ছাত্রলীগ ট্যাগ

নাশকতা মামলায় কারাগারে জুলাইযোদ্ধা, সমালোচনার ঝড়

ফন্ট সাইজ:

কক্সবাজারের উখিয়া থানায় পুলিশের দায়ের করা একটি নাশকতা মামলায় জুলাইযোদ্ধা আবু নাসের মোহাম্মদ ইমরান ও মিলন বড়ুয়া নামের আওয়ামী লীগের এক তৃণমূল নেতাকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে তোলপাড় চলছে। পুলিশের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জুলাইযোদ্ধারা চব্বিশের আন্দোলনে ইমরানের রাজপথে সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তাকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন।

সূত্র মতে, উখিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গোপন বৈঠক করে নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ কর্মসূচি পালন করা আলোচিত পালংখালী ইউনিয়নের কোনো নেতাকর্মীকে আটক করতে না পারলেও দূরবর্তী হলদিয়া পালং ও রাজা পালং ইউনিয়ন থেকে দু’জনকে আটক করে চালান দিয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদের মামলার ১ ও ২ নম্বর অভিযুক্ত হিসেবে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে।

গত রোববার উখিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ বড়ুয়া। মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২৫শে জুলাই দুপুরে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে, পালংখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নলবুনিয়া এলাকায় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদের বাড়িতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছেন। পুলিশের দাবি, বৈঠকে সরকার ও রাষ্ট্রের জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। সংবাদ পেয়ে উখিয়া থানা পুলিশের একাধিক টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে হলদিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মিলন বড়ুয়া (৪২) এবং আবু নাসের মোহাম্মদ ইমরান (২৪) নামে ২ জনকে আটক করা হয়। তবে অন্যরা বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তারেক হোসেন মানিক, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইমাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার কামাল পাশাসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ১১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো কলেজছাত্র ইমরানের সহপাঠী জুলাইযোদ্ধা তাওহীদুল ইসলাম রাফী বলেন, আমরা একসঙ্গে কক্সবাজার সরকারি কলেজে স্নাতক পাস কোর্সে বিবিএস তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছি। পালংখালীতে যেদিন ছাত্রলীগ প্রোগ্রামটি করে, সেদিন আমরা পরীক্ষার হলে ইংরেজি পরীক্ষা দিচ্ছিলাম। তিনি বলেন, আমি যতটুকু জানি ইমরান রাজনীতি করে না। তাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটক করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও জোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কক্সবাজারের আলোচিত জুলাই নেত্রী ও ছাত্র শক্তির মুখপাত্র জিনিয়া শারমিন রিয়া বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন উপজেলায় প্রকাশ্যে কর্মসূচি করেছে। অথচ এই অথর্ব প্রশাসন আমাদের জুলাইয়ের সহযোদ্ধাকে ছাত্রলীগের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য বিএনপি সরকারের লজ্জা হওয়া উচিত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তিনি ঘটনার প্রতিবাদে সকল জুলাইযোদ্ধাদের নিয়ে আন্দোলনের ঘোষণা দেন।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন