রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান

ফন্ট সাইজ:

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়। এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত একটি রাজনৈতিক বিষয়।

যার সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই হতে হবে। গতকাল ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) ৩৩তম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংলাপ, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এই বৈঠকের ফাঁকে গতকালও চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন ড. খলিলুর রহমান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল ভারত, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা ক্যালাসের সঙ্গে শুভেচ্ছা সাক্ষাৎ করেছেন ড. খলিল। তার সঙ্গে প্রতিটি বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে ১৩ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। দীর্ঘস্থায়ী এ সংকটের কারণে বাংলাদেশ মাদক পাচার, মানব পাচার এবং অবৈধ অস্ত্রের বিস্তারের মতো নানা আন্তঃসীমান্ত অপরাধের মুখোমুখি হচ্ছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা পরিস্থিতির কারণে রাষ্ট্রহীন নয়, পরিকল্পিতভাবেই তাদের রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা, যার সমাধানও রাজনৈতিক হতে হবে। তিনি এআরএফভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।

ভারত, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক: ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান রিজিওনাল ফোরাম (এআরএফ)-এর ফাঁকে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি ইইউ’র পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও ড. খলিলের বৈঠক হয়েছে।

এ বৈঠকে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক আরও জোরদার করা, বাণিজ্য সমপ্রসারণ, জাতিসংঘের সংস্কার, বহুপাক্ষিকতা শক্তিশালী করা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের অব্যাহত সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

এআরএফ সম্মেলনের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শীর্ষ আন্তর্জাতিক নেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করছেন। ইইউ’র ভাইস প্রেসিডেন্টের আগে তিনি অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়াং, সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণন এবং শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এ ছাড়া ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন