প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের পর অনুষ্ঠিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা প্রেসিডেন্টের মর্যাদায় প্রেসিডেন্টকে দেখতে চাই। কোনো তোষামুদকারীকে দেখতে চাই না। যার যার জায়গায় সবাই সম্মানিত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত। তারা অন্য কারও কাছে মাথানত করে দায়িত্বপালন করবেন না। শুক্রবার সন্ধ্যায় মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় দেশ থেকে স্বৈরাচারের একটি কালো ছায়া সরে গেছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের সুস্বাস্থ্য কামনা করি। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। এর মধ্যেই সংসদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে এবং স্বাভাবিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে বলে আশা করি। সময় হলে এ বিষয়ে আমাদের ভূমিকা সবাই দেখতে পাবেন।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এ অবস্থায় ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন। যথাসময়ে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন। তারা দায়িত্ব গ্রহণের সময় যে শপথ নিয়েছেন, সেই শপথের ভিত্তিতেই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন। এখানে কোনো সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়। আমরা চাই, দেশে কোনো ধরনের সাংবিধানিক সংকট তৈরি না হোক।
তিনি আরও বলেন, জনগণের মৌলিক প্রত্যাশা ছিল একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ। কিন্তু নবগঠিত সংসদ এখনো সেই প্রত্যাশার দিকে পা বাড়ায়নি। আমরা সংসদের ভেতরে ও বাইরে অব্যাহতভাবে আমাদের রাজনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমীর বলেন, যদি কোনো ধরনের ক্রেডিবল কোন আলামত পাওয়া যায়, তাহলে কোন ব্যক্তিই আইনের উর্ধে নন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি প্রেসিডেন্ট পদে একাধিক প্রার্থী থাকেন, তাহলে সংসদে ভোটের মাধ্যমে একজন নির্বাচিত হবেন। আমরা এমন একজন প্রেসিডেন্ট চাই, যিনি তার সাংবিধানিক মর্যাদা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করবেন, কোনো তোষামুদকারী হবেন না।
তিনি বলেন, যার যার দায়িত্বের জায়গায় সবাই সম্মানিত। একজন অফিস সহায়ক (পিয়ন) পর্যন্ত তার দায়িত্ব মর্যাদার সঙ্গে পালন করেন। কেউ কারও নির্দেশে নয়, নীতি ও বিধি অনুযায়ী কাজ করবেন। একইভাবে যিনি প্রেসিডেন্ট হবেন, তিনি রাষ্ট্রের সংবিধান ও নীতির আলোকে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি যেন কারও কাছে নিজের বিবেক সমর্পণ না করেন-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
প্রেসিডেন্টের চিকিৎসা প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রেসিডেন্ট অসুস্থ-এ তথ্য আমরা তার পদত্যাগপত্র থেকেই জেনেছি। তিনি চিকিৎসা নিতে চান, বিষয়টি সরকার দেখবে, আমরাও খোঁজ রাখব। আমার বিশ্বাস, দেশের মধ্যেই সব ধরনের চিকিৎসা সম্ভব। আমার নিজেরও একসময় জটিল রোগ হয়েছিল। চিকিৎসকেরা বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও আমি দেশে থেকেই চিকিৎসা নিয়েছি। আমি চাই, সবাই দেশে চিকিৎসা নিক। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও আনা যেতে পারে।
