দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ধরনের সংকট নেই। বর্তমানে ৩১ দিনের ডিজেল, ৩৬ দিনের অকটেন, ২০ দিনের পেট্রোল, ২০ দিনের জেট ফুয়েল ও ২৫ দিনের ফার্নেস অয়েল মজুত রয়েছে। গতকাল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জরুরি ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী। বলেন, দু’একটি গণমাধ্যমে জ্বালানি তেলের সংকটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যুগ্ম সচিব বলেন, আগামী ৩১শে জুলাইয়ের মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজার এবং আগস্টে ২ লাখ ৪০ হাজার টন ডিজেল আসবে। সবমিলিয়ে জ্বালানি পণ্যের কোনো ধরনের সংকট নেই। তিনি বলেন, দেশে প্রতিদিন প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এরমধ্যে প্রতিদিন সরবরাহ করা যায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সেদিক থেকে কিছুটা ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরে আছে। তবে গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে অনেকদিন কাজ হয়নি। নতুন সরকার আসার পর থেকে এই কাজ এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, একটি এফএসআরইউতে (এলএনজি’র ভাসমান টার্মিনাল) যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ফলে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। যে কারণে সিএনজি স্টেশনগুলোতে কিছুটা লাইন দেখা গেছে। তবে ত্রুটি মেরামত চলছে, আগামী ২ দিনের মধ্যে সমাধান হবে বলে আশা করছি। সিএনজি স্টেশনে সংকট খুবই সাময়িক, এটি থাকবে না। জ্বালানি তেল আমদানি ইস্যুতে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুধু ক্রুড অয়েল আসে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর রেড সি দিয়ে আমদানি করা হচ্ছে। রেড সি-ও বন্ধ হলে সে ক্ষেত্রে বিকল্প রুটও ভাবছে বাংলাদেশ।
ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটিতে গ্যাস সরবরাহ কমেছে: গতকাল জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে কারিগরি সমস্যা দেখা দেয়ায় সংশ্লিষ্ট টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। সরবরাহ হ্রাসের প্রভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনসহ অন্যান্য গ্রাহকের ওপর পড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস গ্রহণ করতে পারছে না। ফলে কয়েকটি স্থানে সিএনজি সংগ্রহে দীর্ঘ সারি ও সাময়িক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এফএসআরইউর কারিগরি সমস্যা দ্রুত নিরসন করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সীমিত সরবরাহের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জরুরি ও অগ্রাধিকার খাতগুলোতে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে।
বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এফএসআরইউ’র কারিগরি সমস্যা হলেও দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া আমদানিনির্ভরতা এ পরিস্থিতির প্রভাবকে আরও তীব্র করেছে। বিগত সময়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দেয়ায় আমদানিকৃত এলএনজি’র ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে আমদানি অবকাঠামোর কোনো একটিতে সমস্যা দেখা দিলে জাতীয় গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা চাপের মধ্যে পড়ে। সরকার আমদানিনির্ভরতা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর সভায় বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এলাকায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি কূপ খননের একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারের লক্ষ্যে অনশো’র ও অফশো’র মডেল পিএসসি’র আওতায় গ্যাস উৎপাদনের জন্য দরপত্র আহ্বানের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
