শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

একরামুল হত্যা

শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

ফন্ট সাইজ:

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হককে ২০১৮ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারের’ নামে হত্যা এবং এর আগে অপহরণের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয় ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট, ১৯৭৩-এর ৯(১) ধারা এবং কার্যপ্রণালী বিধিমালার ১৮ বিধি অনুযায়ী এ ফরমাল চার্জ দাখিল করে।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, সাবেক র‍্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) কর্নেল (অব.) আনোয়ার লতিফ খান, সাবেক র‍্যাব পরিচালক (ইন্টেলিজেন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল) মো. মাকতুম আলম মিনু, সাবেক কমান্ডার র‍্যাব-৭ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল) মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) রুহুল আমিন এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুল সানি মামুন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে ৫ই আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনা তার ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার উদ্দেশ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দল, ভিন্নমতাবলম্বী, সরকারের সমালোচক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে টার্গেট করে দেশজুড়ে একই পদ্ধতিতে জোরপূর্বক গুম, অপহরণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করেন। একরামুল হক হত্যাকাণ্ডকে সেই পরিকল্পিত ও ব্যাপক আক্রমণেরই অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফের কেরুনতলী এলাকায় বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের হলিডে কমপ্লেক্সের মূল ফটকের বাইরে থেকে একরামুল হককে অপহরণ করা হয়। পরে একই রাতে টেকনাফের নোয়াখালীপাড়া মেরিন ড্রাইভ সড়কের পশ্চিম পাশে সমুদ্রতীরে নিয়ে কথিত ‘ক্রসফায়ারের’ নামে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

প্রসিকিউশনের দাবি, এ ঘটনায় আসামিরা পরিকল্পনা, নির্দেশনা, সহযোগিতা ও সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট, ১৯৭৩-এর ৩(২), ৪(১), ৪(২), ৪(৩), ৯(১) ও ২২ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট বিধানের আওতায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

Mohsin

৯ ঘন্টা আগে

স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে কক্সবাজারের বহুল আলোচিত একরামুল কে ক্রস ফায়ারে হত্যা করার পূর্ব মূহুর্তে একরামুলের সঙ্গে তার মেয়ের মোবাইলে কথোপকথন সারা বাংলাদেশের সচেতন মানুষদের নাড়া দিলেও ক্ষমতাসীনরা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য মোটেও বিচলিত ছিলেন না তাই দেশের মানুষ চাই এই হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচার আর একজন মানুষ কে হত্যার জন্য এতগুলো সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ অফিসার দের কি ভূমিকা ছিল ? যার জন্য অনেক কে আসামি করা হলো ?

Andalib

১১ ঘন্টা আগে

অনেক অপরাধের তদন্তকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার কারন আসল অপরাধীরা
পার পেয়ে যায়। একরামুল হক হত্যাকাণ্ড সারা দেশের মানুষকে নাড়া দিয়েছে। আমরা
সবাই এর বিচার চেয়েছি। কিন্তু এটাও সত্যি, একরামুল হক এমন বিখ্যাত বা গুরুত্বপূর্ণ কেউ ছিলেন না যে তাকে হত্যা করতে দেশের প্রধানমন্ত্রী জড়িত হবেন। ট্রাইব্যুনালটি যেভাবে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে তাতে মানুষ তাদের কোন রায়ের উপর আস্থা রাখতে পারবে না।

akmdatique

১১ ঘন্টা আগে

২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় একরামুল হক কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হন। ঘটনার সময়ে একরামুল হক এর সাথে তার মেয়ের কথপোকথনের একটি অডিও রেকর্ডিং দেশজুড়ে ব্যাপক মানুষের হৃদয় ছুয়ে যায়। সঠিক বিচার প্রত্যাশা করছি।

মন্তব্য করুন