ফ্যাসিবাদ কায়েম করলে আপনাদেরও জনগণ তাড়াবে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘হাসিনা তাড়িয়েছি, যদি আপনারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেন, তাহলে আপনাদেরও জনগণ তাড়াবে।’ তিনি গতকাল শনিবার বিকালে সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে নগরের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দুঃশাসন নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামবো না। আমাদের এই আন্দোলন চলতেই থাকবে। প্রিয় সিলেটবাসী লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হোন। ডাক এলে সবাইকে সাড়া দিতে হবে। ঘরে ঘরে সেই আন্দোলনের দুর্গ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণ পরিবর্তনের জন্য, সংস্কারের জন্য গণভোটে রায় দিয়েছে। ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। গণভোটের রায়কে আমরা অপমান করতে দেবো না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেই আমাদের আন্দোলন সফলতার দ্বারপ্রাপ্তে পৌঁছাবে। বাংলাদেশে আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ চাই না। জামায়াত আমীর বলেন, আমরা দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি, তারাও মজলুম ছিলেন, আজ যারা সরকারে আছেন তারাও আজ ফ্যাসিবাদের পথ ধরে হাঁটা শুরু করেছেন। সমাজের সব ক্ষেত্রে তারা বেপরোয়া নির্লজ্জ দলীয়করণ করে দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করতে চাচ্ছেন। আমরা মানবো না। আমরা কিছুতেই মানবো না। ভালোয় ভালোয় দাবি মেনে নিন। এদেশের মানুষ জীবন দিয়ে, পঙ্গুত্ব বরণ করে, গুলি খেয়ে শিখে নিয়েছে মুক্তির পথে কীভাবে হাঁটতে হয়।
আমরা আমাদের শহীদদের সঙ্গে বেঈমানি করবো না। জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে বেঈমানি করবো না। ১৮ কোটি মানুষের সঙ্গে বেঈমানি করবো না। ঢাকার সমাবেশে সবাইকে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই প্রস্তুত থাকুন। ঢাকা থেকে ডাক আসবে। দাবি আদায়ে সবাইকে তাতে অংশ নিতে হবে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম)। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগে বাধ্য হয়েছে। আমরা বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে ভারতের আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন জানাই। তিনি বলেন, দেশে দেশে এই যে তরুণরা জেগে উঠছে, তরুণরা অন্যায়-বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলছে, আমরা মনে করি, এটা জুলাই বিপ্লবের ধারাবাহিকতা।
জুলাই বিপ্লব দেশ থেকে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। জুলাই বিপ্লবের পর দক্ষিণ এশিয়ার সব সরকার সতর্ক হচ্ছে। তরুণদের ভয় পাওয়া শুরু করছে অথচ আমাদের দেশে সরকার ঠিক উল্টো হাঁটছে। সরকার ক্ষমতায় এসেই জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমাদের ঐক্য কেবল ক্ষমতা আর নির্বাচনের জন্য হয়নি। এই ঐক্য হয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবো। শহীদরে স্বপ্ন বাস্তবায়ন ছাড়া আমরা রাজপথ ছাড়বো না। সরকারের উদ্দেশ্যে মামুনুল হক বলেন, জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে গাদ্দারি করলে ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার আপনাদের থাকবে না।
আপনাদের প্রথমে পায়ে ধরে বলবো, পরে হাতে ধরে বলবো, তাতেও যদি কথা না শোনেন, ঘাড় ধরতে আপনাদের এতটুকু হাত কাঁপবে না। বিদায়ী রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে তিনি বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম, চুপ্পুকে রাইখেন না। আপনারা শুনলেন না। কথাটা আপনাদের ভালো লাগলো না। আজকে যখন রাষ্ট্রপতির মসনদে বসে আপনাদের ছোবল দিতে উদ্যত হয়েছে, তখন স্পিকার ২৪ ঘণ্টার নোটিশে হাসপাতাল থেকে ডেকে এনে চুপ্পুকে সরালেন। সে-ই তো পানি খেলেন, ঘোলা করে খেলেন। এতে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে আরেকটি বিপ্লব অনিবার্য। ঢাকা মহাসমাবেশ থেকে যদি আমরা দেখি জুলাই সনদ গণভোটের আলোকে বাস্তবায়ন হয়নি, তাহলে এক দফা সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে। যদি তা না হয়, তাহলে ওই বিএনপি সরকার থাকবে না।
অতিথির বক্তব্যে এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই দেশে ফিরবে না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশ বদলে গেছে, দিল্লির আধিপত্যবাদ এখানে ফিরবে না। পুরাতন আওয়ামী লীগ আর ফিরবে না। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমীর হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা’র মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চাঁন।
