লোহিত সাগরে ২ টি তেলের ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারী বুধবার বলেন, আমরা সৌদির ২টি তেলের ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছি। আক্রান্ত জাহাজগুলোর নাম হলো ইনসেলিয়া ও লায়লা। অস্ত্রধারী হুতি গোষ্ঠীর অবরোধের সিদ্ধান্ত না মানায় এই হামলা চালানো হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। সৌদির বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ইনসেলিয়া আক্রান্ত হয়েছে। সৌদির সমুদ্র চলাচল বিষয়ক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এই ধরণের আক্রমণ আর্ন্তজাতিক আইনের লঙ্ঘন। বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলের যে বৈশ্বিক নিয়ম তার গুরুতর ব্যাঘাত ঘটেছে এই ঘটনায় বলে জানায় এসপিএ।
অপরদিকে সারী বলেন, হামলায় একাধিক ব্যালিস্টিক এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা ড্রোনও ব্যবহার করেছে। এতে জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। সারী আরো বলেন, প্রায় ১০টি জাহাজকে বলপূর্বক পথ পরিবর্তনে বাধ্য করেছে তারা। এতে জাহাজগুলো পথ বদলে পিছু ফিরে যায়। বৃটেনের সমুদ্র চলাচল বিষয়ক সংস্থা (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, তারা ট্যাংকার আটকে থাকার বার্তা পেয়েছে। হুতি বিদ্রোহীরা ২০ জুলাই সৌদি আরবের উপর অবরোধ ঘোষণা করে। এর আগে সানা বিমানবন্দরে হামলা চালায় ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকার। ইরানের একটি উড়োজাহাজ অবতরণে বাধা দিতে তারা এই হামলা চালায়।
জবাবে হুতিরা অবরোধ ঘোষণা করে। এটিকে তারা চোখের বদলে চোখ বলে উল্লেখ করেছে। ২০১৪ সালে ইয়েমেনের সানা দখল করে হুতিরা। এরপর থেকেই তারা সৌদির বিরুদ্ধে ১২ বছর যাবৎ অবৈধভাবে অবরোধ জারি রাখার অভিযোগ করেছে। সানার আল জাজিরার সাংবাদিক হুসাইন আল বুখাইতি বলেন, সৌদি আরব মনে করে এভাবে অর্থনৈতিক অবরোধের ফলে সানায় হুতিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হবে এবং গোষ্ঠীটির পতন হবে। এর আগে ২০২৫ সালে হুতিদের সঙ্গে চুক্তি করতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র। হুতিরা লোহিত সাগর আটকে দিতে পারে বাব এল মান্দেব প্রণালিতে অবরোধের মাধ্যমে। বাব এল মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে। এটি বিশ্ব বাণিজ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। ২০২৪ সালে এই পথ দিয়ে ৪১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি পরিবহণ করা হয়। যা বিশ্বের মোট জ্বালানির ৫ ভাগ।
সুয়েজ খাল ব্যবহার করা জাহাজগুলোকে এই পথ অতিক্রম করতে হয়। ইয়েমেন, জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার হর্ন অব আফ্রিকার মাঝে এই প্রণালির সবচেয়ে সংকুচিত জায়গাটি অবস্থিত, যার প্রস্থ মাত্র ২৯ কিলোমিটার। হরমুজ প্রণালির পর এই জলপথটিও বন্ধ হলে বিশ্বের ২৫ ভাগ জ্বালানি পরিবহণ থমকে যাবে যা সারা বিশ্বকে আরো সংকটে ফেলে দিতে পারে।
