মোহনা ইসলাম (৩৩)। দীর্ঘদিন ধরে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। প্রতিদিনের মতো সন্তানদের আনতে বুধবার দুপুরে রিকশাযোগে স্কুলে যাচ্ছিলেন তিনি। পথিমধ্যে রিকশা নষ্ট হওয়ার কথা বলে চালক হাসান নেমে পড়েন। রিকশাটি রামপুরা ব্রিজের ওপরে থামান। এরপর তিনি রিকশা ঠিক করার কথা বলে ভুক্তভোগী ওই নারীকে চেপে বসতে বলে তার পাশেই বসে পড়েন। এসময় চালক হাসান ছুরি বের করে ওই নারীকে ভয়ভীতি দেখায় এবং কাছে থাকা সবকিছু দিতে বলে। ওই নারী পরিস্থিতি বুঝতে পেরে নিজের কাছে থাকা সবকিছু দিতে রাজি হন। তারপরও চালক ওই নারীর হাতে ও বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এতে ভুক্তভোগীর ডান হাতের কব্জিতে গুরুতর জখম হয়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার সময় চিৎকার এবং ধস্তাধস্তি হলে আশপাশে থাকা ব্যক্তিরা ছুটে এসে চালক হাসানকে ধরে ফেলেন। এ সময় তাকে হাতিরঝিল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় ওই নারীর পরিবার মামলা দায়ের করেছে। আটককৃত রিকশাচালক হাসান যাত্রাবাড়ী এলাকায় থাকেন। তার পিতার নাম লাল মিয়া।
ভুক্তভোগী মোহনার স্বামী আব্দুস সালাম বলেন, আমার সন্তানরা বনশ্রী আইডিয়াল স্কুলে পড়াশোনা করে। আমার স্ত্রী বুধবার দুপুর বারোটার দিকে সন্তানদের আনতে রিকশাযোগে স্কুলে যাচ্ছিলো। রামপুরা ওভার ব্রিজে যখন উঠেছে তখন প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিলো। ব্রিজে উঠেই রিকশাচালক তার রিকশাটি নষ্ট হওয়ার কথা বলে রিকশাটি থামায়। এ সময় তিনি নেমে আমার স্ত্রীর পাশে বসে ঠিক করার কথা বলে। এবং তাকে একপাশে সরে বসতে বলে। বৃষ্টি হওয়ার কারণে রাস্তায় লোকজন কম ছিলো। আমার স্ত্রী গলায় চেইন এবং হাতে আংটি ছিল। এগুলো নেয়ার জন্য সে চেষ্টা করছিল। পরে আমার স্ত্রী বলে আপনি কিছু করিয়েন না আমি সব দিয়ে দিচ্ছি। তবুও সে বুকে এবং হাতে ছুরিকাঘাত করে। এতে ডান হাতের কব্জি ৯৯ শতাংশ কেটে যায়। পরে আশপাশে থাকা কিছু লোক বুঝতে পেরে ছুটে আসে এবং রিকশাচালককে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে । আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করে প্রথমে ফরাজী হাসপাতাল ও পরে পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে পঙ্গু হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব নাজুক অবস্থায় আছে। দিন-দুপুরে এমন ঘটনা ঘটাতে লোকটার একটুও ভয় হয়নি। আমি এবং আমার সন্তানরা কেউই নিরাপদ না। যিনি এই কাজ করেছেন তার কঠোর শাস্তি চাই। আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে যাতে বের হতে না পারে। স্ত্রীর হাতে এবং বুকে অনেকগুলো সেলাই লেগেছে। আমরা প্রায় ২০ বছর ধরে ঢাকায় থাকি পরিবার নিয়ে। আমার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা। আমি ব্যবসা করি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
হাতিরঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনার খবর শুনে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মোবাইল টিম পাঠানো হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা মামলা দায়ের করেছেন। আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
