সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ণিমাগাঁতীতে অবস্থিত উল্লাপাড়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভতিকৃর্ত রোগীদের খাবার ও তার মান নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে সরকারি ডায়েট চার্ট অনুযায়ী রোগীদের ২৩২ গ্রাম সোনালী বা দেশি মুরগির মাংস দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেয়া হচ্ছে মাত্র ১৭ থেকে ৩২ গ্রাম ব্রয়লার মুরগির মাংস। এতে রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত সকালের নান্তা, দুপুর ও রাতের খাবার নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ডায়েট তালিকায় ভর্তি রোগী ৪৩ জন। কিন্ত সেই ৪৩ জনের জায়গায় ৪৯ জন রোগীর খাবার বরাদ্দ দেখান ঠিকাদার। ৪৩ জন রোগীর বিপরীতে ৪৯ জনের খাবার রান্নার এক অভিনব হিসাব চলছে এখানে দীর্ঘদিন ধরে। প্রকৃত পক্ষে রান্নার সময় তিনি ৪৩ জনের খাবার রান্না করেন। বাকী ৬ জনের খাবারের রান্না না করেই তার বিল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগসাজসে উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারা করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এতে করে একদিকে খাবারের অনিয়ম আর অন্যদিকে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন হচ্ছে রোগীদের মধ্যে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা একাধিক রোগী অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের খাবার খাওয়ার মতো নয়। মাংস বলতে শুধু একটুকরো হাড় । তার সাথে মাংস নাই বললেই চলে।
খাবার রান্নার দায়িত্বে থাকা বাবুর্চি আব্দুল মজিদ বলেন, অফিস থেকে যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়, আমি সেভাবেই রান্না করি। মাছ মাংস যেভাবে কাটতে বলা হয়, সেভাবেই কেটে দিই। আমি শুধু নির্দেশ পালন করি। অন্য কিছু আমার দেখার বা বলার অধিকার নেই।
এ ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে ঠিকাদার শহিদুল ইসলামকে বার বার মোবাইল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মনোয়ার হোসেন বলেন, হাসপাতালের খাবারের বরাদ্দ ও মান তদারকির দায়িত্বের জন্য একটি কমিটি রয়েছে। খাবারের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ায় ইতোপূর্বে ঠিকাদারকে একাধিকবার লিখিত নোটিশ দেয়া হয়েছে। তাতেও কোন কাজ হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষকে জানানো হবে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কবে নাগাদ ব্যবস্থা গ্রহন করবে এবং তার দৃশ্যমান বাস্তবতা দেখার জন্য কতদিন অপেক্ষায় থাকতে হবে রোগী, তাদের স্বজন ও স্থানীয়দের এমনটিই এখন প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
