চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির ফুটবলে এখন যেন চরম দুর্দিন! টানা তৃতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে সুযোগ পেতে ব্যর্থ হওয়ার পর ফাঁকা পড়ে আছে জাতীয় দলের কোচের পদ। তবে এই শূন্যস্থান পূরণে কোনো ছাড় দিতে নারাজ ইতালি ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি)। পেপ গার্দিওলার সঙ্গে যোগাযোগ করার আগে তাদের প্রথম পছন্দ ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ও ব্রাজিলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলোত্তি।
সম্প্রতি ইতালির নতুন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর এবং ক্লাব কিংবদন্তি পাওলো মালদিনি এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তিনি জানান, জাতীয় দলের দায়িত্বে বিশ্বের সেরা কোচদেরই আনতে চান তারা। এসি মিলানের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার মালদিনি বলেন, ‘পেপের (গার্দিওলা) সঙ্গে কথা বলার আগে আমি কার্লো আনচেলোত্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। আমাদের কাছে মনে হয়েছে বিশ্বের সেরা যাদের ভাবা হয়, তাদের দিয়েই শুরু করা উচিত। শুরুতেই তাদের সাধারণ আগ্রহ এবং তারা খালি আছেন কি না, সেটা যাচাই করে দেখা আমাদের দায়িত্ব ছিল।’
অবশ্য ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়েছেন আনচেলোত্তি। ফলে এই স্বদেশি মাস্টারমাইন্ডকে পাওয়া ইতালির জন্য সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটিতে সফল ১০ বছর কাটানোর পর দল ছাড়ায় পেপ গার্দিওলাকে কোচ করার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রাখছে ইতালি। যদিও গুঞ্জন ছিল স্প্যানিশ এই কোচ বছরে ২০ মিলিয়ন ইউরো পারিশ্রমিক দাবি করেছেন, যা ইতালির বাজেটের দ্বিগুণ। তবে মালদিনি এই তথ্যকে স্রেফ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘পেপের ক্ষেত্রে আর্থিক বিষয় বা পারিশ্রমিক মোটেও কোনো বাধা বা বড় বিষয় নয়।’
গত এপ্রিলে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকে বাদ পড়ার পর ইতালি। এর পরপর কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান জেনারো গাত্তুসো। বর্তমানে আনচেলোত্তি খালি না থাকায় গার্দিওলার পাশাপাশি সাবেক ইউরো বিজয়ী কোচ রবার্তো মানচিনি এবং ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ম্যাজিশিয়ান আন্দ্রেয়া পিরলোর নামও আলোচনায় রয়েছে। আগামী ২০৩২ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে পুরো ইতালি ফুটবলকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর মাস্টারপ্ল্যান নিয়েছে ফেডারেশন।
