ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলায় মোবাইল চোর সন্দেহে সালিশে রানা মিয়া নামে এক তরুণকে পেটাচ্ছিল বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে নাতিকে বাঁচাতে এসে মারধরে নবী হোসেন (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। নিহত নবী উপজেলার হাটপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হেকিম মৃধার ছেলে। গত রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের হাটপাড়া বাজারের বিএনপি নেতা শামসুল আলম ফারুকের বিএনপি কার্যালয়ে সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে খবর পেয়ে পাগলা থানা পুলিশ বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে সোমবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। শামসুল আলম পাগলা থানা বিএনপি’র সদস্য ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আনুমানিক একমাস আগে উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের হাটপাড়া গ্রামের দুলালের ছেলে রবিনের মোবাইল চুরি হয়। মোবাইল চুরির জন্য একই এলাকার শরিফুল আলমের ছেলে রানা মিয়াকে সন্দেহ করে রবিনের স্বজনরা। ঘটনার দিন পাগলা থানা বিএনপি’র সদস্য শামসুলের লোকজন কামাল, কামালের ছেলে ইমন, সোহেল, নয়ন, রাকিব, আরিফ মোবাইল চুরির অভিযোগে রানাকে তুলে নিয়ে আসে। সূত্রটি আরও জানায়, তুলে এনে শামসুলের অফিসের সামনে বেঁধে রেখে সালিশ শুরু হয়। সালিশের একপর্যায়ে রানাকে মারধর শুরু করলে দাদা নবী ঘটনাস্থলে এসে তাকে মারতে নিষেধ করেন। এ সময় দুই পক্ষের ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে নবী রাস্তায় পড়ে যায়। পরে তাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে প্রতিপক্ষের লোকজন।
এতে নবী অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয়রা উদ্ধার করে গফরগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দক্ষিণ পাগলা থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।
