বরগুনার পাথরঘাটা ও সুন্দরবনসহ সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় জলডাকাতদের অপতৎপরতা বেড়েছে কয়েক গুণ। যা নিয়ে নতুন করে ভয়ঙ্কর অবস্থা দেখা দিয়েছে। অতিসমপ্রতি বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবন এলাকায় জেলে বহরে আক্রমণ, গুলি, লুটপাট ও অপহরণের অনেকগুলো ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদে পাথরঘাটায় মানববন্ধন করেছেন মৎস্যজীবী মাঝি-মাল্লা, সাধারণ জেলে ও ট্রলার শ্রমিকরা। গতকাল বেলা ১১টার দিকে পৌর শহরের গোলচত্বর শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে মানববন্ধন করেন সাধারণ মৎস্যজীবী জেলে ও ট্রলার শ্রমিকরা। জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতি, বিএফডিসি মৎস্য আড়তদার সমিতি, পাইকার সমিতি এবং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি দেন নেতারা।
জেলে, মাঝি-মাল্লাদের অভিযোগ, অতিসমপ্রতি ‘বড় জাহাঙ্গীর’ ও ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ নামের পরিচিত দু’টি জলডাকাত গ্রুপ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে ট্রলার ডাকাতি, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনের কটকা এলাকা থেকে ৪ নং পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামের মাসুম মাঝিকে ট্রলারসহ অপহরণ করা হয়। পরে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তিনি মুক্তি পেলেও ট্রলারের তিন মাঝি মাহবুব (২৭), সোহেল (১৭) ও রাজু (২৬) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানান। এর আগে বুধবার জলডাকাতরা জেলে রাজু (৩১) ও কাঁকড়াশিকারি নিহার মণ্ডলকে (৪৫) এক লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেয়। মুক্তিপণ দিয়ে ফেরার পথে আরেকটি ডাকাত দল তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ট্রলারটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। মুক্ত হয়ে আসা নিহার মণ্ডল বলেন, তিনি প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা চাঁদা দিয়ে কাঁকড়া শিকার করতেন। তারপরও তাকে অপহরণ করে কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে নিয়ে পায়ে শিকল পরিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এক লাখ টাকা মুক্তিপণ পেয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
অপর জেলে রাজু জানান, কটকা এলাকায় জাল ফেলতে গেলে জলডাকাতরা তাদের ধরে কয়েকদিন আটকে রাখে। মুক্তির পর ফেরার পথে পুনরায় আটকানোর চেষ্টা হলে তারা দ্রুত ট্রলার চালিয়ে পালিয়ে আসেন। জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির নেতারা যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার, নৌ-টহল বৃদ্ধি এবং অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান। তারা বলেন, জলডাকাতদের কারণে জেলেরা সাগরে যেতে ভয় পাচ্ছেন, যা উপকূলীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের বরাবরে অল্প সময়ের মধ্যেই পৌঁছানো হবে।
বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবন অঞ্চলে নব্য জলডাকাত আতঙ্ক
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
