ইরাকে অবস্থিত ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে এ হামলা চালায় তারা। ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস এর নিনভে প্রদেশের কমান্ড নিশ্চিত করেন, মার্কিন-সৌদি বিমান হামলায় তাদের অন্তত ৮ জন সদস্য নিহত এবং ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড়ে গিয়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘ পাঁচ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টার পর এই হামলাকে উভয় পক্ষের সম্পর্কের একটি বড় ধরনের অবনতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করে, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান ঘাঁটিগুলোর দিকে ছোঁড়া একাধিক ইরানি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে মাঝআকাশে প্রতিহত করেছে।
স্থানীয় সূত্রের ধারণা, জর্ডানে অবস্থিত যে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে সম্প্রতি তিনজন আমেরিকান সেনা প্রাণ হারিয়েছিলেন, সেটিই ছিল ইরানের মূল টার্গেট। এরই মধ্যে সেন্টকমের আরেকটি পৃথক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ৭২ ঘণ্টায় মার্কিন বাহিনী ও সৌদি জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে আইআরজিসির নির্দেশে চালানো ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার জবাবে সৌদি আরবের সামরিক বাহিনীর সাথে যৌথভাবে ইরাকের পূর্বাঞ্চলে ড্রোন হামলা পরিচালনাকারী গোষ্ঠীগুলোর ওপর বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
হামলায় গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত অস্ত্রাগার ও গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। পিএমএফ এই হামলাকে ইরাকের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। উল্লেখ্য, গত পাঁচ দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কোনো সামরিক সংঘাত ছিল না, যাতে করে নতুন কূটনৈতিক আলোচনার পথ সুগম করা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও প্রাথমিক আলোচনাকে খুব ভালো বললেও সতর্ক করেছিলেন যে, ইরান যদি সুনির্দিষ্ট চুক্তি না করে বা আলোচনায় অনাগ্রহ দেখায়, তবে তারা মারাত্মক সামরিক জবাবের সম্মুখীন হবে। নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার পর এখন বিশ্ব নজর রাখছে ট্রাম্প ইরানের এই সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে নতুন কোনো বৃহৎ সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন কি না।
