গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিনিধিত্বের একমাত্র বৈধ উৎস হলো জনগণের সার্বভৌম ম্যান্ডেট। তবে জনগণ এই ম্যান্ডেট কখনো সরাসরি কোনো ব্যক্তির প্রতি, আবার কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের আদর্শ, কর্মসূচি ও প্রতীকের প্রতি আস্থা প্রকাশের মাধ্যমে প্রদান করে। ফলে প্রতিনিধিত্বের উৎস অভিন্ন হলেও, সেই ম্যান্ডেটের ভিত্তি, প্রকাশের ধরন এবং সাংবিধানিক তাৎপর্য সব ক্ষেত্রে এক নয়।
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য প্রধানত দুইভাবে নির্বাচিত হতে পারেন-
(১) রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন ও প্রতীকে এবং
(২) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী জনগণের ব্যক্তিকেন্দ্রিক ম্যান্ডেটের ধারক; পক্ষান্তরে দলীয় প্রার্থী জনগণের সমষ্টিগত রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের ধারক।
দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেয়ার অর্থ কেবল একজন ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা নয়; বরং সেই দলের আদর্শ, নির্বাচনী ইশতেহার, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রতীককেও জনগণের অনুমোদন প্রদান করা।
এই সমষ্টিগত ম্যান্ডেটের দর্শনের ওপরই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এখানেই একটি মৌলিক সাংবিধানিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়Ñযদি একজন সদস্য স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্যপদ শূন্য হয়, তাহলে দল কর্তৃক বহিষ্কৃত হলে একই ম্যান্ডেটের সাংবিধানিক পরিণতি কী হবে?
এই প্রশ্নের উত্তর কেবল সংবিধানের আক্ষরিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন উদ্দেশ্যভিত্তিক সাংবিধানিক ব্যাখ্যা।
সাংবিধানিক শূন্যতা ও প্রতিনিধিত্বের সংকট: সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের মূল উদ্দেশ্য ছিল জনগণের দেয়া দলীয় ম্যান্ডেটকে অক্ষুণ্ন রাখা এবং নির্বাচিত সদস্যকে দলীয় পরিচয়ের বাইরে ব্যক্তিগত ক্ষমতার ভিত্তিতে অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ না দেয়া। কিন্তু এখানেই একটি সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
একজন সদস্য নিজ ইচ্ছায় দলত্যাগ করলে যদি আসন শূন্য হয়, তাহলে দল যখন কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করে এবং ঘোষণা করে যে, তিনি আর দলের প্রতিনিধি নন, তখন তিনি কীভাবে সেই দলের প্রতীক ও রাজনৈতিক পরিচয়ে সংসদে বহাল থাকবেনÑএই প্রশ্নের একটি সুস্পষ্ট সাংবিধানিক উত্তর প্রয়োজন।
কারণ, স্বেচ্ছায় দলত্যাগ এবং দলীয় বহিষ্কার-উভয় ক্ষেত্রেই সদস্যের সঙ্গে দলের রাজনৈতিক সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে। তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। স্বেচ্ছায় দলত্যাগ এবং দলীয় বহিষ্কার একই প্রকৃতির ঘটনা নয়।
একজন সদস্য যখন নিজে দলত্যাগ করেন, তখন এটি তার স্বাধীন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তিনি নিজের বিবেক, রাজনৈতিক অবস্থান ও নৈতিক বিবেচনার ভিত্তিতে ঘোষণা করেন যে, তিনি আর পূর্ববর্তী দলের পরিচয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে চান না।
কিন্তু বহিষ্কারের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি সদস্যের নয়; বরং একটি সাংগঠনিক কর্তৃপক্ষের। ফলে সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা ভিন্নমত দমনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
এ কারণেই দলত্যাগ ও বহিষ্কারকে একই সাংবিধানিক মানদণ্ডে বিচার করা যায় না।
দলীয় বহিষ্কার এবং জনগণের ম্যান্ডেট: গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দল জনগণের ম্যান্ডেট অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম; কিন্তু সেই ম্যান্ডেট কোনো দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। দল জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার বাহক; মালিক নয়।
অতএব, দলীয় বহিষ্কারকে এমন কোনো ক্ষমতায় পরিণত করা যাবে না, যার মাধ্যমে দলীয় নেতৃত্ব ইচ্ছামতো জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির সংসদ সদস্যপদ বাতিল করতে পারে।
এখানেই Natural Justice বা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি প্রযোজ্য হয়। কারণ, বহিষ্কারের ক্ষেত্রে শুধু সদস্যের আচরণ নয়, বহিষ্কারকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তও ন্যায়সংগত ও বৈধ ছিল কিনা, সেটিও বিবেচনার বিষয়।
কোনো সদস্যকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ ছাড়া অথবা কেবল রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে বহিষ্কার করা হলে, সেই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেটকে অকার্যকর করা সাংবিধানিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।
অতএব, দলীয় বহিষ্কারকে সংসদ সদস্যপদ শূন্য হওয়ার স্বয়ংক্রিয় কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। বরং এটি হবে একটি প্রাথমিক সাংবিধানিক ঘটনা, যার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করবে- বহিষ্কারটি বৈধ, ন্যায়সংগত এবং জনগণের ম্যান্ডেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা।
নৈতিক স্খলন ও বস্তুনিষ্ঠ শৃঙ্খলাভঙ্গ: এই দ্বন্দ্বের সমাধানের জন্য বহিষ্কারের কারণকে দু’টি ভাগে বিবেচনা করতে হবে। প্রথমত, যদি কোনো সদস্য দুর্নীতি, জালিয়াতি, ফৌজদারি অপরাধ বা গুরুতর নৈতিক স্খলনের সঙ্গে যুক্ত হনÑতাহলে তার সংসদ সদস্যপদ পুনর্বিবেচনার জন্য সাংবিধানিক বা বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করার যথেষ্ট ভিত্তি তৈরি হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, যদি বহিষ্কারের কারণ হয় দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের সমালোচনা, নীতিগত ভিন্নমত, রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য বা অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের দাবি-তাহলে সেই বহিষ্কার জনগণের ম্যান্ডেট বাতিল করার বৈধ ভিত্তি হতে পারে না।
কারণ, গণতন্ত্রে দলীয় আনুগত্য মানে অন্ধ আনুগত্য নয়। একটি রাজনৈতিক দলের ভেতরেও মত প্রকাশ, বিতর্ক ও বিবেকের স্বাধীনতার স্থান থাকতে হবে।
কারণ, যদি দলীয় বহিষ্কার সংসদ সদস্যপদ বিলুপ্তির কারণ হয়, তাহলে দলীয় গঠনতন্ত্র, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং বহিষ্কারের প্রক্রিয়াও সাংবিধানিক পর্যালোচনার অধীন হতে হবে।
একটি রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম; কিন্তু সে কারণে দল গণতন্ত্রের ঊর্ধ্বে অবস্থান করতে পারে না। দলীয় গণতন্ত্র সাংবিধানিক গণতন্ত্রেরই একটি অপরিহার্য অংশ।
অতএব, কোনো দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত যদি জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির সাংবিধানিক মর্যাদা বিলুপ্ত করার মতো প্রভাব সৃষ্টি করে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা, ন্যায়সঙ্গতা ও উদ্দেশ্য স্বাধীন পর্যালোচনার আওতায় আসা আবশ্যক।
স্বাধীন সাংবিধানিক পর্যালোচনা: দলীয় বহিষ্কারের পর সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকবে কিনা, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোনো রাজনৈতিক দলের একক ক্ষমতার ওপর ছেড়ে দেয়া যায় না।
এর জন্য একটি স্বাধীন সাংবিধানিক বা বিচারিক ব্যবস্থার প্রয়োজন, যা নিরপেক্ষভাবে তিনটি বিষয় পরীক্ষা করবে-
১. প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচার
সদস্যকে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে কিনা, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়েছে কিনা এবং বহিষ্কারের প্রক্রিয়া ন্যায্য ও স্বচ্ছ ছিল কিনাÑতা পরীক্ষা করতে হবে।
২. অভিযোগের প্রকৃতি
বহিষ্কারের ভিত্তি কি দুর্নীতি, অপরাধ বা গুরুতর নৈতিক স্খলনের মতো বিষয়, নাকি কেবল রাজনৈতিক মতপার্থক্য, ভিন্নমত বা নীতিগত অবস্থানের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছেÑতা বিবেচনা করতে হবে।
৩. সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য
বহিষ্কারটি কি প্রকৃত সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য করা হয়েছে, নাকি ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, ক্ষমতার অপব্যবহার বা ভিন্নমত দমনের উদ্দেশ্যে করা হয়েছেÑতা নির্ধারণ করতে হবে।
শুধুমাত্র স্বাধীন কর্তৃপক্ষ যদি নিশ্চিত হয় যে, বহিষ্কারটি বৈধ, ন্যায়সঙ্গত এবং গুরুতর নৈতিক বা সাংগঠনিক কারণে সংঘটিত হয়েছে, তখনই সংসদ সদস্যপদ শূন্য করার প্রশ্ন বিবেচনায় আসতে পারে।
দলীয় ও স্বতন্ত্র সদস্যের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক সমতার প্রশ্ন: বর্তমান ব্যবস্থায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সমস্যা রয়েছে-দলীয় সংসদ সদস্য এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের জবাবদিহির ক্ষেত্রে একটি মৌলিক বৈষম্য।
একজন দলীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অনৈতিকতার অভিযোগ উঠলে রাজনৈতিক দল অনেক সময় দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু আদালতের চূড়ান্ত বিচার বা নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত ও সাংবিধানিক জটিলতার কারণে সংসদ সদস্যপদ হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
অন্যদিকে, একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রে এমন কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেই। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলেও, রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সক্রিয় না হলে বা আইনি প্রক্রিয়া শুরু না হলে অনেক সময় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না।
ফলে একই ধরনের অনৈতিকতার অভিযোগে একজন দলীয় সদস্য তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হন, অথচ একজন স্বতন্ত্র সদস্য প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা বা আইনি প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ার কারণে জবাবদিহির বাইরে থেকে যেতে পারেন।
এটি সংবিধানের মৌলিক নীতি-আইনের দৃষ্টিতে সমতা (অনুচ্ছেদ ২৭) এবং আইনের সুরক্ষা ও ন্যায়সংগত আচরণের নিশ্চয়তা (অনুচ্ছেদ ৩১)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কারণ, একজন সংসদ সদস্যের জবাবদিহি নির্ধারিত হওয়া উচিত তার অপরাধ বা নৈতিক বিচ্যুতির ভিত্তিতে; তিনি দলীয় পরিচয়ে নির্বাচিত নাকি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিতÑতার ভিত্তিতে নয়।
জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রত্যেক প্রতিনিধি সমান সাংবিধানিক মর্যাদার অধিকারী। একজন অপরাধ করেও রাজনৈতিক সুরক্ষা পাবেন এবং অন্যজন দলীয় পরিচয়ের কারণে বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই পদ হারাবেন-এ ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড গণতান্ত্রিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে অসঙ্গত।
উত্তরণের সাংবিধানিক পথ: এই বৈষম্য দূর করতে হলে সংসদ সদস্যদের জবাবদিহির জন্য একটি অভিন্ন ও নিরপেক্ষ কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
দলীয় বহিষ্কার বড়জোর একটি প্রাথমিক সাংবিধানিক ঘটনা (ঞৎরমমবৎরহম ঊাবহঃ) হতে পারে; কিন্তু সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকবে কিনা, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে একটি স্বাধীন সাংবিধানিক বা বিচারিক কর্তৃপক্ষকে।
একইভাবে, দলীয় বা স্বতন্ত্র- যেকোনো সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর নৈতিক অনাচারের বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে, সংসদ সদস্যদের আচরণবিধি, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণের জন্য সংসদে একটি নীতিশাস্ত্র কমিটি (চধৎষরধসবহঃধৎু ঊঃযরপং ঈড়সসরঃঃবব) গঠন করা যেতে পারে। এই কমিটিকে প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তদন্তের ক্ষমতা প্রদান করতে হবে, যাতে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক সংসদ সদস্যের জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। মামলা না হওয়া বা প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে কেউ যেন নৈতিক জবাবদিহির বাইরে থাকতে না পারেন।
সংবিধান ও আইনের শাসন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়।
জনগণের ম্যান্ডেট, দলীয় শৃঙ্খলা: দলীয় শৃঙ্খলা যেমন গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বের একটি অপরিহার্য উপাদান, তেমনি জনগণের সার্বভৌম ম্যান্ডেটও তার চেয়ে উচ্চতর সাংবিধানিক মূল্যবোধ।
কোনো রাজনৈতিক দল জনগণের ম্যান্ডেটের একচ্ছত্র মালিক হতে পারে না; আবার কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি জনগণের আস্থাকে ব্যবহার করে দলীয় পরিচয় ও নৈতিক দায়বদ্ধতা অস্বীকারও করতে পারেন না।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি কেবল নির্বাচনের মধ্যেই নিহিত নয়; বরং এমন একটি সাংবিধানিক ব্যবস্থায় নিহিত, যেখানে জনগণের ম্যান্ডেট কোনো দলীয় স্বৈরাচারের হাতে বন্দি হয় না এবং কোনো প্রতিনিধি জনগণের আস্থার ঊর্ধ্বেও অবস্থান করতে পারেন না।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের পুনর্বিবেচনা: সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রকৃত উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দলীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা নয়; বরং জনগণের রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতিনিধিত্বকে সুরক্ষা দেয়া।
তাই ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক সংস্কারে ৭০ অনুচ্ছেদকে এমনভাবে পুনর্গঠন করতে হবে, যাতে জনগণের সার্বভৌম ম্যান্ডেট, দলীয় শৃঙ্খলা, প্রতিনিধির স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক ন্যায়বিচারের মধ্যে একটি স্থায়ী ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
লেখক: গীতিকবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
faraiæ[email protected]
