নারী এশিয়া কাপকে সামনে রেখে বর্তমানে ক্যাম্প করছে বাংলাদেশ। আগস্টের শেষদিকে মাঠে গড়াতে পারে এ টুর্নামেন্ট। এবারের আসরে ফাইনাল খেলার লক্ষ্য টাইগ্রেস অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির। নারী এশিয়া কাপের সবশেষ আসরে সেমিফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। সেবার ভারতের কাছে ১০ উইকেটে হেরে ফাইনালে যাওয়া হয়নি টাইগ্রেসদের। এবার আরো ভালো করতে চায় বাংলাদেশ। এ নিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘গতবারের চেয়ে যেন এবারের ফল আরও ভালো হয়, সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। বৃষ্টি বাগড়ার মাঝেও আমরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে প্রস্তুত হচ্ছি। আর অবশ্যই আমরা ফাইনালে চোখ রাখছি।’
এশিয়া কাপের পর সেপ্টেম্বরের শেষদিকে এশিয়ান গেমস খেলতে জাপান যাবে টাইগ্রেসরা। এরপর অক্টোবরে ও ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফর করবে বাংলাদেশ। এ ব্যস্ত সূচিতে খুশি অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো খেলোয়াড়রা খুবই খুশি, কারণ আমরা সবসময় ক্রিকেটের সঙ্গে ব্যস্ত থাকতে চেয়েছি। আমাদের সামনে দুই ফরম্যাটেই অনেক ম্যাচ রয়েছে। সেই দিক বিবেচনা করে খেলোয়াড়দের ব্যস্ত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ফিট থাকতে হবে এবং দলের জন্য যে কোনো সময় প্রস্তুত থাকতে হবে।’ জুনে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে শেষ হওয়া নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে দুই ম্যাচে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।
একই কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে টাইগ্রেসরা। দুই সফরকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন জ্যোতি। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের দলের জন্য বড় একটি সুযোগ হয়ে দাঁড়াবে। আমরা সবসময় অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড বা ইংল্যান্ডের মতো কন্ডিশনে খেলার ইচ্ছা পোষণ করি। কেননা এখানে খেলতে পারলে খেলোয়াড়দের দক্ষতা বাড়ে। যেহেতু আমরা সমপ্রতি ইংল্যান্ডে খেলেছি এবং সেখানে ভালো পারফর্ম করেছি। তাই এই সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে তার একটি প্রভাব নিশ্চয়ই রয়েছে। তবে, আমি মনে করি বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় এখনো অনেক বাকি।’ ওই দুই সিরিজ নিয়ে আপাতত তেমন ভাবনা নেই জানিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘আমাদের সামনে পূর্বনির্ধারিত ব্যস্ততা রয়েছে এবং সেগুলোর ওপরই মনোযোগ দেয়াই ভালো। আমরা যদি সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে সেখানে যেতে পারি, তবে তা দলের জন্য ফলপ্রসূ হবে। এফটিপি (ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম)-এর অধীনে এখন প্রতিটি সিরিজই আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রতিটি সিরিজ থেকেই পয়েন্ট অর্জনের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।’ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুর দিকে ব্যাটিংয়ে সংগ্রাম করলেও নিজের ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে আশাবাদী শোনান জ্যোতি।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি প্রতিটি খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারেই উত্থান-পতন থাকে। সারাবছর একই রকম ব্যাটিং করা সম্ভব নয়। ব্যাটিংয়ে অনেক চাপ থাকে। মাঝখানে এক বা দুটি সিরিজ এমন গেছে যেখানে সবকিছু ভেঙে পড়েছিল অথবা আমি যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে খেলতে পারিনি। তবে আমি নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। আমার ম্যানেজমেন্ট এবং সতীর্থরা জানে আমার সামর্থ্য কতটুকু। আমি কেবল সেটিতেই আস্থা রেখেছি এবং অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি। হয়তো সবাই তা জানত না, তবে আমি আমার শক্তি অনুযায়ী ব্যাটিং করার চেষ্টা করেছি। যদি আরেকটু ভালো করতে পারতাম, হয়তো দলটিকে আরও ভালোভাবে সেবা দিতে পারতাম।’
