স্বাস্থ্য বাজেটের বরাদ্দ অনুযায়ী মিলছে না সেবা: পিপিআরসি গবেষণা

স্বাস্থ্য বাজেটের বরাদ্দ অনুযায়ী মিলছে না সেবা: পিপিআরসি গবেষণা

ফন্ট সাইজ:

অর্থের ঘাটতির কারণে নয়, বরং প্রশাসনিক দুর্বলতা ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বরাদ্দকৃত অর্থ পুরোপুরি ব্যয় করতে পারছে না। ফলে কাগজে-কলমে বাজেট থাকলেও তার সঠিক সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা, নিশ্চিত হচ্ছে না কাক্সিক্ষত সেবা। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
বুধবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের উদ্যোগে পিপিআরসি এই গবেষণার কাজ পরিচালনা করে।

অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে গবেষক দলের প্রধান ও পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান জানান, দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও তৃতীয় স্তরের মোট ২২টি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এ গবেষণা চালানো হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট, ক্রয়সংক্রান্ত নথি এবং কর্মকর্তা ও সেবাগ্রহীতাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য খাতের মূল চ্যালেঞ্জ কেবল বাজেট বাড়ানো নয়; বরং বরাদ্দকৃত অর্থকে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবায় রূপান্তর করার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার অভাব।

গবেষণায় সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধের মারাত্মক ঘাটতির চিত্র ফুটে উঠেছে। দেখা গেছে, তৃতীয় স্তরের হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতার হার মাত্র ১১.৫ শতাংশ এবং মাধ্যমিক স্তরের হাসপাতালে মাত্র ২৩.৯ শতাংশ। বর্তমানে সরকারি এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড প্রায় ৬২ শতাংশ ওষুধ সরবরাহ করে। পিপিআরসির মতে, ইডিসিএল সময়মতো ও পর্যাপ্ত সরবরাহ করতে পারলে এ প্রাপ্যতা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিভিন্ন হাসপাতালে রোগনির্ণয় ও মেডিকেল ইমেজিং সেবা কাগজে-কলমে চালু থাকলেও রিএজেন্টের (রাসায়নিক বিকারক) সংকট, অকার্যকর যন্ত্রপাতি এবং টেকনিশিয়ানের অভাবে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। কিছু হাসপাতালে ইমেজিং সেবার ধারাবাহিকতা মাত্র ১৭ থেকে ৩৩ শতাংশের মধ্যে সীমিত। দেশে অনুমোদিত চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ পদের প্রায় ৪০ শতাংশই এখন শূন্য রয়েছে।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান স্বাস্থ্যখাতের এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে একটি পর্যায়ক্রমিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি স্বল্পমেয়াদে টেকনিশিয়ান নিয়োগ, ডিজিটাল মনিটরিং ও ক্রয়প্রক্রিয়া সহজ করার তাগিদ দেন। পাশাপাশি মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদে পৃথক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ক্যাডার গঠন, আর্থিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, ইডিসিএল-এর আধুনিকায়ন এবং সিএমএসডি-কে শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ডা. মো. এনামুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। অর্থবহ প্রশাসনিক সংস্কার ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে বাহ্যিক বা লোকদেখানো পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, প্রাতিষ্ঠানিক সততা ও জবাবদিহি প্রয়োজন।”

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নিরীক্ষা পরিচালক মাহফুজা খানমসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গবেষক ও উন্নয়ন সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন