ভাঙা সড়কে থমকে আছে পিরোজপুর পৌরবাসী

ভাঙা সড়কে থমকে আছে পিরোজপুর পৌরবাসী

ফন্ট সাইজ:

প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও পিরোজপুর শহরের সড়কগুলোর চিত্র যেন অনেকটা গ্রামাঞ্চলের কাঁচা রাস্তার মতো। অধিকাংশ সড়কে বড় বড় খানাখন্দ, কোথাও জমে আছে বৃষ্টির পানি। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় শহরের বেশির ভাগ সড়ক এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে লক্ষাধিক পৌরবাসীকে। বর্ষা মৌসুমে সেই ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে দুর্নীতি, অনিয়ম ও রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হয়েছে সড়ক অবকাঠামো। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভায় মোট প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। প্রায় ৯০ কিলোমিটার সড়ক চলাচলের উপযোগী থাকলেও বাকি প্রায় ২৬০ কিলোমিটার বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত ও চলাচলের অনুপযোগী। রায়েরকাঠি এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফজলুল হক সিকদার বলেন, পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তা ভাঙা ও খানাখন্দে ভরা। বছরের পর বছর আমরা দুর্ভোগ নিয়ে চলাফেরা করছি। কবে এসব রাস্তার সংস্কার হবে, তা নিয়েই সংশয় রয়েছে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সালাম বাতেন বলেন, বিগত সরকারের সময়ে পিরোজপুর পৌরসভা সড়ক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পায়নি।

ফলে অধিকাংশ সড়কের সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এখন পৌরসভার বেশির ভাগ রাস্তাই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কবি শিকদার বলেন, আমার ওয়ার্ডে এখনও অনেক কাঁচা রাস্তা রয়েছে। বর্ষা এলেই এসব সড়কে মানুষের চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে জরুরি ভিত্তিতে কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সংস্কার করা প্রয়োজন। শুধু ব্যবসায়ী নন, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, রোগী ও সাধারণ পথচারীরাও প্রতিদিন একই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তবে পৌর প্রশাসনের দাবি, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সড়ক সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। পিরোজপুর পৌরসভার প্রশাসক মাহামুদুর রহমান মামুন বলেন, বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে সব সড়ক একসঙ্গে সংস্কার করা যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন