আগস্টে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ফখরুলকে নিয়েই সব আলোচনা

সহযোগীদের খবর

আগস্টে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ফখরুলকে নিয়েই সব আলোচনা

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘আগস্টে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ফখরুলকে নিয়েই সব আলোচনা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আগামী আগস্ট মাসেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চিন্তা করছে সরকার। সরকার–সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের জন্য অপেক্ষা না করে আগস্টের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহেই সম্পন্ন হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। আগে অনেকের নাম আলোচনায় থাকলেও, এখন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তাঁকে নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা দলের ভেতরে-বাইরে। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম গত শনিবার বগুড়ায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় নাকি বাইরের কাউকে প্রার্থী করা হবে, সে সিদ্ধান্ত সংবিধান ও আইন অনুযায়ী বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই নেওয়া হবে।

এর আগে সরকার-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গিয়েছিল, সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে নিয়মিত বা বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকা বাধ্যতামূলক নয়। সংসদ অধিবেশন না থাকলেও আইন অনুযায়ী পৃথক ব্যবস্থায় নির্বাচন করা যায়।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান শনিবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন হবে না। ১৫ জুলাই সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন শেষ হয়েছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসবে। সেই অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা যাবে বলে আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছিলেন।

২৪ জুলাই শুক্রবার বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এখন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিষয়টি স্থায়ী কমিটির আলোচনার মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হবে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকে এখনো সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি নন।

দলীয় সূত্র বলছে, মির্জা ফখরুলের পক্ষে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় আসছে। এক যুগের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন, কঠিন রাজনৈতিক সময়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, তাঁর পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ভাবমূর্তি এবং দলীয় গণ্ডির বাইরেও গ্রহণযোগ্যতা তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় এগিয়ে রেখেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রকাশ্যে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে মত দিয়েছেন।

তবে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দল ও সরকারে একাধিক সাংগঠনিক পরিবর্তন আনতে হবে। সে ক্ষেত্রে তাঁকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে হবে। পাশাপাশি বিএনপির মহাসচিব পদেও নতুন নেতৃত্ব আনতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ আসনও শূন্য হবে, ফলে ওই আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হবে।

প্রস্তুতি শুরু ইসির

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছে।

গতকাল সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে। তবে এখনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ হয়নি।

সিইসি আরও জানান, সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা পাওয়ার পর তফসিল ঘোষণা করা হবে। একাধিক প্রার্থী হলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট গ্রহণ করা হবে। আর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘পাঁচ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল’। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন আবুধাবি প্রবাসী নোয়াখালীর তাহের হোসেন। ৮ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি লন্ড্রি দোকানে কাজ করেন তিনি। ২ বছর পর স্ত্রী-সন্তান আর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে রুটি-রুজির তাগিদে পুনরায় ফিরছিলেন কর্মস্থলে। বাংলাদেশের ইমিগ্রেশনে সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পৌঁছান আবুধাবি বিমানবন্দরে। সে দেশের ইমিগ্রেশন পার হতে গিয়েই আকাশ ভেঙে পড়ে তাহেরের মাথায়। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে জানান, তার (তাহের) ভিসা বাতিল হয়ে গেছে। ফলে তার প্রবেশের অনুমতি নেই। ফিরতে হবে বাংলাদেশেই। এমন খবরে বিমানবন্দরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তাহের। চোখের সামনে ভেসে ওঠে পরিবারের মুখ, ঋণের বোঝা, আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। শেষপর্যন্ত অনিশ্চয়তা আর হতাশা সঙ্গী করে শুক্রবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আবার ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি।

তাহের হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ২ বছর পর পরিবারের সঙ্গে ১ মাস কাটিয়ে কাজে ফিরছিলাম। আবুধাবিতে নেমে জানতে পারি আমার ভিসা বাতিল। মনে হলো সব শেষ হয়ে গেছে। বিমানবন্দরেই বসে পড়ি। এখন কীভাবে সংসার চলবে, কেমন করে ঋণ শোধ করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।

এমন ঘটনা শুধু তাহের হোসেনের একার নয়। হঠাৎ ভিসা বাতিলের আতঙ্কে দিন কাটছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত প্রায় ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিকের। মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শ্রমবাজারে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই অনেকের কর্মভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। এমন ঘটনায় প্রবাসীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ছুটিতে দেশে এসে অনেক প্রবাসী কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশে বিমানবন্দরে গিয়ে জানতে পারছেন, তাদের ভিসা কার্যকর নেই। তাহেরের মতো অনেকে আমিরাতের বিমানবন্দরে নেমে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় জানছেন, তাদের ভিসা বাতিল হয়ে গেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও অনেকের ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটছে। এমন বাস্তবতায় ভিসা বাতিলের আশঙ্কায় নির্ধারিত সময়ের আগেই তড়িঘড়ি করে কর্মস্থলে ফিরতে চাইছেন অনেক প্রবাসী। কিন্তু সেই সুযোগ পাচ্ছেন না তারা। প্রবাসীদের অভিযোগ, এমন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একমুখী বিমান টিকিটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে কোথাও কোথাও প্রায় এক লাখ টাকায় পৌঁছে গেছে। ফলে ভিসা হারানো বা বাতিলের আশঙ্কার পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া দিতে গিয়েও আর্থিক হয়রানির মুখে পড়ছেন তারা।

এ বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। পাকিস্তান, নেপালসহ আরও কয়েকটি দেশের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে একই ধরনের ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটছে। ঠিক কী কারণে এটি হচ্ছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। আশা করি খুব শিগগিরই এর কারণ জানতে পারব। এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে ফিরলে কূটনৈতিক চ্যানেলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ২২ জুলাই থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার ঘটনা সামনে আসতে শুরু করে। দেশে এখন বেশ কয়েক হাজার প্রবাসী শ্রমিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ফিরতে চান এমন প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে বলে জানা গেছে। অনেক প্রবাসী অনলাইনে তাদের ‘স্ট্যাটাস’ যাচাই করে দেখেছেন, তাদের ভিসা ‘ক্যানসেল’ দেখাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অনেকেই বাংলাদেশ দূতাবাসে ধরনা দিচ্ছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার ভিসা বাতিলের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়ায় ঠিক কতজনের ভিসা বাতিল হয়েছে, সে সম্পর্কে কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ হয়নি। কেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিল হচ্ছে, সে কারণও স্পষ্ট নয়। এমন পরিস্থিতিতে চরম উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন প্রবাসীরা। তারা বলছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও কোনো সুস্পষ্ট তথ্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রবাসী শওকত আলী মীরন যুগান্তরকে বলেন, আগামী সপ্তাহে ছুটিতে বাংলাদেশে যাওয়ার কথা। সে অনুযায়ী আগেই বিমান টিকিট কেটে রেখেছি। কিন্তু এখন শুনছি দেশে গেলে নাকি ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে। কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না। একদিকে ভিসা হারানোর শঙ্কা, অন্যদিকে কষ্টার্জিত টাকায় কেনা টিকিটও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা। গত ২ দিন ধরে দূতাবাসে যোগাযোগের চেষ্টা করছি, কিন্তু কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারছি না। কেউ কোনো তথ্য বা দিকনির্দেশনাও দিচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিল হওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের সমস্যা সমাধানে দূতাবাস কাজ করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ প্রবাসীর আবেদনের তথ্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ১ হাজার ৪০০টি আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সেগুলোও পর্যায়ক্রমে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

ভিসা বাতিলের শঙ্কায় নির্ধারিত ছুটি শেষ হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে কর্মস্থলে ফিরতে চাইলেও নতুন বিপদ তাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। একমুখী (ওয়ানওয়ে) বিমান টিকিটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে এয়ারলাইন্সগুলো। আগে যে টিকিট ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এখন একই টিকিটের দাম বেড়ে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকারও বেশি হয়েছে।

কালের কণ্ঠ

‘বন্ধ ৪৪ কারখানায় বিনিয়োগ আনতে নতুন রোডম্যাপ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদনহীন পড়ে থাকা ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে নতুন রোডম্যাপ চূড়ান্তের পথে সরকার। বিনিয়োগ প্রস্তাব গ্রহণ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন ও চুক্তি সম্পাদন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ৭৭ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করার একটি কাঠামো নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বছরের পর বছর বন্ধ থাকা এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা, অলস সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে সরকারি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদে বেসরকারি বিনিয়োগ বা অংশীদারি গ্রহণের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত ফ্লোচার্ট ও সময়সীমাভিত্তিক প্রক্রিয়াগত কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

নীতিনির্ধারকদের মতে, নতুন শিল্প স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং গ্যাস-বিদ্যুৎসহ ইউটিলিটি সংযোগ পেতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল ব্যয় প্রয়োজন হয়। কিন্তু বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোর ক্ষেত্রে এসব সুবিধার বড় অংশ আগে থেকেই বিদ্যমান। ফলে বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে দ্রুত শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পাঁচ করপোরেশনের ৪৪ প্রতিষ্ঠান: সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগের জন্য চিহ্নিত ৪৪টি প্রতিষ্ঠান পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশনের অধীন। এর মধ্যে বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) ১৩টি, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) ১২টি, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ১০টি, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) পাঁচটি এবং বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (বিএসইসি) চারটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের বড় অংশ বহু বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। কোথাও উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ, কোথাও সীমিত আকারে কার্যক্রম চলছে। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের জমি, ভবন, গুদাম, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ এবং অন্যান্য অবকাঠামো বর্তমানে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় ১০ হাজার একর শিল্প জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ এটি।

৭৭ কার্যদিবসের অনুমোদন কাঠামো: বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে বিনিয়োগ প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর সাত কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক যাচাই সম্পন্ন করবে। এরপর প্রস্তাব গ্রহণ, সংশোধনের জন্য ফেরত দেওয়া অথবা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দ্বিতীয় ধাপে সম্পদের ধরন অনুযায়ী মূল্যায়ন, দরকষাকষি, বিনিয়োগ কাঠামো নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হবে। এ পর্যায়ে ইন্টার-এজেন্সি পাবলিক অ্যাসেট কমিটি (আইপিএসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ ধাপের জন্য প্রায় ৫০ কার্যদিবস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

তৃতীয় ধাপে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি (সিসিইএ) বা উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন নেওয়া হবে। এরপর চুক্তি স্বাক্ষর ও বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে। এ ধাপের জন্য ধরা হয়েছে আরো ২০ কার্যদিবস। সব মিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে সর্বোচ্চ ৭৭ কার্যদিবস সময় লাগবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অলস সম্পদকে অর্থনীতির মূলধারায় ফেরানোর সুযোগ: বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন শিল্প স্থাপনের জন্য বর্তমানে জমি অধিগ্রহণ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং ইউটিলিটি সংযোগ পেতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোর ক্ষেত্রে এসব সুবিধার বড় অংশ আগেই বিদ্যমান। ফলে নতুন বিনিয়োগকারীরা দ্রুত উৎপাদনে যেতে পারবেন। একই সঙ্গে সরকারের অলস সম্পদও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে।’

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘ব্যবহার একই, তবু জুনে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর জুন শেষ হলেই বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে শুরু হয় উৎকণ্ঠা। আগের মাসের চেয়ে কয়েক গুণ বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়েই অনেকের চোখ কপালে ওঠে। এবারও নিয়মে ফেরেনি এই অনিয়ম।

গ্রাহকদের প্রশ্ন, বাসায় নতুন কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র লাগানো হয়নি, তার ওপর ছিল লোডশেডিং। তবু কেন জুনের বিদ্যুৎ বিল কয়েক গুণ বাড়ল!

ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের এমন যৌক্তিক প্রশ্নে নানা যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন বিদ্যুৎ খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। খোদ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম দাবি করছেন, জুনে তাপমাত্রা বেশি থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবহার বেশি হয়েছে। তাই আগের মাসের চেয়ে বিল বেশি এসেছে। তিনি মনে করেন, বিদ্যুতের দাম বেড়েছে।

এ জন্য অনেকেরই বিল বেশি এসেছে, এটা স্বাভাবিক। দেশে বিদ্যুৎ গ্রাহক প্রায় পাঁচ কোটি। এর বড় একটি অংশ এখনও পোস্টপেইড মিটার ব্যবহার করেন। এসব গ্রাহকের অভিযোগ, অনেক এলাকায় নিয়মিত মিটার রিডিং নেওয়া হয় না। কোথাও কোথাও দেওয়া হয় অনুমাননির্ভর বিল। আবার কোথাও একসঙ্গে কয়েক মাসের রিডিং যোগ করা হয়।

অন্যদিকে, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীরা বলছেন, জুন-জুলাইয়ে বিদ্যুৎ বিল রিচার্জ করার পরপরই টাকা হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকা তো বটেই; বটেই; নারায়ণগঞ্জ, সাভার, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, কুড়িগ্রাম, হবিগঞ্জসহ দেশের বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের এমন অভিযোগ মিলেছে বিদ্যুৎ খাত-সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, জুনের এমন বিলের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। অনেক সময় মাঠ পর্যায়ে মিটার রিডিং নিয়মিত নেওয়া হয় না। অর্থবছরের শেষে কয়েক মাসের ইউনিট একসঙ্গে যোগ হওয়ায় গ্রাহক উচ্চ স্ল্যাবে চলে যান। ফলে বিল অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। তবে বিদ্যুৎ খাতের আরেকটি সূত্রের দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থবছরের শেষে রাজস্ব আয় বেশি দেখানো বা সিস্টেম লস কমিয়ে দেখানোর প্রবণতাও অতিরিক্ত বিলের কারণ হতে পারে।

এদিকে, জুনে হঠাৎ কয়েক গুণ বিল আসায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, মিটার রিডিংয়ে ভুল বা বিলিং ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। পাশাপাশি ভুল বিলের কারণে যেন কোনো গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা জরিমানা করা না হয়, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি করেছেন গ্রাহকরা।

এ পরিস্থিতিতে ২ জুলাই বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখের সভাপতিত্বে সারাদেশের জেলা প্রশাসক ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের নিয়ে পর্যালোচনা সভা হয়। সেখানে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনা আসে। করনিক বা কারিগরি ভুল হলে তাৎক্ষণিক সংশোধন এবং অসদুপায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এদিকে, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদ এখন শুধু অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই। রাজশাহীতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। তারা ভূতুড়ে বিল বাতিল, প্রকৃত মিটার রিডিংয়ের ভিত্তিতে নতুন বিল, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের বিল সমন্বয় এবং বিশেষ অভিযোগ সেল গঠনের দাবি জানিয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

বিস্ময়কর বিদ্যুৎ বিল

রাজধানীর দুই বিতরণ সংস্থা ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) ও ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮০টি সমিতির অধিকাংশ গ্রাহক বিল বিপত্তিতে পড়েছেন।

ঢাকার আদাবরের বাসিন্দা ইকবাল হোসেনের বাসার প্রতি মাসের বিদ্যুৎ বিল এক হাজার ৫০০ টাকার আশপাশে থাকলেও জুনে তা প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকে! পরে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, একটি ডিজিট ভুল করে বসানো হয়েছিল। সংশোধনের পর বিল নেমে আসে এক হাজার ৪৬০ টাকায়। ইকবালের প্রশ্ন-আমি অভিযোগ করেছি বলে ভুলটি ধরা পড়েছে। যিনি অভিযোগ করবেন না, তার কী হবে?

খিলগাঁওয়ের সজিবুর রহমান বলেন, একই ব্যবহারেও জুনে কয়েক গুণ বেশি বিল এসেছে। ডেমরার শরিফুল ইসলামের দাবি, প্রায় প্রতি বছরই জুনে এমন হয়। অভিযোগ দিয়েও লাভ হয় না।

নিকেতনের বাসিন্দা সালাউদ্দিনের মার্চে বাসার বিদ্যুৎ বিল আসে ছয় হাজার ৩৭৭ টাকা, এপ্রিলে সাত হাজার ৪০২ টাকা আর মে মাসে ছয় হাজার ৮৪২ টাকা। সালাউদ্দিনকে অবাক করে দিয়ে জুনে বিল আসে ৪৮ হাজার ৯০৯ টাকা! যা বিলের ধারাবাহিকতায় চোখে পড়ার মতো। তিনি বলেন, এই বিল অবিশ্বাস্য!

নয়া দিগন্ত

‘চীনা বিনিয়োগে নতুন এলএনজি টার্মিনাল’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রি-গ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। একই বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির দরপত্র প্রস্তুত ও জমা দেয়ার সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দু’টি সিদ্ধান্তই সরকারের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাকে আরো দ্রুত, নমনীয় ও বাজার-সক্ষম করার প্রচেষ্টার অংশ। তবে একই সাথে এগুলো বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি আমদানিনির্ভরতার বাস্তবতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জি-টু-জি পদ্ধতিতে প্রকল্প

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মহেশখালীর কুতুবজোমে এফএসআরইউ নির্মাণের জন্য চীনের চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (সিএনইই) প্রস্তাব সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। এটি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫-এর ৯২(২) ও ১০৭(২) বিধি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের তুলনায় জি-টু-জি পদ্ধতিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে সময় কম লাগে, সিদ্ধান্ত দ্রুত নেয়া যায় এবং অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সহজ হয়। বিশেষ করে জ্বালানির মতো কৌশলগত খাতে এ ধরনের ব্যবস্থা অনেক দেশই অনুসরণ করে।

কেন প্রয়োজন নতুন টার্মিনাল?

বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা, পরিবহন এবং নগরায়ণের কারণে প্রতিদিন গ্যাসের প্রয়োজন বাড়লেও দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে।

বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি হলেও দেশীয় উৎপাদন প্রায় অর্ধেক। এই ঘাটতি পূরণে সরকার কয়েক বছর ধরে এলএনজি আমদানি করছে।

বর্তমানে মহেশখালীতে দু’টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু রয়েছে, যেগুলো মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারে। নতুন কুতুবজোম এফএসআরইউ চালু হলে জাতীয় গ্যাস সরবরাহ আরো বাড়বে। এর ফলে শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘স্থিতিশীল’ থেকে বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ করল এসঅ্যান্ডপি। প্রতিবেদনে বলা হয়, পাশাপাশি ঋণমান নিয়ে বিভিন্ন নেতিবাচক বার্তা দিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সার্বভৌম ঋণমানের পূর্বাভাস (আউটলুক) ‘স্থিতিশীল’ থেকে ‘নেতিবাচক’ করেছে। অবশ্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান ‘বি প্লাস’ এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণমান ‘বি’ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ঋণমান এক ধাপ অবনমন করেছিল এসঅ্যান্ডপি। ওই সময় দেশের সার্বভৌম ক্রেডিট রেটিং ‘বিবি মাইনাস’ থেকে ‘বি প্লাস’-এ নামিয়ে দেয়া হয়। সে সময় সংস্থাটি ঋণমানের পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ রেখেছিল। গত সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ করে দিয়েছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ইঙ্গিত দিয়েছে যে আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং আরো এক ধাপ কমে যেতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে এসঅ্যান্ডপির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ করে দেয়া হয়েছিল। এর এক বছরের মাথায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ঋণমান এক ধাপ অবনমন করা হয়েছিল।

এসঅ্যান্ডপি এবার তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ব্যাংক খাতের দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের একটি কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। এর সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের অনিশ্চয়তা নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। এ অবস্থায় বহির্বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অনেকটাই নির্ভর করবে প্রবাসী আয় শক্তিশালী থাকা, তৈরি পোশাক খাতের পুনরুদ্ধার এবং বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার ওপর।

এসঅ্যান্ডপি ছাড়া মুডি’স এবং ফিচ রেটিংসও ২০২৩ সাল-পরবর্তী সময়ে একাধিকবার বাংলাদেশের ঋণমান অবনমন করার পাশাপাশি পূর্বাভাস নেতিবাচক করেছে। চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ফিচ রেটিংস বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণমানের পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে কমিয়ে ‘ঋণাত্মক’ করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তিন ঋণমান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান—এসঅ্যান্ডপি, মুডি’স ও ফিচ রেটিং—একত্রে ‘বিগ থ্রি’ হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের ক্রেডিট রেটিং বাজারের বেশির ভাগ এ প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। এ তিন প্রতিষ্ঠানের রেটিংয়ের ওপর কোনো দেশের অর্থনীতির দৃঢ়তা, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক বাণিজ্য আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা পায়।

এসঅ্যান্ডপির বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস নেতিবাচক করা বিগত আমলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের ধারাবাহিকতা বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। বণিক বার্তাকে গতকাল তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির যেসব চ্যালেঞ্জ ও সংকটের ওপর ভিত্তি করে এসঅ্যান্ডপি বাংলাদেশের সার্বভৌম রেটিং ও পূর্বাভাস দিয়েছে, সেগুলো আমরা ফ্যাসিবাদী আমলের সূত্রে পেয়েছি। আমরা চেষ্টা করছি, অর্থনীতিকে দাঁড় করাতে। এরই মধ্যে বেশকিছু সূচকে উন্নতি দেখা গেছে। ব্যাংক খাতসহ এসঅ্যান্ডপি যেসব চ্যালেঞ্জের কথা বলেছে, সেগুলো সংস্কারে উদ্যোগ চলমান রয়েছে।’

বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির মন্থরতাসহ অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সোমবার প্রকাশিত বিবৃতিতে এসঅ্যান্ডপি বলেছে, গত তিন বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা এবং তৈরি পোশাক রফতানির অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে আগামী তিন বছরে দেশের গড় প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশে সীমিত থাকতে পারে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার শক্তিশালী জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। ফলে ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণে তুলনামূলক স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হতে পারে, যা কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এসঅ্যান্ডপির আউটলুক ‘নেতিবাচক’ হওয়া উদ্বেগের, আবার ‘বড় সুযোগ’ও বলে মনে করেন ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। সিটি ব্যাংকের এ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এসঅ্যান্ডপির আউটলুক “‍নেগেটিভ” হওয়া অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। তবে এটাকে পজিটিভ দিক থেকেও দেখা যায়। আগামী ১২-২৪ মাসে অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের ঝুঁকি মোকাবেলায় যেন আমরা আরো কার্যকর সংস্কারের দিকে এগোই, এটা সেই দরকারি বার্তা। অবশ্যই এতে বিদেশী বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের মধ্যে বাংলাদেশ নিয়ে একটু বাড়তি সতর্কতা তৈরি হবে। ফলে বৈদেশিক ঋণের খরচ ও ট্রেড ফাইন্যান্সের দাম একটু বাড়তে পারে। তবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যাংক খাতের সংস্কার ও বৈদেশিক খাতের উন্নতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আউটলুক উন্নত করার বড় সুযোগ তৈরি হলো।’

আজকের পত্রিকা

‘বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন: প্রতি মাসে ৬ নেতা-কর্মী খুন’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৩৮ নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে অন্তত ছয় নেতা-কর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য, মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্যে এই হিসাব পাওয়া গেছে। এই হিসাব গত ফেব্রুয়ারি থেকে গতকাল ২৮ জুলাই পর্যন্ত। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সারা দেশে ১ হাজার ৯১ জন খুন হয়েছে।

পুলিশ বলেছে, এসব হত্যার নেপথ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, পদ-পদবি ও নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধ, এলাকায় আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত শত্রুতা, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল ও দুর্বৃত্তদের হামলা। এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে অন্তত ১৯টি ঘটনার সঙ্গে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ।

কয়েকটি ঘটনায় সংগঠনের কয়েক নেতা-কর্মী গ্রেপ্তারও হয়েছেন। বিএনপি এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করেছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনকে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সন্ত্রাসীরা ওত পেতে বসে আছে। এদেরই হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন দলের নেতা-কর্মীরা।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে সরকার ও প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। পুলিশ প্রশাসন আরও বেশি কর্মতৎপর হয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত ১২ ফেব্রুয়ারি। এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী হয়ে বিএনপি ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে। আসকের তথ্য মতে, ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি জুলাই পর্যন্ত সময়ে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নিহত ৩৮ নেতা-কর্মীর মধ্যে বিএনপির রয়েছেন ২১ জন, জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৮ জন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ২ জন, শ্রমিক দলের ২ জন, কৃষক দলের ২ জন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ২ জন এবং তাঁতী দলের ১ জন।

সর্বশেষ ২৪ জুলাই রাতে রাজধানীর কাফরুলে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন যুবদলের কর্মী মো. ইউসুফ আলী পারভেজ। তিনি কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুর অনুসারী ছিলেন। ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন যুবদলের আরেক কর্মী ও এক সবজি বিক্রেতা। কাফরুল থানার পুলিশ ও ডিবি এ ঘটনায় গত সোমবার পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা হলেন শ্যুটার চঞ্চল মোল্লা, জিহাদ মোল্লা, জিয়ারুল মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ, নাহিদ হাসান, আবির হাওলাদার, আলী হোসেন ও শাফিন আহমেদ। তাঁদের মধ্যে চঞ্চলকে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশে তুলে দেয় স্থানীয় জনতা।

পুলিশ বলেছে, এই ব্যক্তিরা ভাড়াটে খুনি। তাঁরা যুবদল নেতা হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যা করতে এসেছিলেন। ঘটনাস্থলে তাঁদের অবস্থান লোকজনের মনে সন্দেহ জাগালে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তাঁরা এলোপাতাড়ি গুলি করে পালানোর সময় ইউসুফ গুলিতে নিহত এবং দুজন আহত হন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম সোমবার বলেন, গ্রেপ্তার শুটারদের বাড়ি ঝিনাইদহ ও মাগুরায়। হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যা করতে তাঁদের ২৫ লাখ টাকায় ভাড়া করেছিলেন কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ। এই দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। স্থানীয় ময়লার দরপত্র, ফুটপাতের দোকান, ব্যবসা, একটি টিনশেড বাড়ির দখলকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ডিজিটাল যুগেও দুদক যখন অ্যানালগ!’। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ ডিজিটাল রাষ্ট্র গঠনের পথে এগোলেও দুর্নীতি অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এখনো অনেকটাই অ্যানালগ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক)। একটি অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হলে তার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ৮০ প্রতিষ্ঠানে আলাদাভাবে তলবি নোটিস পাঠাতে হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তথ্য পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। কোথাও মাসের পর মাস কোনো উত্তর আসে না, কোথাও অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়, আবার কোথাও একাধিকবার তাগাদা দিয়েও কাক্সিক্ষত নথি পাওয়া যায় না। ফলে ৯০ কর্মদিবসে শেষ হওয়ার কথা যে অনুসন্ধান, তা অনেক ক্ষেত্রে দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত ঝুলে থাকে।

দুদকের একাধিক বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের চেয়ে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তথ্য সংগ্রহ। একজন ব্যক্তির অবৈধ সম্পদের প্রকৃত চিত্র জানতে ব্যাংক হিসাব, ঋণ, আয়কর রিটার্ন, জমি-ফ্ল্যাটের মালিকানা, কোম্পানির শেয়ার, গাড়ির নিবন্ধন, সঞ্চয়পত্র, বিদেশ ভ্রমণের তথ্য, মোবাইল আর্থিক সেবার লেনদেন এবং স্ত্রী-সন্তান বা নিকটাত্মীয়ের নামে থাকা সম্পদের তথ্য মিলিয়ে দেখতে হয়। কিন্তু এসব তথ্য এক জায়গায় নেই। প্রতিটি তথ্যের জন্য আলাদা প্রতিষ্ঠানে নোটিস পাঠাতে হয়, আর সেখান থেকেই শুরু হয় দীর্ঘসূত্রতা।

দুদকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন ও তার স্ত্রীর শামসুন নাহারের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু হয়। দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও তথ্য না পাওয়ায় অনুসন্ধান শেষ হচ্ছে না। শুধু প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন নন, তার মতো আরও অনেকের অভিযোগের অনুসন্ধান আটকে আছে তথ্য না পাওয়ার কারণে।

দুদকের তথ্য বলছে, সংস্থাটিতে প্রতি বছর প্রায় ১৫ হাজার অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১ থেকে দেড় হাজার অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয়। এ ছাড়া পুরনোসহ বছরে ৪ থেকে ৫ হাজার অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান থাকে। এর মধ্যে হাজারখানেক অভিযোগের অনুসন্ধান সম্পন্ন হয়। কোনো কোনো অভিযোগ নির্ধারিত সময় বা তার কাছাকাছি সময়ে সম্পন্ন করা গেলেও বেশির ভাগ অভিযোগের অনুসন্ধান কাজ এক বছর থেকে কয়েক বছর লেগে যায়।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, একটি অনুসন্ধান সম্পন্ন করতে দেশের ৫৯টি তফসিলি ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), রাজউক, বিআরটিএ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, নির্বাচন কমিশনের এনআইডি শাখা, ভূমি অফিস, পাসপোর্ট অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন, রিহ্যাব, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর, শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ৮০টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আলাদাভাবে নোটিস পাঠাতে হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়ার পর আবার নতুন তথ্যের প্রয়োজন দেখা দিলে নতুন করে অন্য প্রতিষ্ঠানে নোটিস দিতে হয়। এভাবেই মাসের পর মাস, কখনো বছরের পর বছর অনুসন্ধান চলতে থাকে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘বিচার মেলেনি ৫০ বছরেও’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার নথি এখনো সচল আছে, কিন্তু বাদী ও গুরুত্বপূর্ণ অনেক সাক্ষী বেঁচে নেই। একসময়ের বহুল আলোচিত বিটিভির চার কর্মকর্তা হত্যা মামলাটি ৫০ বছর পেরিয়ে এখন বহুমুখী সংকটে পড়েছে। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে কয়েকজন আসামি, বাদী ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে জামিনে থাকা চার আসামি এখনো পলাতক। ফলে বিচারকাজ বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তবুও মামলাটি আদালতে সচল থাকায় সম্প্রতি সাক্ষীদের আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার বাদী মনোয়ারা আকমল খান ২০০৪ সালের আগেই মারা গেছেন। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন সাক্ষীকে তাদের ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে। সময়ের দীর্ঘ ব্যবধান, আইনি জটিলতা ও সাক্ষীসংকটের কারণে মামলার বিচার শেষ হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ১৯৭৫ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আন্দোলন চলছিল। দাবি-দাওয়া পূরণ না হওয়ায় আন্দোলনকারীরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। একই বছরের ৬ নভেম্বর রাতে আন্দোলনকারীরা কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আটকে রেখে দাবি আদায়ের সিদ্ধান্ত নেন। পরদিন ৭ নভেম্বর সকালে বিটিভির ডিরেক্টর অব প্রোগ্রাম মনিরুল আলম, চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার আকমল হোসেন এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ এফ এম সিদ্দিক অফিসে এলে তাদের টেলিভিশন ভবনের ভিতরে নিচতলার ১০১ নম্বর কক্ষে আটকে রাখা হয়। একই দিন বিকালে ক্যামেরাম্যান চৌধুরী মো. ফিরোজ কাইয়ুমকেও সেখানে আটক করা হয়। পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু ওই রাতেই চার কর্মকর্তাকে একটি গাড়িতে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পরে তাদের হত্যা করে বিটিভি ভবনের পেছনের খালে, বর্তমান হাতিরঝিল এলাকায় লাশ ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার পর তাদের খোঁজ না পেয়ে ১৯ নভেম্বর গুলশান থানায় অপহরণ মামলা করেন স্বজনরা। পরে ১৯৭৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি খালের পানি শুকিয়ে গেলে চারটি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরনের পোশাক ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে কঙ্কালগুলোর পরিচয় শনাক্ত হয়।

তদন্ত শেষে ১৯৭৮ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন গোয়েন্দা পুলিশ ‘ঘটনার কোনো রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি’ উল্লেখ করে আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করলে মামলার কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে নিহত আকমল হোসেনের স্ত্রী মনোয়ারা আকমল খানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালের ২০ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মামলাটি পুনঃতদন্ত শুরু হয়। একই বছরের ২৫ মার্চ আদালত মামলা পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। পুনঃতদন্ত শেষে সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার ফজলুল করিম খান ১৯৯৯ সালের ১৮ আগস্ট নয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

২০০২ সালে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। এর মধ্যে আসামি আইনুজ্জামান মারা যাওয়ায় ২০০৩ সালে তৎকালীন বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। আসামিরা হলেন, মো. শাজাহান সিরাজী, আবুল কাশেম বানেজা, লুৎফর রহমান তালুকদার, আলতাফ হোসেন, আবদুল আউয়াল সরকার, এ কে এম জাকারিয়া হায়দার, আবুল কাশেম ও সৈয়দ আইনুল কবির। তবে ২০০৪ সালে আসামি আলতাফ হোসেন হাই কোর্টে মামলা বাতিলের আবেদন করলে ২০০৫ সালে বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর হাই কোর্ট রুল খারিজ করে দিলে মামলার বিচার আবার শুরু হয়। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মো. আলমগীর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের দ্রুত আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৯ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, নয় আসামির মধ্যে চার আসামির মৃত্যুর তথ্য মামলার নথিতে রয়েছে। বর্তমানে চার আসামি জামিনে থেকে পলাতক। মাত্র একজন আসামি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন। আশা করি খুব দ্রুত এ মামলা নিষ্পত্তি হবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন