খোয়াই নদীর তীরের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

খোয়াই নদীর তীরের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার খোয়াই নদীর তীরবর্তী বাঁধসংলগ্ন এলাকায় সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি’র দুই নেতাসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, নদীর তীর সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সরকারি গাছ কেটে নেয়ায় খোয়াই নদীর বাঁধের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে এবং বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ নদীভাঙনের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫শে জুলাই ভোরে ফজরের নামাজের পর শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আলাপুর-কলিমনগর এলাকার খোয়াই নদীর বাঁধসংলগ্ন স্থান থেকে কয়েকটি সরকারি গাছ কেটে একটি যানবাহনে করে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাটি স্থানীয়দের নজরে এলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, খোয়াই নদীর তীরবর্তী এসব সরকারি গাছ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, বরং নদীর বাঁধকে টিকিয়ে রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাছের গভীর শিকড় বাঁধের মাটিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে রাখে, ফলে ভারী বৃষ্টিপাত ও নদীর তীব্র স্রোতের সময় মাটি ধসে পড়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। এসব গাছ প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে এবং নদীর তীরকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করে। এলাকাবাসী জানান, কয়েক সপ্তাহ আগেও খোয়াই নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন এবং বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে বাঁধসংলগ্ন সরকারি গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, এভাবে গাছ নিধন চলতে থাকলে আগামী বর্ষায় নদীর প্রবল স্রোতে বাঁধের মাটি ধসে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে। স্থানীয়দের মতে, খোয়াই নদীর তীরের সরকারি গাছ কেটে ফেলার কারণে কয়েকটি গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বাঁধের মাটি দুর্বল হয়ে নদীভাঙনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। বর্ষাকালে প্রবল স্রোতে বাঁধ ধসে আশপাশের গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হবে। আলাপুর, কলিমনগরসহ নদীতীরবর্তী এলাকার বসতবাড়ি, কৃষিজমি, সড়ক ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সরকারি অর্থে নির্মিত বাঁধ রক্ষায় ভবিষ্যতে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন