হরিণাকুণ্ডুর টেন্ডার ডাকা খালের পরিবর্তে কাটা হলো সংরক্ষিত খাল

হরিণাকুণ্ডুর টেন্ডার ডাকা খালের পরিবর্তে কাটা হলো সংরক্ষিত খাল

ফন্ট সাইজ:

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুর খাল খননে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ভুয়া শ্রমিকের নাম দেখিয়ে খাল খননের টাকা পকেটস্থ করার অভিযোগে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় উপকারভোগীরা। খাল খননের সিংহভাগ টাকা ভাগাভাগী করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে পিআইও, দুই প্রকল্প সভাপতি ও কতিপয় নেতার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, শ্রমিকের পরিবর্তে এস্কেভেটর ও অনুমোদিত ড্রেনেজ খালের পরিবর্তে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংরক্ষিত জিকে সেচ প্রকল্পের সেচ খাল খননের নামে ভুয়া শ্রমিকের নাম দিয়ে বেশির ভাগ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ছাড়া টেন্ডারকৃত খালের পরিবর্তে অন্য খাল খননে কোনো অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করা হয়নি, অধিকাংশ কাজ করা হয়েছে এস্কেভেটর দিয়ে এবং কাটা হয়েছে খালপাড়ের অসংখ্য গাছ। পরে নিয়ম ভেঙে খালপাড়ের ভেতরের অংশে লাগানো হয়েছে শত শত গাছের চারা।

হরিণাকুণ্ডু প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় ডি-১২ এক্সকে ড্রেনেজ খাল এবং কেসমত ঘোড়াগাছা গ্রামে ১-ডি-১১-এন ড্রেনেজ খাল খননের অনুমোদন ছিল। খাল দুইটির মোট বরাদ্দ ছিল এক কোটি ৫৮ লাখ টাকা। জোড়াদহ জটার খাল খননে ২৯৩ জন শ্রমিক ও কেসমত ঘোড়াগাছা (কাটাখাল) খালে ৭৮ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু কোনো খালই শ্রমিক দিয়ে কাটা হয়নি। অন্যদিকে অনুমোদিত ১-ডি-১১-এন খালের পরিবর্তে বিধিবহির্ভূতভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শিতলী ও পায়রাডাঙ্গা এলাকায় প্রায় ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার সংরক্ষিত টার্শিয়ারি সেচ খাল খনন করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস জানান, এ ধরনের সংরক্ষিত সেচ খাল খনন করা যায় না; কেবল নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী পুনঃআকৃতিকরণ করা যায়। কিন্তু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর কোনো নকশা বা কারিগরি মতামত চায়নি। এ ছাড়া খাল পাড়ের বাইরের অংশে গাছ লাগানোর নিয়ম থাকলেও ভেতরের অংশে গাছ লাগানো হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সেচের পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
খালপাড়ের বাসিন্দা হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামের রেজাউল ইসলাম ও ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন, জটার খালের অধিকাংশ মাটি এস্কেভেটর দিয়ে কাটা হয়েছে, সেখানে কোনো শ্রমিক ছিল না। খাল কাটার নামে পিআইও আজিজসহ কিছু মানুষকে মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। শিতলী গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘যেভাবে খাল খনন করা হয়েছে, তাতে জমিতে সেচের পানি পৌঁছাবে বলে মনে হয় না। কৃষক ওহিদুল ইসলাম বলেন, খালের মাটি বিক্রি করার জন্য এত বেশি গভীর করেছে যে ফসলের জমির চেয়ে বেশি গভীর হয়ে গেছে। এই সব খালের পানি ধানি জমিতে উঠবে না।
হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রদীপ্ত রায় দীপন জানান, টেকনিক্যাল টিমের সার্ভেয়ার রিপোর্ট মোতাবেক বিল দিয়েছি। তবে শ্রমিকদের তালিকা নিয়ে ঘাপলা আছে। সেটা জানিয়ে আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে রিপোর্ট দিয়েছি। তিনি বলেন পিআইও যা করেছে তা কাগজপত্র ঠিক করেই করেছে। এটা বুঝতে পেরে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করা হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, খাল খননে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি, তবে এক খালের পরিবর্তে অন্য খাল কাটা হলেও সেটা প্রকল্প সংশোধনসহ অনুমতির জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, খাল খননে অভিযোগের বিষয়টি বিভিন্ন মহল থেকে পেয়েছি। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন