জীবনযুদ্ধে বৃদ্ধ দম্পতির টিকে থাকার সংগ্রাম

জীবনযুদ্ধে বৃদ্ধ দম্পতির টিকে থাকার সংগ্রাম

ফন্ট সাইজ:

নূর মোহাম্মদ কালু (৭৫) ও তার স্ত্রী আবেদা (৬৯)। বয়সের ভার আর অসুস্থতায় ন্যুব্জ দু’জনই। একটি ঝুপড়ি ঘরে কোনো রকমে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার সংগ্রাম করছেন তারা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও একটু নিরাপদ আশ্রয় আর দু’মুঠো খাবারের স্বপ্ন যেন তাদের অধরাই রয়ে গেছে। বয়স্ক এই দম্পতি পান না কোনো সরকারি ভাতা, বঞ্চিত সরকারি চাল সহায়তাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকেও। পাড়া-প্রতিবেশীদের দেয়া চাল-ডালসহ খাদ্যসামগ্রী আর আর্থিক সহযোগিতায় কোনো রকমে দিন কেটে যাচ্ছে। নূর মোহাম্মদ কালু ও তার স্ত্রী আবেদার নীরব আর্তনাদ আর চোখের পানি হয়তো চাপা পড়ে যায় ঝুপড়ি ঘরেই। তাই তো তাদের অসহায়ত্বের খবর পৌঁছাচ্ছে না সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। এই বৃদ্ধ দম্পতি ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চতলা বাজার বড় ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। বৃদ্ধ নূর মোহাম্মদ কালু বলেন, আমাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি, ছেলেরাও বিয়ে করে নিজ নিজ পরিবার নিয়ে আলাদা থাকেন। ছেলেরা তেমন ভালো কোনো কাজ না করায় আমাদের প্রয়োজনমতো অর্থ দিতে পারে না। মাঝে মধ্যে মেয়ের জামাইও সহযোগিতা করে। তবে তাদের কারও পক্ষেই ভালো করে একটি ঘর তুলে দেয়ার সাধ্য নেই। তাই বাধ্য হয়েই ঝুপড়ি ঘরে থাকি। ঘরটি খুবই জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলে ভেতরে পানি পড়ে। তিনি আরও বলেন, এর আগে ছোট ছেলের ঘরে থাকতাম। তবে তার ঘরটিও জরাজীর্ণ এবং ছোট। ওই ছেলের স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে সেখানে আমাদের থাকতে সমস্যা হতো। তাই ছেলেরা এবং এলাকাবাসী মিলে চার বছর আগে এই ঘরটি তুলে দেয়। তখন কোনো রকমে থাকতে পারলেও এখন ঘরটিতে থাকার মতো অবস্থা নেই। একসময় নিজেই পরিশ্রম করে সংসার চালাতাম। কিন্তু প্রায় এক বছর ধরে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আর কোনো কাজ করতে পারছি না। এখন মানুষের সহযোগিতাতেই কোনোমতে এখন চলছি।

আমাদের স্বামী-স্ত্রী দু’জনেরই বয়স হয়েছে, তবুও সরকারি বয়স্ক ভাতা এবং খাদ্য সহায়তার চালও পাই না। এ ছাড়া, শারীরিকভাবে দু’জন অসুস্থ থাকায় প্রতি মাসে ওষুধই কিনতে হয় ৪ হাজার টাকার মতো। স্থানীয় বাসিন্দা মো. শান্ত করিম ও মো. রাকিব জানান, অসহায় এই বৃদ্ধ দম্পতির জন্য সরকারি যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তা প্রদানসহ একটি নিরাপদ বাসস্থান নির্মাণ করে দেয়া অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, অসহায় ওই দম্পতি ঘর পাওয়ার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানের সুপারিশসহ আবেদন করলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। আর বয়স্ক ভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন করে আমাদের কাছে জমা দিলে তাদের ভাতা প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া, তাদেরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে খাদ্য সহায়তার চাল প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন