সহসাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু

সহসাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু

ফন্ট সাইজ:

প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে দু’-একদিনের মধ্যেই ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। ওই বৈঠকের পর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে তফসিল ঘোষণা করবে কমিশন। সংবিধান অনুযায়ী, আগামী ২৩শে অক্টোবরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

রোববার নির্বাচন কমিশনের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সংক্রান্ত আইনি ও সাংবিধানিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সিইসি প্রথমে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ জন্য দু’-একদিনের মধ্যেই ইসি সচিবালয় থেকে সময় চেয়ে চিঠি পাঠানো হবে। সময় নির্ধারণ হলে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের হালনাগাদ তালিকা পাওয়ার পর কমিশন প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। জাতীয় সংসদের সদস্যরাই গোপন ব্যালটে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন।

যেভাবে হয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের একজন প্রেসিডেন্ট থাকিবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন।’ অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সাংবিধানিক ভিত্তি নির্ধারণ করে দিয়েছে সংবিধান।

সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অন্যদিকে প্রেসিডেন্টর মৃত্যু, পদত্যাগ, অপসারণ বা অন্য কোনো কারণে পদ শূন্য হলে ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন প্রথমে তফসিল ঘোষণা করে। এরপর মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পুরো নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে নির্বাচন কমিশন।

সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে হলে তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, কমপক্ষে ৩৫ বছর বয়সী হতে হবে এবং জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের কোনো ভূমিকা নেই। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন শুধুমাত্র জাতীয় সংসদের সদস্যরা। বৈধ প্রার্থী একাধিক হলে সংসদ সদস্যরা গোপন ব্যালটে ভোট দেন। সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একটি বিশেষ বিধান রয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, মনোনয়ন যাচাই ও প্রত্যাহারের পর যদি একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে কোনো ভোটগ্রহণ ছাড়াই নির্বাচন কমিশন তাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ঘোষণা করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে অধিকাংশ প্রেসিডেন্ট এভাবেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন