দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচার দাবি

চিফ প্রসিকিউটরের কাছে ১১-দলীয় ঐক্যের স্মারকলিপি

ফন্ট সাইজ:

জুলাই ২০২৪-এর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ১১-দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে দেয়া ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অ্যাক্ট, ১৯৭৩ অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, খুন, ভোটাধিকার হরণ, অপশাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমে ওঠে। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে। আন্দোলনের সময় ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, প্রাণহানি, গুরুতর নির্যাতন ও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, অপরাধের প্রকৃত সত্য উদঘাটন, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।

এতে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জুলাইয়ের প্রধান প্রধান ঘটনাস্থলের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দ্রুত শেষ করা। তদন্তে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আইনের আওতায় আনা। ঢাকা, রংপুর ও কুষ্টিয়ার বাইরে সংঘটিত ঘটনাগুলোর তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা। তদন্তে জড়িত হিসেবে প্রমাণিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গণহত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধকে সমর্থন বা বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত করার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া। গুম ও গুম-পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দ্রুত শেষ করা এবং গুম-সংক্রান্ত সব মামলার বিচার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, অভিযোগ রয়েছে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬১ জেলায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তবে এখনো অনেক জেলার তদন্ত শেষ হয়নি। ফলে বহু অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তাই সব জেলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গুম-সংক্রান্ত মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে ধীরগতির কারণে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাই তদন্ত দ্রুত সম্পন্নের পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে শহীদ পরিবারের পক্ষে স্বাক্ষর করেন শহীদ যাবের ইব্রাহিমের মা ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম। ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। স্মারকলিপির অনুলিপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছেও দেয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন