সিলেট নগর বিএনপি’র আওতাধীন ৬ থানা বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন সিটি প্রশাসক ও জেলার সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ বৈঠককে ঘিরে সিলেট বিএনপিতে তোলপাড় চলছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তারা বৈঠকের বিষয়ে কিছুই জানেন না। এ কারণে নগর প্রশাসকের বৈঠকে উপস্থিত হওয়া নেতাদের জরুরি তলব করে গতরাত ১০টার দিকে নগর বিএনপি’র নেতারা এ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
শৃঙ্খলার বিষয়ে তাদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে বলে বৈঠকে উপস্থিত হওয়া নেতারা জানিয়েছেন। নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী দাবি করেছেন, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে না জানিয়ে ইউনিটের কোনো সাংগঠনিক সভা করার এখতিয়ার সিটি প্রশাসক কিংবা জেলার সভাপতির নেই। তবে নগর প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন, ওই ৬ কমিটির দায়িত্বশীলরা তার সঙ্গে বসার আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় জেলা বিএনপি’র ইমেইল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সিটি প্রশাসক ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সঙ্গে মহানগরের আওতাভুক্ত ৬ থানা বিএনপি নেতাদের বৈঠকের বিষয়টি জানানো হয়। বলা হয়, সভায় সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করা, তৃণমূলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বৃদ্ধি, সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে জেলা বিএনপি’র সভাপতি বলেন, সংগঠনের প্রতিটি ইউনিটকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে নিয়মিত মতবিনিময়, সাংগঠনিক মূল্যায়ন এবং সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ঐক্য, শৃঙ্খলা ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে বিএনপিকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ এলাকার সাংগঠনিক কার্যক্রম, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন এবং জনগণের দোরগোড়ায় সরকারের সেবা পৌঁছে দিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নগর ভবনের হলরুমে মঙ্গলবার রাতে এ বৈঠক হয়। এদিকে, নগর প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশনের হলরুমে রাজনৈতিক সভা নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। রাজনৈতিক দলের বৈঠক নগর ভবনে করতে পারেন না বলে সমালোচনা করেন বিএনপি নেতারাও। তারা জানিয়েছেন, অতীতে কোনো মেয়র বা প্রশাসক এ ধরনের বৈঠক করেননি।
নগর সভা কক্ষে এ ধরনের বৈঠক এবারই প্রথম বলে জানান তারা। অন্যদিকে বৈঠককে ঘিরে নগর বিএনপিতে তোলপাড় শুরু হয়। কারণ নগর কমিটির দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন না। গতকাল বিকালে এ নিয়ে নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মানবজমিনকে বলেন, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পাশ কাটিয়ে নগর বিএনপি’র যেকোনো ইউনিটের নেতাদের নিয়ে প্রশাসকের সভা বা বৈঠক করার কোনো এখতিয়ার নেই। বৈঠক সম্পর্কে আমি বা নগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অবগত নই। এ কারণে আমরা বৈঠকে অংশ নেয়া ৬ থানার দায়িত্বশীলদের তলব করে বৈঠক করেছি। তিনি বলেন, কাইয়ুম চৌধুরী জেলার সভাপতি। তিনি নগরের না। ফলে যেকোনো বিষয়ে আলোচনার জন্য তাকে সৌজন্যতাবশত হলেও নগরের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেটি তিনি করেননি। এতে করে নগর বিএনপি’র শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার কথাও জানান তিনি।
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, গত রাতে নগর বিএনপি’র যে সভা হয়েছে সেখানে নগর শৃঙ্খলা সংক্রান্ত নানা বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এগুলো পরবর্তীতে গণমাধ্যমকে জানানো হবে। এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, জেলার সভাপতি ও নগরের প্রশাসক হিসেবে ওই ৬ থানা বিএনপি’র নেতারা আমার সঙ্গে আলোচনা করার আগ্রহ প্রকাশ করায় বৈঠক করা হয়েছে। তিনি বলেন, নগর প্রশাসক হিসেবে প্রতিদিনই তার সঙ্গে ওয়ার্ড বিএনপি’র নেতাদের যোগাযোগ হচ্ছে। কোথাও পরিদর্শনে গেলে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে ওয়ার্ড বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের নিজ নিজ ওয়ার্ডের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সঙ্গে রাখি। সেই হিসেবে ৬ থানা বিএনপি’র নেতারা উন্নয়নসহ সাংগঠনিক নানা বিষয়ে আলোচনার জন্য বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের সঙ্গে নগর উন্নয়ন সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
