হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সন্ধ্যায় শহরের থানা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। হামলায় এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে বহরে থাকা কয়েকটি গাড়ি। এনসিপি নেতারা জানিয়েছেন, টাউন হলে নির্ধারিত সভা শেষে নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অতর্কিতে হামলা করেন। হামলা থেকে বাঁচতে নেতাকর্মীরা পাশে থাকা সোনালী ব্যাংক ও সার্কিট হাউজে অবস্থান নেন। ঘটনার পর তাৎক্ষণিক স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে হবিগঞ্জে পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা। বিকালে জেলা শহরের টাউন হলে পথ সভায় বক্তব্য রাখেন তারা। বক্তব্যে সরকার ও বিএনপি’র কড়া সমালোচনা করেন নেতারা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিএনপি নেতাদের নিয়ে উত্তেজনাকর বক্তব্য দেয়ায় ক্ষুব্ধ বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালান। ঘটনার ভিডিও ফুটেছে জেলা ছাত্রদল লেখা টি-শার্ট গায়ে একজনকে হামলায় অংশ নিতে দেখা যায়। টাউন হলের সভা শেষে ফেরার পথে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও সদর থানার সামনে হামলা ও ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতদের সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে আবারো হামলা হয় বলে স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে অভিযোগ করেন সারজিস আলম। তিনি আহত একজনকে দেখিয়ে বলেন, হামলাকারীরা রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে। হামলা ও ধাওয়ার ঘটনার পর এনসিপি নেতাকর্মীরা সার্কিট হাউজে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তাদের নিরাপত্তায় পুলিশ সার্কিট হাউজের সামনে অবস্থান নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
ঘটনার বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদ রিংগন বলেন, একটি রাজনৈতিক সংগঠন উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করেছে। উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সাধারণ ছাত্র-জনতাই প্রতিবাদ জানিয়েছে। এর দায়ভার তাদেরই নিতে হবে। এর দায়ভার ছাত্রদলের নয়।
ওদিকে ঘটনার পর এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে জানান, হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়ি বহরে অতর্কিত ও সশস্ত্র হামলা করেছে স্থানীয় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। এতে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও এনসিপি নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন। দুর্ভাগ্যবশত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে এই হামলা হয়েছে।
তিনি লেখেন, এনসিপি’র মিডিয়া টিমের মাইক্রোবাসটিকে হবিগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউজের ভেতরে নিয়ে হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতর নিয়ে এমন ন্যক্কারজনক কাণ্ড ঘটিয়েছে তারা। কেবল মাইক্রোবাস ভেঙেই তারা ক্ষান্ত হয়নি; মোবাইল ফোন এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
এমন ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অতিদ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ঘটনার প্রতিবাদে রাতে ঢাকায় প্রতিবাদ বিক্ষোভের ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় এনসিপি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে বিএনপি প্রতারণা করেছে: পাটওয়ারী
ওদিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে বিএনপি প্রতারণা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, বিএনপি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেনি, ভারতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে তাই সীমান্তে হত্যা নিয়ে কথা বলে নাই। তিনি অভিযোগ করেন- সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে তারা শুধু ছাত্রদল যুবদলের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। এজন্য আগামী স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপিকে লাল কার্ড দেখাতে হবে। এনসিপি উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, যে রাজনৈতিক দল নিজেদের ১৫৮ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করতে পারে, তাদের হাতে কোনো অবস্থাতেই দেশ ও জনগণ নিরাপদ থাকতে পারে না।’ মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে আয়োজিত ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচিতে তারা এসব কথা বলেন।
সমাবেশে বক্তব্যে বিএনপি’র কড়া সমালোচনা করে পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, গত দুই বছরে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় ২১৩ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষেই ১২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বক্তব্যে তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কিছু সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিরপেক্ষ ভূমিকা না রেখে দলীয় পক্ষপাতিত্ব করছেন। কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ না করে জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা উচিত। রাজনৈতিক সহনশীলতার ওপর জোর দিয়ে সারজিস আলম বলেন, রাজনৈতিক মতভেদের কারণে কোনো ব্যক্তি বা দলের সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেয়া উচিত নয়। দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক জবাবদিহিতা ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
