোপুরি এলএনজিনির্ভর। ফলে সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে বন্দরনগরীতে। গত ২১শে জুলাই এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান টার্মিনালের একটি বয়লারে শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর পুরো টার্মিনালটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের চেষ্টা করলেও এখনো পুরোপুরি সফল হননি। বিদেশি প্রকৌশলী ও যন্ত্রাংশ এনে মেরামতের কাজ চললেও কবে নাগাদ টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে চট্টগ্রামে দৈনিক প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২২৫ থেকে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ কম গ্যাস পাচ্ছে বন্দরনগরী। সংকট শুরুর আগেও চট্টগ্রামে প্রতিদিন ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। অথচ কেজিডিসিএলের কর্মকর্তাদের মতে, দৈনিক অন্তত ২৫০ থেকে ২৫৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বর্তমান চাহিদা অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব হতো।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ ও সার খাতে গ্যাস বরাদ্দ দেয়ার পর শিল্প, বাণিজ্যিক, আবাসিক ও সিএনজি খাতের জন্য হাতে থাকছে মাত্র প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এত অল্প গ্যাস দিয়ে পুরো নেটওয়ার্কে প্রয়োজনীয় চাপ ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শুধু শহরতলি নয়, নগরের কেন্দ্রীয় এলাকাতেও গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে। রাষ্ট্রায়ত্ত চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। কেবল কাফকোতে সীমিত পরিসরে সার উৎপাদন চলছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। বর্তমানে শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো চট্টগ্রামেও লোডশেডিং বেড়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন