ফিফার ‘ফুটবল আত্মা বিক্রি’র পরিকল্পনা ও বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড়

২০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক চুক্তি

ফিফার ‘ফুটবল আত্মা বিক্রি’র পরিকল্পনা ও বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড়

ফন্ট সাইজ:

ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তাদের টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির যে মহা-উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে বিশ্ব ফুটবলাঙ্গনে তীব্র ঝড় উঠেছে। পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার আয়ের এই পরিকল্পনা বিশ্বজুড়ে চরম সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

বৃটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ব্যাংক ‘জেপি মরগান’-এর সহায়তায় ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের একটি নতুন বাণিজ্যিক সত্তা গড়ে তোলার কাজ চলছে। ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাইয়ের প্রতিষ্ঠিত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘থ্রাইভ ক্যাপিটাল’ এই প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী সন্ধানের দায়িত্বে রয়েছে।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই মেগা-পরিকল্পনাকে জোরালো সমর্থন দিয়ে জানান, এর মাধ্যমে ফুটবলের বাণিজ্যিক দিকটি অনেক বেশি সুসংহত ও লাভজনক রূপ পাবে। ফিফার দাবি, এর ফলে তাদের ২১১টি সদস্য দেশের বার্ষিক অনুদান ৮ মিলিয়ন ডলার থেকে এক লাফে ২০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

তবে ফিফার এই লোভনীয় প্রতিশ্রুতির বিপরীতে ইউরোপিয়ান ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে এক বিবৃতিতে উয়েফা অভিযোগ করেছে, ‘ফিফা ফুটবলের আত্মা বিক্রির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’ উয়েফা আরও জোরালো ভাষায় বলে, ‘ফুটবলের সুশাসন ও আত্মা কোনো পসরা বা বিক্রির বস্তু নয়- বিশেষ করে এর আর্থিক স্বচ্ছতা ও সুফলভোগীদের ব্যাপারে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে। আমরা কেউই ফুটবলের মালিক নই, এটি ফিফার একাই বিক্রির বিষয় নয়।’

ইউরোপিয়ান গভর্নিং বডির পাশাপাশি এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই ফুটবলপ্রেমী লিখেছেন, ‘ফুটবল কোনো বিনিয়োগকারীদের সম্পদ নয়। এটি তাদের সম্পত্তি, যারা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে গ্যালারি ভরিয়ে তোলেন এবং মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। বিশ্বকাপ কোনো সাধারণ পণ্য নয়, এটি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রতিযোগিতা। এটি কারও বিক্রির জন্য ছিল না।’

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফিফার এই পদক্ষেপে বাইরের বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হলে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ কর্পোরেট মহলের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এর ফলে অধিক মুনাফার লোভে ফিফা হয়তো ঘন ঘন বিশ্বকাপ আয়োজন কিংবা কেবল অতি লাভজনক মার্কিন বাজারের মতো স্থানেই টুর্নামেন্ট সীমাবদ্ধ করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে।

যদিও ফিফা আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে যে, খেলার মূল নিয়ন্ত্রণ এবং ম্যাচ ক্যালেন্ডার তাদের নিজেদের হাতেই সংরক্ষিত থাকবে। তবুও এই বিতর্কিত উদ্যোগ বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন