যুক্তরাষ্ট্রের টানা ১৩তম রাতের হামলা, পাল্টা জবাব ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের টানা ১৩তম রাতের হামলা, পাল্টা জবাব ইরানের

ফন্ট সাইজ:

ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় টানা ১৩তম রাতের মতো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সম্পন্ন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তেহরানের সামরিক শক্তি খর্ব করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এই হামলার ফলে খোররামাবাদ, জাস্ক, অহওয়াজ এবং বন্দর আব্বাসসহ ইরানের একাধিক শহরে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে যে অহওয়াজ শহরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

মার্কিন আক্রমণের জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনীও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তেহরান দাবি করেছে যে তারা বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমান ঘাঁটি এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোনের সাহায্যে আক্রমণ চালিয়েছে। এসব হামলায় মার্কিন সেনাসদস্যদের থাকার জায়গা, অস্ত্রাগার এবং জ্বালানি ডিপো লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়। অপর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরান এখনও পর্যাপ্ত আঘাত পায়নি এবং তিনি দেশটিতে আরও বড় ধরনের ও ভয়াবহ সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ট্রাম্প আরও বলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা বাজেয়াপ্ত ইরানি তহবিল থেকেই তাদের হামলায় জাহাজের যেকোনো ক্ষতির মাশুল আদায় করা হবে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, কোনো দেশের বাজেয়াপ্ত সম্পদ আটকে রাখা বিশ্বজুড়ে এক বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে। এদিকে সংঘাত বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজের চলাচল দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস হলেও সিনেটে তা আটকে দেয়া হয়। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট এবং লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক অচলাবস্থা মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন