চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও মুনাফার শক্তিশালী ধারা বজায় রেখেছে দেশের মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা পিএলসি। এপ্রিল-জুন সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা (পিএটি) হয়েছে ২৬২ দশমিক ৯ কোটি টাকা। এ সময়ে পিএটি মার্জিন ছিল ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। সোমবার প্রকাশিত কোম্পানির দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এপ্রিল থেকে জুন সময়ে রবির মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭১১ দশমিক ৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৫০ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে রবির মূলধনী বিনিয়োগ হয়েছে ৭২১ দশমিক ৬ কোটি টাকা।
একই সময়ে সরকারকে কর, ভ্যাট ও অন্যান্য খাতে ২ হাজার দশমিক ৩ কোটি টাকা জমা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যা ওই প্রান্তিকের মোট রাজস্বের ৭৩ দশমিক ৮ শতাংশের সমান। গ্রাহকসংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১২ লাখ নতুন গ্রাহক যুক্ত হওয়ায় রবির সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৮৬ লাখে। এর মধ্যে ডেটা গ্রাহক ৪ কোটি ৬২ লাখ এবং ফোরজি গ্রাহক ৪ কোটি ২১ লাখ। একই সময়ে নেটওয়ার্কে ১৭ লাখ নতুন ইন্টারনেট গ্রাহক ও ১৮ লাখ নতুন ফোরজি গ্রাহক যুক্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে রবির সুদ, কর, অবচয় ও অ্যামর্টাইজেশন-পূর্ব আয় (ইবিআইটিডিএ) দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৯২ দশমিক ৫ কোটি টাকা, যার মার্জিন ৫৫ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইবিআইটিডিএ বেড়েছে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মার্জিন বেড়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। বর্তমানে রবির ফোরজি সাইটের সংখ্যা ১৯ হাজার ৬০০ ছাড়িয়েছে।
এর মাধ্যমে দেশের ৯৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ মানুষ ফোরজি নেটওয়ার্ক কভারেজের আওতায় এসেছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে রবির মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৪২ দশমিক ৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ডেটা রাজস্ব বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ভয়েস রাজস্ব বেড়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। জানুয়ারি-জুন সময়ে কোম্পানিটির ইবিআইটিডিএ হয়েছে ২ হাজার ৮৪২ দশমিক ৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। প্রথমার্ধে কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪৯৫ দশমিক ৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ০.৯৫ টাকা এবং মূলধনী বিনিয়োগ হয়েছে ১ হাজার ৭১ দশমিক ১ কোটি টাকা। প্রথম ছয় মাসে সরকারকে ৩ হাজার ৬৬৬ দশমিক ৬ কোটি টাকা জমা দিয়েছে রবি, যা মোট রাজস্বের ৬৯ দশমিক ৯ শতাংশের সমান। রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা বলেন, অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসার ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের তুলনায় রাজস্ব ও মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন ডেটা ও ফোরজি গ্রাহক যুক্ত হওয়া এবং ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেটা রাজস্ব বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে রবির সক্রিয় গ্রাহকদের ৭২ শতাংশই ফোরজি ব্যবহারকারী এবং কোম্পানির মোট রাজস্বে ডেটা থেকে আসা আয়ের অংশ প্রায় ভয়েস রাজস্বের সমপর্যায়ে পৌঁছেছে। এটি ডিজিটাল যুগে গ্রাহকদের কাছে রবির গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন। জাতীয় বাজেটে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান জিয়াদ সাতারা।
তিনি বলেন, ২০৩১ সালের মধ্যে জিডিপিতে তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করার সরকারি লক্ষ্য অর্জনে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ প্রয়োজন। পাশাপাশি সিম কর ও সিম রিপ্লেসমেন্ট কর প্রত্যাহার এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে সরকারি প্রণোদনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান তিনি। প্রয়োজনে এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত করে প্রিন্ট সংস্করণের ৪০০৫০০ শব্দের রিপোর্ট অথবা অনলাইন এসইও-উপযোগী নিউজ হিসেবেও সাজিয়ে দিতে পারি।
