পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে কারাবন্দি ইমরান খানের বোন নোরিন নিয়াজি দাবি করেছেন, ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ সামরিকভাবে সফল ছিল। তার অভিযোগ, সেই বাস্তবতা আড়াল করতেই পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জনগণের সামনে ভিন্ন একটি বিজয়ের বয়ান তুলে ধরেছে।
সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে নোরিন নিয়াজি বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনব্যাপী সংঘাতের প্রকৃত চিত্র দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরা হয়নি। তার মতে, ভারত অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করলেও পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী দেখাতে ভিন্ন গল্প প্রচার করেছে।
তার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ) তাকে তলবের নোটিশ পাঠিয়েছে।
সংস্থাটির অভিযোগ, নোরিন নিয়াজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও সামরিক বাহিনী সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর, আপত্তিকর এবং উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, তার প্রচারিত বক্তব্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করতে পারে এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে প্রাণঘাতী হামলার পর ভারত পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে সামরিক অভিযান চালায়। দিল্লি ওই অভিযানের নাম দেয় ‘অপারেশন সিঁদুর’।
ভারতের দাবি ছিল, অভিযানে পাকিস্তানের ভেতরে বিভিন্ন সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠনের একাধিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ইসলামাবাদ এ দাবি অস্বীকার করে পাল্টা সামরিক অভিযান চালানোর কথা জানায়, যার নাম দেয়া হয় ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘ন্যায়যুদ্ধ’।
পাকিস্তান বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা ভারতের হামলার কার্যকর জবাব দিয়েছে। কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
সাক্ষাৎকারে নোরিন নিয়াজি আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেন, যদিও সেগুলোর পক্ষে তিনি কোনো তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
তার প্রথম দাবি ছিল, ইসরাইলকে ঘিরে একটি ‘নীরব সমঝোতার’ অংশ হিসেবে ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করেনি। তার ভাষ্য, পাকিস্তানকে ভবিষ্যতে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস-এ অন্তর্ভুক্ত করা এবং ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার সম্ভাব্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই পরিস্থিতির সম্পর্ক থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কো ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করে। তবে পাকিস্তান এখনো ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি এবং দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই।
নোরিন নিয়াজির দ্বিতীয় দাবি ছিল, সংঘাত আরও বড় আকার নেয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করেন। তার মতে, পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে ‘সম্মানজনকভাবে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার’ সুযোগ করে দিতেই ট্রাম্প এই উদ্যোগ নেন।
তবে এই দাবির পক্ষেও তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
নোরিন নিয়াজির এসব মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)। দলটির নেতারা বলেছেন, এ ধরনের বক্তব্য দেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে পাকিস্তানের অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।
