পটুয়াখালীতে মোহসেনুদ্দিন নূরিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা এমএ রহিমের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও কমিটির সদস্যবৃন্দ। রোববার রাত ৮টায় পটুয়াখালী জেলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ মাও. এমএ রহিম বলেন, নুরুদ্দীন আফসারী একজন, চাঁদাবাজ, দখলবাজ, প্রতারক। নুরুদ্দীন আফসারীর বাবা প্রয়াত অধ্যক্ষ মাওলানা মুহিউদ্দিন আফসারী বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চাকরি দেয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছিলেন। পরে সেই টাকা ফেরত না দেয়ায় মানবিক কারণে তিনি (অধ্যক্ষ মাও. এমএ রহিম) নিজেই প্রায় ৪ লাখ ৬৬ হাজার ১৯০ টাকা পরিশোধ করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নুরুদ্দীন আফসারী ২০২৪ সালের ৬ই জুলাই তার কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নুরুদ্দীন কয়েকজন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে তাকে লাঞ্ছিত এবং এক কর্মচারীকে মারধর করে। এ ছাড়াও ২০২৪ সালের ৩রা জুলাই অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে নুরুদ্দীন আফসারী মাদ্রাসার অফিসে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, প্যাড ও বিদ্যুতের তার জোরপূর্বক নিয়ে যান। এ ঘটনা ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলেও অধ্যক্ষ দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, এতিমখানার নামে থাকা জমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল, গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ এবং সরকারি ত্রাণের চাল বরাদ্দ এনে আত্মসাতের মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন নুরুদ্দীন আফসারী। অধ্যক্ষ দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে নুরুদ্দীন আফসারী বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ৩০-৩৫টি অভিযোগ দায়ের করে হয়রানি করে আসছে।
তবে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তদন্তে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন অধ্যক্ষ। অধ্যক্ষ আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে চাকরি দেয়ার নামে অর্থ গ্রহণের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। একইভাবে মাদ্রাসার এক কর্মচারীর বিরুদ্ধেও নুরুদ্দীন আফসারী মিথ্যা মামলা করেছেন বলে দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ বলেন, তিনি কখনো চাকরি দেয়ার নামে কারও কাছ থেকে অর্থ নেননি। বরং নুরুদ্দীন আফসারী তার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসন, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নুরুদ্দীন আফসারীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান অধ্যক্ষ মাও. এম এ রহিম। একইসঙ্গে তিনি যোগ্যতার ভিত্তিতে মাদ্রাসায় নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। এ বিষয়ে নুরুদ্দীন আফসারী জানান, অধ্যক্ষের অভিযোগ মিথ্যা, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ সত্য, সভাপতি আ. রশিদ এর সভাপতির দায়িত্ব শেষ না হওয়া সত্ত্বে¡ও তাকে সরিয়ে মো. রুহুল আমিনকে অবৈধভাবে সভাপতি করেছেন।
