সুনামগঞ্জের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মালিকানাধীন বেদখল হওয়া সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে সওজের কতো পরিমাণ জমি বর্তমানে অবৈধ দখলে রয়েছে এবং সেসব জমি উদ্ধারে কী ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী আদালতে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তির নিরঙ্কুশ দখল নিশ্চিত করা এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে এ নির্দেশ দেন সুনামগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাবিবুর রহমান চৌধুরী। গত রোববার ইস্যুকৃত এক দাপ্তরিক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন সময়ে ভূমি অধিগ্রহণ করা হলেও দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রশাসনিক জটিলতার সুযোগ নিয়ে একটি ভূমি দখলকারী চক্র সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল বা দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এসব ব্যক্তি দেওয়ানি আদালতে মামলা করে অবৈধ দখল বজায় রাখার চেষ্টা করে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে।
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তার নির্দেশনায় বলেন, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’সহ প্রচলিত আইন অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করা বা দখলের চেষ্টা করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। বিশেষ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তার পাশের জমিগুলোর আর্থিক মূল্য বেশি হওয়ায় বিভিন্ন ব্যক্তি নানা অজুহাতে এসব জমি দখল করে রেখেছে। এতে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও অনেক সময় প্রশাসনিক জটিলতা ও কর্মকর্তাদের বদলিজনিত কারণে যথাসময়ে আইনগত প্রতিকার নেয়া সম্ভব হয় না। এদিকে সুনামগঞ্জ পৌরবাসীর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে শহরের হাছনরাজার তোরণ থেকে আলফাত উদ্দিন স্কয়ার পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়ক দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ প্রায় ছয় মাস আগে শুরু হলেও প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ রয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সড়কের পাশের কিছু জমি অবৈধ দখলে থাকায় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজেও বিলম্ব হচ্ছে।
শহরের অন্যতম ব্যস্ত পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সড়ক খনন করে রাখা হয়েছে। গত জানুয়ারির শেষ দিকে চার লেন প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও একটি লেনের কাজও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। ফলে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং যানজটও লেগে থাকছে। সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, আদালতের বিচারকের চিঠি এখনো হাতে পাইনি। চিঠি পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
