সরকারি কোষাগারে কোটি টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও

ফন্ট সাইজ:

রংপুরের কাউনিয়ায় প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারায় বরাদ্দের ৯৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের সিঙ্গামারি দোলায় ৪.৭ কিলোমিটার এবং হারাগাছ ইউনিয়নের ধুমনদীতে ৩.৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। গত ১২ই মে রংপরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন কাজের উদ্বোধন করেন। ৩০শে জুন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, প্রকল্পের সময় কম থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

৩০শে জুন পর্যন্ত ধুমনদী খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ৭৫ শতাংশ এবং সিঙ্গামারি দোলা পুনঃখনন প্রকল্পে ৪১ দশমিক ৯১ শতাংশ কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। খনন কাজ, শ্রমিকদের মজুরি, বৃক্ষরোপণ, পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয় পরিশোধ করে অব্যয়িত অর্থ ৯৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে। এদিকে, প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাদের মতে, বছরের পর বছর ভরাট হয়ে থাকা খালটির কারণে বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট দেখা দেয়। পুরো খাল পুনঃখনন হলে পানি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়তো এবং এলাকার পরিবেশ গত ভারসাম্য রক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়তো। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো সময় জুড়ে কাজের অগ্রগতি, ব্যয় ও গুণগত মান নিয়মিত তদারকি করেন কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. পাপিয়া সুলতানা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেজবাহুর রহমান বলেন, ‘সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। এ অর্থ ব্যয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ পরিচালনার চেষ্টা করেছি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় যে ৯৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৭ টাকা ব্যয় হয়নি তা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন