জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তে নতুন তথ্যের ভিত্তিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেনকে দুই দিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এর আগে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে একটি মিসকেসে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তারা অনুসন্ধান চালিয়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও তার ব্যক্তিগত সহকারীর সঙ্গে ‘ঝন্ডু’ নামে এক ব্যক্তির কথোপকথনের তথ্য পান। পরে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই ব্যক্তি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন।
তিনি বলেন, ‘তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের সময়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও মোজাফফর হোসেনের মধ্যে একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল। এছাড়া ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তিনি একাধিকবার পার্শ্ববর্তী দেশে যাতায়াত করেছেন এবং বাংলাদেশে আত্মগোপনে থেকে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তদন্তে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।’
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘তদন্তে জানা গেছে, মোজাফফর হোসেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যা মামলারও পলাতক আসামি। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন এবং সেনা আইনে তার বিরুদ্ধে পৃথক কার্যক্রম চলমান।’
তিনি জানান, এ অবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেন। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল শাখা তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে। পরে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল তাকে দুই দিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজন অনুযায়ী টানা দুই দিন অথবা পৃথক দুই দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে মোজাফফর হোসেনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নির্দিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তারের বাধ্যবাধকতা নেই। কাউকে মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ হলে মিসকেসের মাধ্যমে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।’
