নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়তে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়তে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

ফন্ট সাইজ:

‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম জুড়ে ৩৩০০-এর বেশি সরকারি ভবনের ছাদ ও আঙিনায় মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। র‌্যালিটি সার্কিট হাউজ থেকে কাজীর দেউড়ি, চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাব ও রেডিসন ব্লু এলাকা প্রদক্ষিণ করে আবার সার্কিট হাউজে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে কোর্ট হিল, আইনজীবী ভবন হয়ে কার্যালয়ের ছাদ পর্যন্ত সরাসরি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামান, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম (বিপিএম), বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, চট্টগ্রামকে আরও পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক জেলায় পরিণত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ এ কর্মসূচিকে সফল করবে। জেলা প্রশাসক জানান, জেলার ১৩১টি সরকারি দপ্তরের ৪১৬টি ভবন, আটটি আবাসিক এলাকার ১০৮টি ভবন, উপজেলা পর্যায়ের ৪০৬টি ভবন এবং ২২৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ মোট ৩৩০০-এর বেশি ভবনে এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ভবনগুলোর ছাদ ও আঙিনা পরিষ্কার করা হবে এবং মাস জুড়ে প্রতিদিন ও প্রতি শনিবার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ জন্য প্রতিটি ভবনের পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরের চিত্র সংরক্ষণ এবং অপসারিত বর্জ্যের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, সুস্থ সমাজ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনেরও অন্যতম ভিত্তি। আগামী প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জাহিদুল ইসলাম মিঞা আরও বলেন, জোর করে নয়, বরং পরিচ্ছন্নতাকে মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক চট্টগ্রামের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন