‘বয়স যত বাড়ে মানুষ স্মৃতিকাতর হয়ে ওঠে’

ববিতার ৭৩তম জন্মদিন

‘বয়স যত বাড়ে মানুষ স্মৃতিকাতর হয়ে ওঠে’

ফন্ট সাইজ:

সেলুলয়েডের ফিতায় এক বর্ণিল শৈল্পিক ছবি এঁকে চলেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী ববিতা। কখনো ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’ গোলাপী হয়ে আবার কখনো ‘ডানপিটে ছেলে’ সিনেমায় মানবিক নার্স। কখনো আবার ‘সুন্দরী’ সিনেমায় প্রতিবাদী নারী, কখনো ‘বাঁদী থেকে বেগম’ সিনেমায় নর্তকী চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এ অভিনেত্রী। উচ্চ শ্রেণি থেকে আপামর খেটে খাওয়া সিনে দর্শকদের মাঝে আজও অম্লান ববিতা। আজ এ কিংবদন্তি অভিনেত্রীর ৭৩তম জন্মদিন। জন্মদিন বিষয়ে মানবজমিনকে ববিতা বললেন, আমরা যারা শিল্পচর্চা করি বেশির ভাগ ব্যক্তির বাহ্যিক যতই বয়সের ব্যবধানে কপালে বলিরেখা দৃশ্যমান হোক না কেন তাদের অন্তর আত্মা সব সময় তারুণ্যে ভরপুর। আমিও এর ব্যতিক্রম নই।

প্রতিটি বয়সের আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে। এখন তো জন্মদিন মানেই অনন্ত লোকের পদধ্বনি। তবুও মানুষ বেঁচে থাকে আগামীর স্বপ্ন নিয়ে। শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ববিতা বলেন, চোখের সামনে ভেসে ওঠে শৈশবের দুরন্তপনা, মায়ের কোলে মাথা রেখে ঘুম পাড়ানি গান, ভাইবোনের একসঙ্গে মিলে খুনসুটি, যশোরে বৃষ্টির দিনে বান্ধবীদের সঙ্গে কাকভেজা হয়ে স্কুল থেকে বাসায় ফেরা। বয়স যতই বাড়ে মানুষ স্মৃতিকাতর হয়ে ওঠে। এক সময় নিয়মিত শুটিংয়ের ব্যস্ততায় পার করা আমার আজ অফুরন্ত অবসর। আমার জন্মদিন শৈশবে খুব ঘটা করে উদ্‌যাপন করা হতো না। খুব একটা প্রচলন ছিল না, আর মফস্বল শহরে তো একদমই না।

জন্মদিনে বাড়তি পাওনা থাকতো মায়ের হাতের অমৃত সব মজার রান্না। মায়ের হাতে সেলাই করা নতুন জামা পাওয়া। এগুলো শৈশবকালের জন্মদিনের উৎসব। হাসতে হাসতে এ অভিনেত্রী বললেন, আগেকার মা-বাবারা তো শিশুর জন্ম তারিখ লিখে রাখতেন না। কিন্তু আমি সৌভাগ্যবান আমার বাবা আমার জন্মতারিখ লিখে রেখেছিলেন। নানি, দাদিকে যখন জিজ্ঞাসা করতাম আমার জন্ম কবে হয়েছে, তারা শুধু এটুকুই বলতেন, তুই যেদিন জন্ম নিয়েছিস সেদিন আষাঢ় মাস। যখন নায়িকা হলাম শুটিংয়ে দেশ-বিদেশের অনেক জায়গায় ঘটা করে আমার জন্মদিন পালন হতো। সহকর্মীরাই আমাকে শুটিং স্পটে সারপ্রাইজ দিতেন। বাড়তি পাওনা থাকতো সে সময়ের জনপ্রিয় সিনেমার কাগজ চিত্রালী এবং পূর্বাণীর পুরো পাতা জুড়ে ছবি ছাপিয়ে শ্রদ্ধেয় সাংবাদিকরা নিউজ করতেন, আজ ববিতার জন্মদিন। আহ, কি সোনালি সময় পার করে এসেছি। ববিতা বলেন, সব আনন্দ ছাপিয়ে এই বয়সে দাঁড়িয়ে আমার পৃথিবী আমার একমাত্র সন্তান অনিক যখন আমাকে জন্মদিনের সারপ্রাইজ দেয়, সেই অনুভূতি প্রকাশের ভাষা আসলে নেই।

এবারের জন্মদিনটাও কানাডায় অনিকের সঙ্গে কাটবে আমার। জন্মদিনের সঙ্গে আরেকটি আনন্দ সংবাদ যোগ হয়েছে। আগামী মাসে সুদূর আমেরিকায় একটি স্থানীয় সংগঠন আমাকে আজীবন সম্মাননায় সম্মানিত করবে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে যখন প্রবাসী ভাইবোনরা আমাকে সম্মানিত করেন সেটি সত্যিই তুলনাহীন। আমার জন্মদিনে আমি পুরো দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। যেন যতদিনই বাঁচি, সুস্থ সুন্দরভাবে বাঁচি। আপনি সম্প্রতি গ্রামের বাড়িতে মসজিদ নির্মাণের কথা জানিয়েছেন। কেউ কেউ সেটা নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছে।

আপনি শুনেছেন নিশ্চয়ই। ববিতা হেসে বলেন, সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, প্রতিটি মানুষের অধিকার রয়েছে কথা বলার। কই কেউ তো বললেন না ববিতা আন্তর্জাতিক সংগঠনের শুভেচ্ছাদূত ছিলেন। অনেক কাজ করেছেন। সমাজের বঞ্চিত নারী এবং শিশুদের মঙ্গলের জন্যও অনেক কাজ করেছি। আর ধর্মীয় বিষয় তো যার যার বিশ্বাসের জায়গা। শিল্পীরা তো ধর্মের বাইরে নন। আমি তো কখনো বলিনি যে, আমার অভিনয় করাটা ভুল ছিল। আমি তো গর্ব করি অভিনেত্রী হতে পেরে। যারা এসব বলেছেন তারা কি জীবনে কোনোদিন মসজিদে যাননি প্রার্থনার জন্য!

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন