টানা তিনটি বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর চরম দুর্দিন পার করছে ইতালি। গত এপ্রিলে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে বাছাইপর্ব থেকেই ছিটকে পড়ে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এরপরই দায়িত্ব ছাড়েন প্রধান কোচ জেনারো গাত্তুসো। শূন্য আসনে উপযুক্ত উত্তরসূরি খুঁজে পেতে কোনো ছাড় দিতে নারাজ ইতালি ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি)। তবে জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই কোচকে প্রস্তাব দিলেও উভয়কেই ফিরিয়ে পেতে হলো প্রত্যাখ্যান। এফআইজিসি’র নতুন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনি নিশ্চিত করেন, তাদের প্রথম পছন্দ ছিলেন কার্লো আনচেলোত্তি।
এসি মিলানের এই কিংবদন্তি কোচ বলেন, ‘পেপের (গার্দিওলা) সঙ্গে কথা বলার আগে আমি আনচেলোত্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। আমাদের কাছে মনে হয়েছে বিশ্বের সেরা যাদের ভাবা হয়, তাদের দিয়েই শুরু করা উচিত। শুরুতেই তাদের সাধারণ আগ্রহ এবং তারা খালি আছেন কি না- সেটা যাচাই করে দেখা আমাদের দায়িত্ব ছিল।’ তবে ব্রাজিলের বর্তমান এই হেভিওয়েট কোচ ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছেন। ফলে স্বদেশি এই মাস্টারমাইন্ডকে পাওয়ার দুয়ার আপাতত বন্ধ। এরপর ইতালির নজর পড়ে স্প্যানিশ প্রফেশনাল পেপ গার্দিওলার দিকে। ম্যানচেস্টার সিটিতে সফল ১০ বছরে ১৭টি বড় ট্রফি জয়ের পর এ বছরের মে মাসে তিনি ক্লাবটি ছাড়েন। এফআইজিসি সভাপতি জিওভানি মালাগোর তথ্য মতে, গার্দিওলাকে দলে টানতে মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিকসহ শতভাগ স্বাধীনতার বিশাল সুযোগও অফার করা হয়। এমনকি মালদিনি বেতন-সংক্রান্ত জটিলতার গুজব উড়িয়ে দিয়ে জানান, গার্দিওলার ক্ষেত্রে আর্থিক দিকটি কোনো বাধাই ছিল না। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গতকাল গার্দিওলা ইতালি ফুটবল ফেডারেশনকে তার নেতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন।
ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি কিছুদিন ফুটবল থেকে দূরে থেকে বিশ্রাম নেয়া, পরিবারকে সময় দেয়া এবং ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আনচেলোত্তি ও গার্দিওলার প্রত্যাখ্যানে ইতালি এখন বড় সংকটে। এফআইজিসি’র প্রধান লক্ষ্য- আগামী ২০৩২ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে ইতালি ফুটবলকে নতুন করে ঢেলে সাজানো। তবে এর আগে সামনে আছে নেশনস লীগের কঠিন মিশন এবং ইউরো-২০২৮ এর বাছাইপর্ব। সে লক্ষ্যে সাবেক ইউরো বিজয়ী রবার্তো মানচিনি এবং দুবাইভিত্তিক ইউনাইটেড এফসি’র দায়িত্বে থাকা ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী আন্দ্রেয়া পিরলোর নাম আলোচনায় উঠে আসছে। বর্তমানে পিরলোকেই এই দায়িত্বের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।
