গান গেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রিল করা শিক্ষিকা বিউটি পাল সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তাকে নিয়ে যে ট্রল করা হয়েছে সেটিরও বিচার চান তিনি। একইসঙ্গে দেখা দিয়েছে নিরাপত্তা শঙ্কাও। সবমিলিয়ে সোমবার দুপুরে অনলাইনে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। সেখানে তাকে নিয়ে ট্রল করা তিনটি ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি লুৎফুর রহমান মানবজমিনকে জিডি’র বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তিনটি আইডির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষিকা। অনলাইনে তিনি ওই জিডি করেন। তার অভিযোগটি তদন্ত করছে পুলিশ। এর আগে রোববার বিকালে শিক্ষিকা বিউটি পাল জানান, তিনি স্বাভাবিকভাবেই ওই রিলটি করেছেন। এটি নিয়ে এতকিছু হবে তিনি ভাবতে পারেননি।
প্রবাস থেকে একটি পেজে প্রথমে তার রিলটি কপি করে বুলিং করা হয়। এরপর নানা সমালোচনা হয়। তিনি বলেন- দেশের মানুষ তার পক্ষে দাঁড়ানোর কারণে তিনি সাহস পেয়েছেন। এজন্য তিনি পাশে দাঁড়ানো মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি পাল। ঘটনা গত ২৩শে জুলাই। ওইদিন ছুটির পর বিদ্যালয়ের আঙিনায় হেঁটে হেঁটে শাড়ি পরে একটি ভিডিও করেন। পরে ওই ভিডিওতে ‘আজ কেন মনে উদাসী হয়ে’ গানটি জুড়ে দিয়ে রিল বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তার ওই রিল ভিডিও নিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিনসহ কয়েকটি পেজে ট্রল করে। তাদের এই ট্রলকে ঘিরে প্রথমে ফেঞ্চুগঞ্জে এরপর গোটা দেশ জুড়ে আলোচনা শুরু হয়।
রোববার শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ যখন সিলেটে অবস্থান করছিলেন তখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়। সন্ধ্যায় এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গান গেয়ে এক শিক্ষিকা ভিডিও করেছেন সেটি আমি দেখিনি। তবে অনেকেই বলছে সেখানে অশ্লীলতার কোনো কিছুই নেই। গান গাওয়া অন্যায় সেটা আর কেউ মানুক বা না মানুক আমি মানতে রাজি নই।’ এদিকে, শিক্ষিকা বিউটি পালের ওই বিষয়টি তদন্ত হচ্ছে না বলে জানান সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ। আমরা প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর নিয়ে ভিডিওর ঘটনায় অন্যায় কিছুই পাইনি।
