উপজেলার বিভিন্ন বাজারে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো ও কৃত্রিমভাবে আকর্ষণীয় রং করা আমের ছড়াছড়ি দেখা গেছে। বাহ্যিকভাবে এসব আম দেখতে সতেজ, উজ্জ্বল ও লোভনীয় হলেও বাস্তবে এগুলোর একটি বড় অংশ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অধিক মুনাফার আশায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দ্রুত পাকাতে এবং বাজারজাত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করছেন। ফলে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। সরজমিন শায়েস্তাগঞ্জ পৌর বাজার, নতুন ব্রিজ বাজার, রেলগেট বাজার, অলিপুর বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জাতের আমে বাজার সয়লাব। তবে অনেক সচেতন ক্রেতার অভিযোগ, এসব আমের একটি বড় অংশ প্রাকৃতিকভাবে পাকানো নয়।
বাইরে থেকে সুন্দর দেখালেও ভেতরে অনেক সময় কাঁচা, শক্ত কিংবা স্বাদহীন পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতেই দ্রুত বেশি লাভের আশায় কিছু ব্যবসায়ী কাঁচা আম সংগ্রহ করে ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ইথিফন ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে অল্প সময়ের মধ্যে পাকিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন। এ ছাড়া, কিছু ক্ষেত্রে আমকে আরও আকর্ষণীয় ও টাটকা দেখানোর জন্য কৃত্রিম রং ও সংরক্ষণকারী রাসায়নিকও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ফল বিক্রেতাদের কেউ কেউ জানান, সব ব্যবসায়ী রাসায়নিক ব্যবহার করেন না। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে পুরো ফল ব্যবসায়ী সমাজের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা নিয়মিত বাজার তদারকি এবং ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যালসিয়াম কার্বাইড বা অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে পাকানো ফল দীর্ঘদিন খেলে মানবদেহে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে লিভার, কিডনি ও পরিপাকতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারসহ জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ভোক্তাদের দাবি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, ফল পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু, রাসায়নিক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভোক্তাদের সচেতন করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। একইসঙ্গে কৃষক পর্যায় থেকে বাজার পর্যন্ত নিরাপদ ফল সরবরাহের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। রাসায়নিক দিয়ে পাকানো বা ভেজাল মিশ্রিত আম বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা ও অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
