ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা খোয়ানোর পর থেকে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুম নিয়ে তুমুল জল্পনা-কল্পনা চলছে। ম্যাচের ঠিক আগে লিওনেল মেসির দেয়া একটি বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর চাউর হয় নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। তবে সেই ধোঁয়াশা অবশেষে কাটলো মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের বাবা কার্লোস ম্যাক আলিস্টারের দেয়া তথ্যে।
ভিডিও ক্লিপটি ম্যাচের বিরতি থেকে মাঠে ফেরার সময়ের। ইএসপিএনের প্রকাশিত ক্লিপটিতে দেখা যায়, ড্রেসিংরুম ছাড়ার মুহূর্তে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক মেসি বলছেন, ‘চলো সবাই, শান্ত থাকো। শান্ত থাকাটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সবকিছু ভুলে যাই, চলো শুধু খেলি। কেবল ম্যাচটা নিয়েই ভাবো, ছেলেরা।’ মেসির এই ‘সবকিছু ভুলে যাও’ বাক্য নিয়েই শুরু হয় মূল বিতর্ক। অনেকে দাবি করেন, ফাইনালের আগে দলের ভেতরে হয়তো কোনো অস্বাভাবিক কোন্দল বা চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। সংশয় তৈরি হয় খোদ মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিসের পরিবারেও।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘লা নাসিওন’-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তার বাবা কার্লোস ম্যাক আলিস্টার নিজের উদ্বেগের কথা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ভিডিওটি দেখার পর কিছুটা সন্দিহান হয়ে পড়ি। সঙ্গে সঙ্গেই অ্যালেক্সিসকে ম্যাসেজ পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করি, ‘ড্রেসিংরুমে কী হয়েছিল? সত্যি কি কোনো সমস্যা ছিল?’ আমি নিজে যদি এমনটা ভেবে থাকি, তবে সাধারণ মানুষ কী ভাববে- তা সহজেই অনুমেয়।’ তবে বাবার প্রশ্নের জবাবে আলিস্টার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিষয়টি কোনো অভ্যন্তরীণ সংকটের নয়। সেটি ছিল পুরোপুরি কৌশলগত আলোচনার অংশ।
ছেলের বরাতে কার্লোস বলেন, ‘সে আমাকে নিশ্চিত করেছে যে ড্রেসিংরুমে কোনো সমস্যা ছিল না। মেসি কেবল টেকনিক্যাল বিষয় নিয়েই বলছিলেন- পাস দেয়া, বল ঘোরানো, ট্রায়াঙ্গেল তৈরি করা এবং অযথা লম্বা বল না খেলে পজিশন ধরে রাখার নির্দেশনা দিচ্ছিলেন তিনি।’ ছোট্ট একটি ভিডিও ক্লিপকে প্রেক্ষাপট ছাড়া উপস্থাপন করায় এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন কার্লোস। একই সঙ্গে পরাজয়ের দায় মেসির ওপর দিতে নারাজ তিনি। বরং স্পেনের শ্রেষ্ঠত্বকে মেনে নিয়ে কার্লোস বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, সেদিন স্পেন আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমাদের ছেলেরা সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছিল। তবে প্রতিপক্ষ দিনশেষে সেরা ফুটবলটাই খেলেছে।’
