শিল্পে গ্যাস–সংযোগ আপাতত বন্ধ

সহযোগীদের খবর

শিল্পে গ্যাস–সংযোগ আপাতত বন্ধ

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘শিল্পে গ্যাস–সংযোগ আপাতত বন্ধ’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে প্রতিবছর গ্যাসের গড় উৎপাদন দিনে কমছে ১৫ কোটি ঘনফুটের বেশি। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করেও ঘাটতি পূরণ হচ্ছে না। কোনো কারণে আমদানি ব্যাহত হলেই গ্যাসের সংকট বেড়ে যাচ্ছে। গ্যাসের অভাবে নিয়মিত ভুগছে বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদন। এর মধ্যেই বাড়ছে গ্যাসের চাহিদা। তাই শিল্পে নতুন সংযোগ আপাতত দেবে না সরকার।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যানকে ১৪ জুলাই একটি চিঠি পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমছে। অন্যদিকে দুটি এফএসআরইউভিত্তিক এলএনজি আমদানি সীমাবদ্ধ থাকায় এ মুহূর্তে শিল্পে নতুন করে গ্যাস-সংযোগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে না।

এফএসআরইউ হলো ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট। আমদানি করা এলএনজি মজুত করে রূপান্তরের মাধ্যমে গ্যাসের পাইপলাইনে সরবরাহ করে এটি। কক্সবাজারের মহেশখালীতে সমুদ্রে ভাসমান এমন দুটি টার্মিনাল আছে। এ দুটি মিলে গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা ১১০ কোটি ঘনফুট। সর্বোচ্চ সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় এখন সরবরাহ হচ্ছে ৫০ কোটি ঘনফুটের কম। এতে এক সপ্তাহ ধরে দেশের সব খাতেই গ্যাসের সংকট বেড়ে গেছে।

তবে শিল্পকারখানায় গ্যাস-সংযোগ না দেওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। গ্যাস–সংকটের কারণে ২০০৯ সালের ২১ জুলাই থেকে শিল্প ও বাণিজ্যিক এবং ২০১০ সালের ১৩ জুলাই থেকে আবাসিক গ্রাহকদের নতুন সংযোগ দেওয়া বন্ধ করা হয়। এরপর গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে জরুরি ভিত্তিতে সংযোগ দেওয়া ও বরাদ্দ (লোড) বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটি কিছু কারখানায় গ্যাস-সংযোগ দেয়। তবে কমিটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। পরবর্তী সময়ে ওই কমিটি বাতিল করে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কিছু গ্যাস-সংযোগ দেয় তৎকালীন সরকার।

এদিকে অনুমোদিত গ্যাস–সংযোগের আবেদন থেকে অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করতে একটি কমিটি গঠন করে গত অন্তর্বর্তী সরকার। ওই কমিটির মাধ্যমে সুপারিশ করা তালিকা থেকে তিতাস গ্যাসের ২৫টি সংযোগ অনুমোদন করে জ্বালানি বিভাগ। এরপর ওই কমিটিও বাতিল করা হয়। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৭ মে সচিবালয়ে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে এক বৈঠক হয়। সেখানে শিল্পে গ্যাসের সংযোগের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র বলছে, প্রতি সপ্তাহে বা প্রতিদিন কমছে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন। নতুন কূপ খনন করেও উৎপাদন ধরে রাখা যাচ্ছে না। এক দশকের ব্যবধানে দেশে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন কমেছে ১০০ কোটি ঘনফুটের বেশি। ২০১৭ সালে দিনে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা হয়েছে। এর পর থেকেই এটি কমতে শুরু করে। ২০১৮ সাল থেকে শুরু হয় এলএনজি আমদানি। এখন আমদানি ও দেশীয় উৎপাদন মিলে দিনে সর্বোচ্চ ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা যায়। অবকাঠামো না থাকায় আমদানি বাড়ানোর সুযোগ নেই। চাইলেও সরবরাহ বাড়ানো যাবে না। তাই বিকল্প উপায় খুঁজছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ‍্য ইসলাম অমিত প্রথম আলোকে বলেন, শিল্পে সংযোগ না দেওয়ার বিষয়টি সাময়িক। দ্রুত গ‍্যাসের সরবরাহ বাড়াতে একাধিক বিকল্প নিয়ে কাজ করছে সরকার। ভোলার গ‍্যাস ঢাকায় আনার একাধিক প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে। মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট‍্যাংকের (এলএনজি পরিবহনের বিশেষ কনটেইনার) মাধ্যমে এলএনজি আনার আলোচনা চলছে। গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির পর অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করে সংযোগ দেওয়া হবে। যাঁরা অনুমোদন নিয়ে ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দিয়েছেন, তাঁরা অবশ্যই আগে বিবেচনায় থাকবেন।

সরবরাহ বাড়তে লম্বা সময়

জ্বালানি বিভাগের দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গ্যাসের অভাবে অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র বসে থাকে। সার কারখানা বছরের অধিকাংশ সময় উৎপাদন বন্ধ রাখে। এর মধ্যে নতুন করে সংযোগ দিলেও গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা নেই। এক জায়গায় গ্যাস দিলে আরেক জায়গায় বন্ধ করে দিতে হবে। এটি তো সমাধান নয়। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। তবে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে অন্তত এক বছর লাগতে পারে। এরপর শিল্পে সংযোগ দিতে চায় সরকার।

জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এক বছরে সরবরাহ বাড়ানো যাবে না। দেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলেও উৎপাদনে কয়েক বছর লাগতে পারে। আর আমদানি বাড়াতে অবকাঠামো তৈরি করতে অন্তত দেড় বছর লাগতে পারে।

মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আনা নিয়ে গতকালই দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, আইএসও ট্যাংকের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করতে এক বছর লাগবে। এরপর ওরা দিনে সরবরাহ করতে পারবে মাত্র ১ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট। যা দিয়ে একটি বড় শিল্পকারখানার চাহিদাও মেটানো যাবে না। খুবই ছোট পরিসরের সরবরাহ পদ্ধতি এটি। এতে এলএনজির খরচও বেশি পড়বে। তাই এটি কার্যকর করা কঠিন। টার্মিনাল নির্মাণ করেই আমদানি বাড়াতে হবে।

বিদ্যমান দুটির পাশাপাশি আরও দুটি ভাসমান এবং স্থলভাগে একটি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। একটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণে চুক্তি হয় সামিটের সঙ্গে এবং আরেকটির জন্য টার্ম শিট সই করা হয় মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের সঙ্গে। অন্তর্বর্তী সরকার এসে সামিটের চুক্তিটি বাতিল করে দেয়। এক্সিলারেটের সঙ্গে চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে গত দেড় বছরে নতুন কোনো টার্মিনাল যুক্ত হয়নি।

তবে শুধু টার্মিনাল নির্মাণ করলেও আমদানি থেকে সরবরাহ বাড়ানো যাবে না। গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি জিটিসিএল বলছে, মহেশখালী থেকে এলএনজি আনার জন্য দুটি সমান্তরাল পাইপলাইন আছে। পাইপলাইন দুটি এসেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায়। এ দুটি পাইপলাইন দিয়ে ১৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। কিন্তু আনোয়ারা স্টেশন থেকে পরবর্তী পাইপলাইন দুটি সরু, অর্থাৎ ব্যাস কম। এ দুটিতে ১১০ কোটি ঘনফুটের বেশি সরবরাহ করা যাবে না। আর গ্যাসের ব্যবহার মূলত আনোয়ারার পর থেকেই শুরু হয়। তাই সরবরাহ বাড়াতে নতুন পাইপলাইন নির্মাণ করতে হবে।

দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধির বিকল্প নেই

পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, দেশে গ্যাসের ১১ শতাংশ ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালি রান্নার কাজে। সবচেয়ে বেশি—৪১ শতাংশ ব্যবহৃত হয় বিদ্যুৎ খাতে। শিল্পে যায় ৩৬ শতাংশ। সারে ৬ শতাংশ, সিএনজি খাতে ৫ শতাংশ ও চা খাতে ১ শতাংশ গ্যাস ব্যবহৃত হয়। চাহিদা বুঝে বিদ্যুৎ থেকে কমিয়ে সারে, সার থেকে কমিয়ে বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ বাড়ানো হয়। আবার সিএনজি স্টেশন বন্ধ করে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই টানাটানি করে চলছে দেশের গ্যাস খাত। পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, প্রতিশ্রুত সংযোগগুলো দেওয়া হলে আরও ৩৫ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাসের প্রয়োজন হবে। এটি আপাতত সংস্থানের কোনো উপায় নেই।

জ্বালানিবিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুসন্ধানের তুলনায় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে সফলতার হার বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি বাংলাদেশে। তবু যথাযথ অনুসন্ধান করা হয়নি। সমুদ্রসীমা বিজয়ের ১৪ বছর পরও বঙ্গোপসাগরে তেল–গ্যাস আবিষ্কার কার যায়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চারটি কোম্পানি কাজ শুরু করলেও শেষ না করে চলে গেছে। স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানও জোর ছিল না। এরপর গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সমুদ্রে তেল–গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রে কোনো কোম্পানি অংশ নেয়নি। দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদনে জোর দিলেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান মিলতে পারে। আমদানিনির্ভরতায় ঝুঁকি থাকবেই। জ্বালানির অভাবে অর্থনীতি এগোচ্ছে না, আর অর্থনীতি এগোচ্ছে না বলে জ্বালানি আমদানির ডলার জমা হচ্ছে না। একটি দুষ্টচক্রের মধ্যে পড়ে গেছে দেশ।

জ্বালানি বিভাগ বলছে, দীর্ঘদিনের জমানো সংকট রাতারাতি বদলানো যাবে না। সরকার একাধিক উপায়ে এটি সমাধানের চেষ্টা করছে। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রে তেল–গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। স্থলভাগেও গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম চলমান আছে। তবে জ্বালানি অনুসন্ধান, কূপ খনন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। নতুন করে একটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণের দরপত্র আহ্বানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি আমদানির উৎস ও সরবরাহ অবকাঠামো বহুমুখী করা নিয়ে কাজ করছে সরকার।

জ্বালানিবিশেষজ্ঞ ম তামিম প্রথম আলোকে বলেন, সরবরাহ বাড়িয়ে নতুন সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঠিক আছে। কিন্তু যারা অনুমোদনের পর ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দিয়ে ও ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করেছে, তাদের সংযোগ না দিলে তারা দেউলিয়া হয়ে যাবে। দ্রুততম সময়ে সরবরাহ বাড়িয়ে হলেও সংযোগ দিতে হবে। স্বল্প মেয়াদে সরবরাহ বাড়াতে আমদানির কোনো বিকল্প নেই। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এলএনজি টার্মিনালের চুক্তি বাতিল করা ঠিক হয়নি। এখন দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি বাড়ানোর অবকাঠামো বানাতে হবে। আপাতত কোনো মুক্তি নেই।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘টাকায় মেলে বিচারকের স্বাক্ষর’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার আদালতপাড়ায় টাকা ফেললেই মেলে বিচারকের স্বাক্ষর। বিচারকের সিল, স্বাক্ষর আর আদালতের নথি এখন যেন হাতের খেলনা। টাকা দিলেই তৈরি হচ্ছে আদালতের আদলে নথি। গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট), সমন, নোটারি হলফনামা, কাবিননামা, এমনকি মামলার সার্টিফায়েড কপি বা নকলের কপিতেও বসানো হচ্ছে বিচারকের জাল স্বাক্ষর ও সিল। এসব নথি ব্যবহার করে চলছে প্রতারণা, হয়রানি এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করার কারসাজি।

ঢাকার অধস্তন আদালতকেন্দ্রিক এমন একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে যুগান্তর। আদালতের নথি, এজাহার, তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আদালত প্রাঙ্গণের কিছু ফটোকপির দোকান, দালাল, অসাধু আইনজীবী এবং কিছু অসৎ কর্মচারীর যোগসাজশে তৈরি হয়েছে এই নেটওয়ার্ক।

জাল হচ্ছে যেসব নথি: অনুসন্ধানে জানা যায়, চক্রটি বিচারকের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত গ্রেফতারি পরোয়ানা, ভুয়া সমন, মামলার সার্টিফায়েড কপি (নকল), নোটারি হলফনামা, কাবিননামা, জন্ম ও মৃত্যু সনদ, বিভিন্ন আইনি নোটিশ এবং হুবহু জাল মামলার কপি তৈরি করে লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করছে। সূত্র জানায়, এসব নথি কখনো মানুষকে ভয় দেখাতে, কখনো মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আদায়ে আবার কখনো প্রতিপক্ষকে হয়রানির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে ‘কোর্ট ম্যারেজ’ : ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১১ নম্বর আদালতের বিচারক আরিফুল ইসলামের সিল ও স্বাক্ষর জাল করার একটি ঘটনা সম্প্রতি সামনে আসে। আদালতের নথি অনুযায়ী, বরগুনার বামনা উপজেলার একটি সিআর মামলায় একটি নোটারি হলফনামা দাখিল করা হয়। ওই হলফনামায় উল্লিখিত আদালতের বিচারকের কাউন্টার সই ও সিল ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে সিএমএম আদালতের নেজারত শাখার হলফনামা রেজিস্টার যাচাই করা হয়। সেখানে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট স্মারক নম্বরে অন্য একজনের হলফনামা নিবন্ধিত রয়েছে। পরে তদন্তে বিচারকের সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ওই নথি তৈরি করার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় মামলা হয়েছে।

স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া সমন তৈরি: ঢাকার আদালতে বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া সমন তৈরির আরেকটি ঘটনা ধরা পড়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর চার বাসিন্দার ক্ষেত্রে। তাদের কাছে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নামে একটি সমন পাঠানো হয়। সেখানে শাহবাগ থানার একটি মামলার কথা উল্লেখ করে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীরা আদালতে আবেদন করলে নথি যাচাই করে দেখা যায়, ওই মামলায় তাদের নামই নেই। এমনকি প্রসিকিউশন বিভাগের রিসিভ ও ডেসপাস শাখায়ও ওই সমনের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। পরে আদালতের পক্ষ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, বিচারকের সিল ও স্বাক্ষর জাল করে সমনটি তৈরি করা হয়েছে।

ভাড়ায় মেলে আসামি: আদালতকেন্দ্রিক জালিয়াতির আরেক চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে উত্তরা পূর্ব থানার একটি প্রতারণা মামলায়। মামলার এজাহারভুক্ত এক নারী আসামির পরিবর্তে অন্য এক নারী আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যান। জামিন শুনানির সময় বাদীপক্ষের আপত্তির পর বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। পরে আদালতের নির্দেশে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, আত্মসমর্পণকারী নারীর পরিচয় ভিন্ন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তিনি প্রকৃত আসামির আত্মীয় এবং টাকার বিনিময়ে প্রকৃত আসামির পরিবর্তে আদালতে হাজির হয়েছিলেন। তদন্তে জালিয়াতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

কালের কণ্ঠ

‘এক ছাতার নিচে সব ভর্তি আনার উদ্যোগ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক ছাতার নিচে সব ভর্তি আনতে চায়।

একই সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের যাতে এক দিনও নষ্ট না হয়, সে জন্য ভর্তি প্রক্রিয়াকে একটি ক্যালেন্ডারের মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো গুচ্ছে আসার ব্যাপারে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনীহা রয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বারবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। এমনকি গুচ্ছে থাকা পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বেরিয়ে গেছে।

আর আগে থেকে ১৯৭৩ সালের আইনে পরিচালিত চার বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষ আইনে পরিচালিত এক বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে যুক্তই হয়নি। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে বসেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৈঠকে ইউজিসি চেয়ারম্যানসহ সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, ১৯৭৩ সালের আইনে পরিচালিত যেসব বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে আসতে অনীহা দেখাবে, তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্তশাসিত হলেও তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম-কানুন মেনে চলে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মানে সরকারের নির্দেশনা। এখন শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে যদি ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রাজি না হয়, তাহলে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর বড় পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভর্তিতে এলে বেরিয়ে যাওয়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও চলে আসবে।

বৈঠকে আরো আলোচনা হয়, এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের কয়েক মাস পর ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়। একেক বিশ্ববিদ্যালয় একেক সময়ে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেয়। এতে অক্টোবর-নভেম্বর থেকে পরের বছরের মার্চ পর্যন্ত ভর্তি প্রক্রিয়া চলে। ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের যাতে এক দিনও বসে থাকতে না হয়, এ জন্য একটি ভর্তি ক্যালেন্ডার তৈরি করতে ইউজিসিকে অনুরোধ করেন শিক্ষামন্ত্রী। যাতে সব উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে, সে ব্যাপারে ইউজিসিকে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়।

তবে গত রাতে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সূত্র জানায়, গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছের নাম দেওয়া হয়েছে জিএসটি (জেনারেল, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি)। এ ছাড়াও প্রকৌশল গুচ্ছে এবং কৃষি গুচ্ছের বিশ্ববিদ্যালয়ও আলাদা ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশে পরিচালিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শুরু থেকেই গুচ্ছ ভর্তিতে আসেনি। এই তালিকায় আরো আছে বিশেষায়িত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), যারাও গুচ্ছে আসেনি।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় মার্কিন প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ’। খবরে বলা হয়, ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় যুক্ত হতে চায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। চলতি সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ একজন কর্মকর্তার বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। ঢাকায় একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এরই মধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সিকিউরিপোর্ট নামে প্রতিষ্ঠানটি এ ব্যাপারে আলোচনা শুরু করে। ওই সময় একটি ধারণাপত্রও উপস্থাপন করে তারা।

বর্তমান সরকার আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু করতে চায়। প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি। তবে জাপানের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক গতকাল সোমবার রাতে সমকালকে বলেন, 'ডিসেম্বরের মধ্যে থার্ড (তৃতীয়) টার্মিনাল চালু করার ব্যাপারে আমাদের চেষ্টা রয়েছে।'

সিকিউরিপোর্টের আগ্রহের ব্যাপারে মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, 'বিষয়টির ব্যাপারে আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে হয়তো জানাতে পারব।'

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সিকিউরিপোর্টের শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যান্ডরিক সিকিউরার এ সপ্তাহে ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।

সিকিউরিপোর্ট মূলত সফটওয়‍্যারসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে। সিকিউরিপোর্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত সিকিউরিপোর্টের সদরদপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রযুক্তি ও সেবা প্রদান করে তারা।

প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বলা হয়, তাদের লক্ষ্য হলো স্মার্ট সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী প্রযুক্তিগত সমাধান দিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশকে সক্ষম করে তোলা। অবৈধ অভিবাসন, মানব পাচার, মাদক পাচার এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতেও তারা কাজ করে।

ইত্তেফাক

‘জ্বালানি নিয়ে শিল্প খাতের সংকট আরো গভীর হচ্ছে’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের স্থবির শিল্প খাত এখন গভীর জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি। গ্যাসনির্ভর অসংখ্য কারখানায় উত্পাদন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে, অনেক কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, আবার অনেক প্রতিষ্ঠান দিনে কয়েক ঘণ্টার বেশি উত্পাদন চালাতে পারছে না। শিল্পমালিকেরা আশঙ্কা করছেন, এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রয়াদেশের পণ্য সরবরাহ করতে না পারার ঝুঁকিও আছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে শুধু উত্পাদনই নয়, রপ্তানি, কর্মসংস্থান, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, এমনকি সামগ্রিক অর্থনীতিও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে। দেশে প্রতিদিন গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট। অথচ বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২২০ কোটি থেকে ২৩০ কোটি ঘনফুট। অর্থাত্ দৈনিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮০ কোটি ঘনফুট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস কম সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে। এর ফলে শিল্প, বিদ্যুত্, আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি সব খাতেই গ্যাসের চাপ কমে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলো।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর, কোনাবাড়ী, টঙ্গী, শ্রীপুর, মৌচাক, চন্দ্রা ও বোর্ডবাজার এলাকায় অনেক কারখানায় উত্পাদন ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। কোথাও কোথাও গ্যাসের চাপ একেবারে শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছে। অনেক কারখানায় স্বাভাবিকভাবে ১০ থেকে ১৫ পিএসআই চাপের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মিলছে মাত্র ১ থেকে ৩ পিএসআই। ফলে বয়লার, জেনারেটর ও উত্পাদন যন্ত্রপাতি চালানোই সম্ভব হচ্ছে না। উদ্যোক্তারা বলছেন, উত্পাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পাঠানো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, স্টিল, সিরামিক, কাগজ, স্পিনিং, পার্টিক্যাল বোর্ড, প্লাস্টিক ডাইংসহ অধিকাংশ রপ্তানিমুখী শিল্প গ্যাসনির্ভর। এসব শিল্পে নিরবিচ্ছিন্ন জ্বালানি অপরিহার্য উদ্যোক্তারা বলছেন, সময়মতো উত্পাদন শেষ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পাঠানো সম্ভব হবে না। বিকল্প হিসেবে অনেক প্রতিষ্ঠান ডিজেল বা এলপিজি ব্যবহার করছে। এতে উত্পাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে দুর্বল করছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) তথ্যানুযায়ী জ্বালানিসংকটের কারণে অধিকাংশ শিল্পকারখানা তাদের স্থাপিত সক্ষমতার মাত্র ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। তিতাসের হিসাব অনুযায়ী, তাদের আওতায় শিল্পকারখানার গ্রাহক সাড়ে ৪ হাজারের বেশি। এর মধ্যে আশুলিয়ায় গ্যাসের চাপ নেমে এসেছে ৩০ পিএসআইতে। অথচ থাকার কথা ৭০ পিএসআই। আমিনবাজার এলাকা দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করার কথা দৈনিক ৮০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। সেখানে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪০ এমএমসিএফডি। এভাবে নরসিংদী, মাধবদী, রাজেন্দ্রপুর, কোনাবাড়ী, চন্দ্রা, সাভার-আশুলিয়া, হোতাপাড়া, নেত্রকোনা, জামালপুর, ভুলতাসহ বিভিন্ন এলাকার দুই থেকে আড়াই হাজার শিল্পকারখানা গ্যাসের অভাবে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত।

বাংলাদেশ ইস্পাত শিল্প খাতের শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে অনেক স্টিল মিল কার্যত উত্পাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। সিরামিক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। গ্যাসের সংকট দীর্ঘ হলে বিনিয়োগ, উত্পাদন ও রপ্তানি সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব আরো বাড়বে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা’। খবরে বলা হয়, রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত ঘটনাকে ‘জেনোসাইড’ (গণহত্যা) ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জন ‘হেভিওয়েট’ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন এবং কারাবন্দী ১০ আসামিকে আগামী ১৬ আগস্ট আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।

গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো: মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এর আগে বেলা পৌনে ১১টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে মামলার ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এতে উপস্থিত ছিলেন- প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মঈনুল করিম, তারেক আবদুল্লাহ, মার্জিনা রায়হান ও ফারুক আহাম্মদ। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

ফরমাল চার্জ দাখিলের পর দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বভার নেয়ার পর আমি শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখেছি। কোনো রাজনৈতিক বা আদর্শিক ভিন্নতার কারণে শিশুসহ আলেমদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করার ঘটনা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এটি একটি পরিকল্পিত ‘জেনোসাইড’ বা গণহত্যা ছিল।

চিফ প্রসিকিউটর আরো জানান, তৎকালীন সরকার কিছু ব্লগার বা নাস্তিকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা ইসলামিক শ্রেণীকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব এবং তৎকালীন সরকারি দল আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ মিলে এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও তৎকালীন সরকার কোনো তদন্তকাজ করতে দেয়নি। বহু চেষ্টা করেও হেফাজতে ইসলাম বিচার পায়নি।

প্রসিকিউশনের তদন্তে পাওয়া তথ্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা মোট ৬১ জন শহীদের তালিকা পেয়েছিলাম। এর মধ্যে তদন্ত সংস্থা ৫৮ জনের নাম-ঠিকানা শনাক্ত করেছে। চার স্থানে নিহত ৫৮ জনের মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে পাঁচ এবং কুমিল্লায় একজন। সোমবার মূলত দু’টি নির্দিষ্ট ঘটনামূলের ওপর চার্জ দাখিল করা হয়েছে, একটি ৫ মে মধ্যরাতে শাপলা চত্বরে ৩২ জন এবং অন্যটি ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জন হত্যার ঘটনা। এই দু’টি অভিযোগে সরাসরি সম্পৃক্ত ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে আমরা চার্জ এনেছি।

বণিক বার্তা

‘নির্মাণ ব্যয়ে বিশ্বে অন্যতম শীর্ষে, অবকাঠামোগত সুবিধায় পিছিয়ে’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, চলতি বছর পুরোদমে চালু হয়েছে চীনের সিচুয়ান প্রদেশে নির্মিত ইবিন-পানঝিহুয়া এক্সপ্রেসওয়ে। ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ এক্সপ্রেসওয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই এলিভেটেড (উড়ালপথ)।

দুর্গম এলাকা হওয়ায় এক্সপ্রেসওয়েটির জন্য বিপুলসংখ্যক ছোট-বড় সেতু এবং পাহাড় কেটে টানেল বানাতে হয়েছে। দুর্গম পাহাড় আর উপত্যকাঘেরা এলাকার পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ঝুঁকি এক্সপ্রেসওয়েটিকে চীনের ব্যয়বহুল মহাসড়কে পরিণত করেছে। এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় হয়েছে ২০০ মিলিয়ন ইউয়ান, বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যা ৩৬৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ।

বাংলাদেশী মুদ্রায় কিলোমিটারপ্রতি ৬৩০ কোটি টাকা খরচ করে দামনসারা-শাহ আলম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (ড্যাশ) নির্মাণ করেছে মালয়েশিয়া। এ উড়ালসড়ক আধুনিক অবকাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের জন্য বিশেষভাবে আলোচিত। যানবাহন চলাচল ও নিয়ন্ত্রণের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ছাড়াও এতে সৌরবিদ্যুৎ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নয়েজ ব্যারিয়ারের মতো সুবিধা গড়ে তোলা হয়েছে। মাল্টি-লেন ফ্রি ফ্লো (এমএলএফএফ) টোল ব্যবস্থার সঙ্গে ১৩টি ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ করা হয়েছে এ এক্সপ্রেসওয়েতে।

ভারতের প্রথম আট লেনের এলিভেটেড মহাসড়ক দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ে। কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) অব ইন্ডিয়ার হিসাব অনুযায়ী, এক্সপ্রেসওয়েটির প্রতি কিলোমিটারের নির্মাণ ব্যয় ২৫০ কোটি রুপি, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৩২০ কোটি টাকা। প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য বিমানবন্দরের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ। এ সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্মিত হয়েছে ৩ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আট লেনের সুড়ঙ্গ, যা ভারতের অন্যতম প্রশস্ত নগর (আরবান) টানেল হিসেবে বিবেচিত।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করছে বাংলাদেশও। দেশের প্রথম ‘ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ নির্মাণ করা হচ্ছে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে। অন্যদিকে বিদেশী ঋণে নির্মিত হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ‘ঢাকা-আশুলিয়া’। ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ উড়ালসড়কের নির্মাণ ব্যয় ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। এ হিসাবে প্রতি কিলোমিটার নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ ব্যয়ের দিক দিয়ে এটি বিশ্বে অন্যতম শীর্ষে। এ প্রকল্পের ডিপিপি পাস হয় ২০১৭ সালে। ঠিকাদারের সঙ্গে চায়না কমার্শিয়াল লোনের চুক্তি হয়েছে ২০২২ সালের মাঝামাঝিতে। এরপর শুরু হয় নির্মাণকাজ।

কিলোমিটারপ্রতি ৮৩৭ কোটি টাকা খরচে পোর্ট অ্যাকসেস এলিভেটেড হাইওয়ে নির্মাণ করছে শ্রীলংকা। কিলোমিটারপ্রতি ৩৯০ কোটি টাকায় শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ স্কাইওয়ে নির্মাণ করেছে ইন্দোনেশিয়া। রামা ৩ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করেছে থাইল্যান্ড কিলোমিটারপ্রতি ৬১২ কোটি টাকা ব্যয়ে। এ প্রকল্পগুলোর অবকাঠামোগত সুবিধা চীন, মালয়েশিয়ায় নির্মিত এক্সপ্রেসওয়েগুলোর মতোই।

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় ২৪ কিলোমিটার উড়ালপথ, প্রায় ১১ কিলোমিটার র‍্যাম্প, দুই লেনের নবীনগর ফ্লাইওভার, বাইপাইলে ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ, ১৪ কিলোমিটার অ্যাট-গ্রেড সড়ক পুনর্নির্মাণ, দুই লেনের সেতু, ওভারপাস ও ফ্লাইওভার, আধুনিক ড্রেনেজ ও ইউটিলিটি ডাক্ট এবং টোল প্লাজা নির্মাণ করা হচ্ছে।

যোগাযোগ অবকাঠামো বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ ব্যয়ের দিক দিয়ে বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ হলেও এর অবকাঠামোগত সুবিধা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. সামছুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের দেশে মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ব্যয় অনেক ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় বেশি হলেও সেই ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নির্মাণমান, পরিবেশগত সুরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। উন্নত ও উদীয়মান দেশগুলো অবকাঠামো নির্মাণে শুধু মূল নির্মাণ ব্যয় নয়, পরিবেশগত শর্ত পূরণ, জলবায়ু সহনশীলতা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তাকেও প্রকল্পের মূল বাজেটের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। কিন্তু বাংলাদেশে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করা হলেও বাস্তবায়নের সময় তার কার্যকর প্রয়োগ ও তদারকির ঘাটতি রয়ে যায়। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও আমরা এমন অবকাঠামো পাচ্ছি, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক পিছিয়ে।’

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর ‘গ্যাস-সংকট: আয়ে টান সিএনজিচালকদের যাত্রীরা গুনছেন বাড়তি ভাড়া’। প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্যাসের চলমান তীব্র সংকটে আয়ে টান পড়েছে সিএনজিচালিত যানবাহন, বিশেষ করে অটোরিকশার চালকদের। গ্যাস সংগ্রহ করতে ফিলিং স্টেশনে কয়েক ঘণ্টা লেগে যাওয়ায় যাত্রী পরিবহনে সময় কম পাচ্ছেন। যে টাকা আয় হচ্ছে তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। এই সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে অনেক চালকের বিরুদ্ধে।

সাগরে ভাসমান দুই এলএনজি টার্মিনালের একটিতে অগ্নিকাণ্ডের পর গত মঙ্গলবার থেকে বন্ধ হওয়ার পর রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে শুরু হওয়া তীব্র গ্যাস-সংকটে গতকাল সোমবারও ভুগেছেন পাইপলাইনের গ্যাসের গ্রাহকেরা। বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলা জ্বলছে না। ফিলিং স্টেশনে সিএনজির জন্য অপেক্ষার সময় বেড়েছে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমায় বেড়েছে লোডশেডিং। শুক্রবার থেকে সেই ত্রুটি সারানোর কাজ চলছে।

একটি এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির পর থেকে দৈনিক চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশা, এলএনজি সরবরাহে ব্যবহৃত বন্ধ টার্মিনালটি পুরোপুরি কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতে প্রায় দুই সপ্তাহ প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে এক্সিলারেট এনার্জি। প্রতিষ্ঠানটি এ কাজ শেষ করার জন্য আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে।

একটি এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির পর থেকে দৈনিক চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশা, এলএনজি সরবরাহে ব্যবহৃত বন্ধ টার্মিনালটি পুরোপুরি কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতে প্রায় দুই সপ্তাহ প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে এক্সিলারেট এনার্জি। প্রতিষ্ঠানটি এ কাজ শেষ করার জন্য আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহে সাময়িক বিঘ্নের কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে গেছে। ফলে মঙ্গলবার থেকে যানবাহনগুলোকে গ্যাস নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের জন্য অটোরিকশা, সিএনজিতে চলা গাড়ির দীর্ঘ সারি রাত-দিন লেগেই আছে। হিউম্যান হলারও আছে সারিতে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা মহানগরে ১৫ হাজার ৬৯৬টি সিএনজিচালিত অটোরিকশার চলাচলের অনুমোদন রয়েছে। এসব অটোরিকশার চালকেরাই বর্তমানে গ্যাস-সংকটে সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী।

অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ মিল্লাত আজকের পত্রিকাকে বলেন, গ্যাস-সংকট শুরু হওয়ার পর নিয়মিত অটোরিকশা চালাতে পারছেন না। দু-এক দিন গ্যাস পেলেও ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা সময় লাগছে। যে গ্যাস পাচ্ছেন, তা দিয়ে খরচ মিটিয়ে নিজের কিছু থাকছে না। অটোরিকশা চালালেই সংসার চলে, না চালালে চলে না। খুব সংকটের মধ্যে আছেন।

দেশ রূপান্তর

‘লোকসানের পাহাড়ে টেলিটক’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে স্বার্থবিরোধী নীতিমালা করে বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ায় বিগত দুই দশকের বেশি সময় ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে রাষ্ট্রীয় মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমএনও) টেলিটক বাংলাদেশ। এ ছাড়া বিলুপ্ত বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ অ্যান্ড টেলিফোন বোর্ডের (বিটিটিবি বা টিঅ্যান্ডটি) অদক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের টেলিটকে পুনর্বাসন, ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্য এবং দক্ষ জনবলের অভাব, যথাসময়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারায় প্রতিযোগিতার সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি রাষ্ট্রীয় এ কোম্পানির। অপার সম্ভাবনা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি লাভের মুখ দেখেনি। প্রতি বছরই গুনতে হচ্ছে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লোকসান।

অডিট প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই টেলিটক ১৫৫ কোটি টাকা লোকসান গুনেছে। কোম্পানিটির এ যাবতকালের নিট পুঞ্জীভূত লোকসান (অ্যাকুমুলেটেড লস) দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৭৪ কোটি ৯০ লাখ ৫ হাজার ১৯৫ টাকায়। অর্থাৎ তাদের মোট সম্পদের তুলনায় দায়ের পরিমাণ বেড়েছে ৭০৩ কোটি ৩৪ লাখ ২৭ হাজার ৮৮৩ টাকা। হিসাব অনুযায়ী, সম্পদ ও দায়ের অনুপাত ১০০ : ১৫৮। ব্যবসার ক্ষেত্রে এ ধরনের দায় উচ্চমাত্রার আর্থিক ঝুঁকি বহন করে। অডিট রিপোর্ট বলছে, সরকারের কাছ থেকে বড় অংকের ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকে ১১৩ কোটি টাকার অপরিশোধিত ঋণ রয়েছে টেলিটকের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেলিটকের আয় বাড়লেও পরিচালন ব্যয় কমানোর কোনো উদ্যোগ নেই। বেসরকারি খাতের মতো করপোরেট কাঠামোতে উচ্চ বেতন, গ্র্যাচুইটি সুবিধা, আউটসোর্সে জনবল নিয়োগে অত্যধিক ব্যয়, এন্টারটেইনমেন্ট, পরিবহনসহ অন্য অনেক খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় বছর শেষে টেলিটকের লোকসানের খাতা ভারী করছে। শুধু সিকিউরিটি গার্ড ও ক্লিনার হায়ার বাবদ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে ১৩ কোটি ৩৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরে এ ব্যয় ছিল ১১ কোটি ১০ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। ছোট এ প্রতিষ্ঠানটি পরপর দুই অর্থবছরে এন্টারটেইনমেন্ট খাতে ব্যয় করেছে ৫৮ ও ৫০ লাখ টাকা।

টেলিটকের ডিরেক্টরস রিপোর্ট থেকে জানা যায়, গত অর্থবছরে ৬১৯ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে পরিচালন আয় ছিল ৫৪৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর আগের অর্থবছরে আয় ছিল ৫২৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং ব্যয় ছিল ৫৮৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। তার পূর্ববর্তী অর্থবছরে ৪৯৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৬৪০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। প্রযুক্তিনির্ভর সংস্থাটির অবচয় ব্যয়সহ কর পরিশোধ পরবর্তী লোকসান ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ২৪৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৯৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৭৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৫৫ কোটি টাকা।

জন্মলগ্ন থেকেই সমস্যার শুরু : ২০০২ সালে তখনকার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে টেলিটক কোম্পানিকে অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেক। পরের বছর রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে (আরজেএসসি) নিবন্ধনের পর বিলুপ্ত টিঅ্যান্ডটির ৬৮৩ কোটি টাকার পুরনো প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও দায়কে সম্পদ হিসেবে দেখিয়ে টেলিটকের ঘাড়ে চাপানো হয়। একই সঙ্গে টিঅ্যান্ডটির বেশ কিছু জনবলও টেলিটকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এমএনও ব্যবসায় একটেল এবং গ্রামীণফোনের আধুনিক প্রযুক্তির বিপরীতে টেলিটকে তখন পুরনো যন্ত্রপাতি ও মান্ধাতা আমলের জনবল নিয়ে কাজ শুরু করে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর ‘তালিকায় ৩৬৩ মাদকসম্রাট’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের ঘোষিত বিশেষ অভিযানের তিন মাসেও লাগাম টানা যায়নি মাদক কারবারের। উল্টো যত সময় যাচ্ছে ততই বাড়ছে মাদকের স্রোত। আগের মতোই পাড়ামহল্লা ও অলিগলিতে দেদার বিক্রি হচ্ছে সর্বনাশা ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল থেকে শুরু করে সব ধরনের মাদক। ঢাকায় হোম সার্ভিসের পাশাপাশি সমাজমাধ্যম, অনলাইন মার্কেটপ্লেস, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ, কুরিয়ার সার্ভিস ও ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের হালনাগাদ এক গোপন তালিকায় মহানগরীর ৫০ থানা এলাকার ৩৬৩ মাদকসম্রাটের নাম উঠে এসেছে। যাদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরাও রয়েছে। পুলিশ বলছে, মাদকের এই কারবারিরা এখন রাজধানীতে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের নেটওয়ার্কের জাল এখন সারা দেশে। মাদক কারবারিদের শক্তিশালী এই নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতেই মাদক কারবারিদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। শিগগিরই সমন্বিত অভিযান শুরু হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) জানিয়েছে, দেশের তিন করিডর দিয়ে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদক দেশে প্রবেশ করছে। সেগুলো হলো, ভারত সীমান্তের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চল এবং মিয়ানমার সীমান্তের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। পশ্চিমাঞ্চলীয় করিডরের প্রবেশপথগুলো সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনী জেলায়। উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত করিডরে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার বিভিন্ন পয়েন্ট রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় করিডর, বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দিয়ে মূলত ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথের চোরাচালান আসে। আর এসব অবৈধ মাদকের প্রধান গন্তব্য ঢাকা। ঢাকা থেকে ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। আর ঢাকার মাদক কারবারিরা খুবই তৎপর।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অভিযানে মাঠপর্যায়ের বিক্রেতা, বাহক ও ক্রেতাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। মূল পৃষ্ঠপোষকরা আইনের আওতায় আসছে না। মাদকের ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার রহস্য লুকিয়ে আছে এখানেই। অনেক গডফাদারের সঙ্গে পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের ভাগবাঁটোয়ারার সম্পর্ক। ফলে অভিযানের আগেই তথ্য পাচ্ছে শীর্ষ কারবারিরা। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে শীর্ষ ওই মাদক সম্রাটদের আইনের আওতায় আনতে হবে। বন্ধ করতে হবে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মোহাম্মদ ওসমান গনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারে ডিএমপি সবসময় তৎপর। প্রতিনিয়ত কারবারিদের গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধার করা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে চলমান জোরদার অভিযান অব্যাহত। গডফাদাররা কেন গ্রেপ্তার হয় না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তথ্য পেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। আমরা নতুন করে তালিকা করছি। সক্রিয় কারবারি কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন