‘শিল্পীদের মাঝে বিভাজন দুঃখজনক’

‘শিল্পীদের মাঝে বিভাজন দুঃখজনক’

ফন্ট সাইজ:

দেশবরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত। যার অভিনয় দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে চলেছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। এই অভিনেতা সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন মঞ্চ, টেলিভিশন, বেতার এবং বড় পর্দাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে। বয়সের সংখ্যায় ৮০ অতিক্রম করলেও আজও যে স্পৃহা, সময়ানুবর্তিতার মাধ্যমে যে অভিনয় করে চলছেন- তা তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয়। স্থপতি ও অভিনেতা আবুল হায়াত ব্যক্তিজীবনে ভীষণ বিনয়ী, যা তার সহশিল্পীদের মনে শ্রদ্ধার জায়গা তৈরি করে। তার সহধর্মিণী শিরিন হায়াত, দুই কন্যা অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত ও নাতাশা হায়াত এবং দুই জামাতা ও অভিনেতা তৌকীর আহমেদ এবং শাহেদ শরীফ খান। পুরো পরিবারই শিল্পাঙ্গনে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

১৯৬৯ সালে বিটিভি’র ‘ইডিপাস’ নাটকের মধ্যদিয়ে অভিনয়ে তার যাত্রা শুরু। সেই সূত্র ধরেই মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন তিনি। পরবর্তীতে গুণী পরিচালক সুভাষ দত্তের ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তার যাত্রা। চলচ্চিত্রের ঐতিহাসিক ছবি ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘পালঙ্ক’, ‘আগুনের পরশমণি’ এবং ‘জয়যাত্রা’র মতো কালজয়ী ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘হিমু’, ‘আজ রবিবার’, ‘অয়োময়’ নাটকগুলোতে তার অভিনয় আজও দর্শক মনে রেখেছে। অভিনয়ের বাইরে অসংখ্য নাটক পরিচালনা করেছেন তিনি। ক্যারিয়ারে আপনার প্রাপ্তি অনেক। কেমন লাগে সেটা ভাবলে? আবুল হায়াত বলেন, আমার যত অর্জন তার পেছনে আমার পুরো পরিবারের সদস্য বিশেষ করে আমার সহধর্মিণী শিরিন হায়াতের সহযোগিতা বলে শেষ করা যাবে না।

সত্যি বলতে পারিবারিক জীবন যদি মসৃণ না হয় তাহলে শিল্পীর জীবন বাধাগ্রস্ত হয়। এই দিক দিয়ে আমি ভাগ্যবান। সবার সহযোগিতায় আমার কর্মক্ষেত্র সাফল্য পেয়েছে। আজকাল শিল্পীদের মাঝে রাজনীতি নিয়ে বিভাজন। এ বিষয়ে আপনি কী মনে করেন? এ অভিনেতা বলেন, সত্যি এ বিষয়টি আমাকে পীড়া দেয়।

প্রতিটি নাগরিক আমরা কমবেশি রাজনৈতিক সচেতন। তাই বলে শিল্পীদের মাঝে বিভাজন দুঃখজনক। আপনার সহশিল্পী গুণী অভিনেতা মামুনুর রশিদ একবার বলেছিলেন, রুচির দুর্ভিক্ষ চলছে এখন। এ বিষয়ে আপনি কি একমত? আবুল হায়াত বলেন, বর্তমান প্রজন্ম অনেক মেধাবী। বিভিন্ন সেক্টরে তাদের সাফল্য নজরে পড়ার মতো। তবে আজকাল সোশ্যাল মিডিয়াকে অনেকেই ব্যক্তিগত ভালো-মন্দ প্রচারের হাতিয়ার বানিয়েছে, যা দৃষ্টিনন্দন নয়। আবার অনেকেই এই মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের মেধাকে বিকশিত করেছেন, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছেন। সবকিছুরই ভালো-মন্দ রয়েছে। এখন আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কোনটি গ্রহণ করছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন