ফুটবল বিশ্বে তখন গুঞ্জন, লিওনেল মেসির সঙ্গে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিতে পারেন ভোজিনহা। শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু হলো না। তবে চিলির সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ‘কোল-কোলো’-র সঙ্গে মৌখিক চুক্তি করেছেন কেপ ভার্দের এই গোলকিপার। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নবাগত দলটিকে বিশ্বমঞ্চে আলোয় নিয়ে আসেন তিনি। একের দুর্দান্ত সব সেভ দিয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম বড় তারকা বনে যাওয়া এই তারকা এখন নতুন ঠিকানায় পাড়ি জমাচ্ছেন।
টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হয় কেপ ভার্দে। সেই ম্যাচে দুর্দান্ত সাতটি সেভ করেন ভোজিনিয়া। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। রাতারাতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম সেনসেশন বনে যান তিনি। শেষ ৩২-এর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যায় কেপ ভার্দে। অতিরিক্ত সময়ে নির্ধারিত হয় সেই ম্যাচের ভাগ্য। রানার্সআপ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভোজিনিয়ার বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে।
চিলির বিখ্যাত ক্লাবটির সভাপতি আনিবাল মোসা এই চুক্তি নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি জানান, ‘ভোজিনহা কোল-কোলোরই খেলোয়াড় হতে চলেছেন।’ মোসা আরও বলেন, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি চিলিতে আসবেন। সেখানে তিনি প্রচলিত মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। এরপর এস্তাদিও মনুমেন্তালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে।’
বিশ্বকাপের আগে পর্তুগালের দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাব ‘শাফেস’ ছেড়ে দেন ভোজিনহা। ফ্রি-এজেন্ট হিসেবে বিশ্বকাপ খেলতে নামেন এই তারকা গোলকিপার। ভক্তদের ভোটে ফিফার ওয়ার্ল্ড কাপ ড্রিম একাদশেও জায়গা করে নেন তিনি। মাঠে তার রিফ্লেক্স ছিল দেখার মতো। যদিও অনেকের দাবি, ক্লাবটির বিশাল বাণিজ্যিক স্বার্থও এই চুক্তির পেছনে জড়িত রয়েছে।
৪০ বছর বয়সেও নিজের ফিটনেস ধরে রেখেছেন ভোজনিয়া। গোলবারের নিচে তিনি এক অপরাজেয় প্রাচীর। ইন্টার মায়ামিতে মেসির সতীর্থ হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে ঠিকই, তবে চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোল-কোলোর গোলবার সামলানোর নতুন চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন এই কেপ ভার্দে তারকা। বিশ্ব ফুটবলের এই রূপকথার নায়ক শুরু করতে যাচ্ছেন নতুন এক অধ্যায়।
