পোশাক রপ্তানিতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রোডম্যাপ

শিল্পের জ্বালানির অগ্রাধিকার

পোশাক রপ্তানিতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রোডম্যাপ

ফন্ট সাইজ:

শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) মুখপাত্র মাহদি আমিন। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে ছয় দফা কৌশল তুলে ধরেছেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. এম. মাসরুর রিয়াজ। মঙ্গলবার রাজধানীতে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স এসোসিয়েশন (বায়লা) আয়োজিত ‘বায়লা ফিউচার সামিট ২০২৬’-এ এসব কথা বলেন বক্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহদি আমিন বলেন, শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য। তিনি বলেন, “আমরা এখন জ্বালানি নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। এখনও অনেক শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি এবং একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমার মধ্যে এসব সমস্যার সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

মাহদি আমিন বলেন, বাংলাদেশের বিনিয়োগ আকর্ষণের তিনটি বড় শক্তি হলো বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠী, বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সক্ষম একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। তবে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বন্দর ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসার ব্যয় কমানো জরুরি। তিনি জানান, সরকার নতুন শিল্পপার্ক স্থাপন, বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সহজীকরণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করছে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মানবসম্পদে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।এ ছাড়া সরকার বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সহজ করা, দ্রুত প্রণোদনা বিতরণ, প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) সম্প্রসারণ, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ এবং প্রকৃত উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক নীতিমালা বাস্তবায়নে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ড. এম. মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় সাফল্যের গল্প হলেও সীমিত পণ্য ও বাজারের ওপর অতিনির্ভরতা ভবিষ্যতের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। এ খাতকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানিতে নিতে তিনি ছয় দফা রোডম্যাপ তুলে ধরেন।

তার প্রস্তাবিত কৌশলের মধ্যে রয়েছে—কাস্টমস, অবকাঠামো ও নিয়ন্ত্রক সংস্কারের মাধ্যমে বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধি; বন্দর সক্ষমতা, মাল্টিমোডাল পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা আধুনিকায়নের মাধ্যমে লজিস্টিকস উন্নয়ন; উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য, ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ) ও নতুন বাজারে রপ্তানির জন্য নীতিগত সহায়তা; টেকসই উন্নয়ন ও সার্কুলার অর্থনীতির জন্য জাতীয় কৌশল গ্রহণ; প্রযুক্তি গ্রহণ ও দক্ষতা উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার; এবং শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, বাংলাদেশের করপোরেট অর্থায়নের মাত্র ১ শতাংশ বর্তমানে পুঁজিবাজার থেকে আসে। তিনি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য ব্যাংকঋণের পাশাপাশি পুঁজিবাজার ব্যবহারের আহ্বান জানান।অন্যদিকে, অ্যাঙ্করলেস বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা অংশীদার রাহাত আহমেদ পারিবারিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পেশাদার ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ‘ফ্যামিলি অফিস’ বা বিনিয়োগ ইউনিট গঠনের পরামর্শ দেন। তার মতে, এর মাধ্যমে স্টার্টআপ, প্রাইভেট ইকুইটি ও সম্ভাবনাময় নতুন খাতে বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। দিনব্যাপী এ সম্মেলনে নীতিনির্ধারক, শিল্প উদ্যোক্তা ও নতুন প্রজন্মের ব্যবসায়িক নেতারা বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, পুঁজিবাজার, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, পিডব্লিউসি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং পার্টনার শামস জামানসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

এবারই প্রথম বায়লা ‘ বায়লা ফিউচার সামিট’ নামে বাস্তবধর্মী ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধান প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০টির বেশি দল এতে অংশ নেয়। চূড়ান্ত পর্বে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ)-এর দল স্থান পায়। প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন