দু’দিন ধরেই খুব একটা রোদের দেখা নেই গ্লাসগোর আকাশে। কেমন জানি গোমরা মুখ করে আছে এখানকার আবহাওয়া। মাঝে-মধ্যে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। এর মাঝেই হচ্ছে কমনওয়েলথ গেমস। তবে এই গেমস নিয়ে খুব একটা সাড়া নেই এখানকার মানুষের মাঝে। সবাই কেমন জানি নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত। এসব গেমস-টেমস নিয়ে তাদের খুব একটা মাথা ব্যথ্যা নেই। কোথায় কোন খেলা হচ্ছে তা-ও তাদের জানা নেই। তাদের আয়োজনেই বোঝা যাচ্ছে স্বেচ্ছায় না, উদ্ধারে এই অভিযানে সামিল হয়েছে তারা। যেমনটা বাংলাদেশ। ১০ ডিসিপ্লিনের এবারের আয়োজন মাত্র চারটিতে অংশ নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। যার মধ্যে প্রথমদিনেই তিন ডিসিপ্লিনে লড়াইয়ে নেমেছিলেন বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা। সাঁতারে সোনিয়া আক্তার ও সামিউর রহমান রফি হতাশ করলেও প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছেন বক্সার রাকিব হোসেন।
বার্মিংহামে পাঁচ হাজারের কাছাকাছি ক্রীড়াবিদ অংশ নিয়েছিলেন। গ্লাসগোতে সংখ্যাটি প্রায় তিন হাজার। খেলার সংখ্যাও কমে হয়েছে মাত্র ১০টি। বাদ পড়েছে ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, হকি, রাগবি সেভেনস, স্কোয়াশ, টেবিল টেনিস, ট্রায়াথলন, ডাইভিং, কুস্তি ও বিচ ভলিবলের মতো খেলা। শুটিংও নেই এবারের তালিকায়। ব্যয়বহুল অবকাঠামো ও অতিরিক্ত পরিচালন খরচ এড়াতেই এমন কাটছাঁট। সমস্যা হলো, কমনওয়েলথের বিভিন্ন অঞ্চলে জনপ্রিয় খেলাগুলো বাদ দিলে প্রতিযোগিতাটির বৈশ্বিক আকর্ষণও কমে যায়। ভারত, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার দর্শকের কাছে ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট ও হকির গুরুত্ব অনেক। দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ফিজি ও অস্ট্রেলিয়ার জন্য রাগবি সেভেনস বড় আকর্ষণ। ক্যারিবীয় অঞ্চলেও ক্রিকেট ছাড়া কমনওয়েলথ গেমসের আবেদন সীমিত।
কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে বাংলাদেশ আটটি পদক জিতেছে। দুটি সোনা, চারটি রুপা ও দুটি ব্রোঞ্জের সব ক’টিই এসেছে শুটিং থেকে। গত দুই আসর ধরে নেই এই খেলাটি। গ্লাসগোতে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন ১৫ জন ক্রীড়াবিদ। অ্যাথলেটিকসে পাঁচজন, সাঁতারে চারজন, বক্সিং ও জিমন্যাস্টিকসে তিনজন করে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যেই বলেন, পদকের লড়াইয়ের চেয়ে সদস্যপদ ও উপস্থিতি ধরে রাখাই এবারের প্রধান উদ্দেশ্য। প্রতিনিধিদলটিকে প্রতীকী অংশগ্রহণ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন তারা। যার প্রমাণ এরইমধ্যে রেখে চলেছেন বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা। সাঁতারে থ্যাইল্যান্ডে উন্নত প্রশিক্ষণে থাকা সামিউর রহমান রাফি ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে অংশ নিয়ে ৪২ জনের মধ্যে ১৯তম হয়েছেন। ৫০ মিটার বাটারফ্লাইতে সোনিয়া আক্তার ৫২ সাঁতারুর মধ্যে ৫১তম হয়েছেন। আরেক সাঁতারু সুকুমার রাজবংশী ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে ৪২ জনের মধ্যে ৩৯তম হয়েছেন। হতাশ করেছে জিমন্যাস্টিক্স দলও। অংশগ্রহণকারী ১০ দলের মধ্যে অষ্টম হয়েছে বাংলাদেশ।
শুধুমাত্র বক্সিংয়ে জয়ের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। রাকিব হোসেন সুলোমান আয়ার্যাল্ডের টিটিকানা চিলটনকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছেন। আজ নকআউটে রাকিব রিংয়ে নামবেন। অ্যাথলেটিক্সে আজ ট্রাকে নামবেন বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা। সাঁতারসহ সব ইভেন্টে বরাবরের মতো হতাশা দিয়েই শেষ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের আরেকটি কমনওয়েলথ গেমস। সাঁতারুরা থেকেছেন হিটে সবার পেছনে। অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক থেকেও সুখবর আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। জিমন্যাস্টিকস ম্যাটেও হারের গল্প। ব্যর্থতার দায় কি শুধু খেলোয়াড়দেরই। যে দেশের খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের কাছে আন্তর্জাতিক গেমসগুলো ‘বেড়ানো’ আর ‘অভিজ্ঞতা অর্জনের উপলক্ষমাত্র, সেখানে শুধু খেলোয়াড়দের দায় দেয়ার অবকাশও নেই।
শনিবার সাঁতারে পুরুষদের ৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গেমস খেলতে নেমেই আলো ছড়িয়েছেন কাজল মিয়া। হিটে তিন প্রতিযোগীর মধ্যে প্রথম হয়ে ফিনিশ করেন তিনি। প্রিলিমিনারিতে তার হ্যান্ড টাইমিং ছিল ৪ মিনিট ৬.৫০ সেকেন্ড। অফিসিয়াল গেমস টাইম ৪ মিনিট ১৪.৬৯ সেকেন্ড। সব মিলিয়ে ২৭ প্রতিযোগীর মধ্যে তার অবস্থান ২১তম।
