জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ এ দেশের সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক। তাদের প্রতি দয়া বা অনুগ্রহ নয়, বরং সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। মঙ্গলবার (২১শে জুলাই) সন্ধ্যায় নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সেলাই মেশিন ও বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আজ যেসব সহায়তা দেয়া হচ্ছে, তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, গারোসহ সব সম্প্রদায়কে একই কাতারে এনেছিলেন। তিনি শিখিয়েছেন, আমরা সবাই বাংলাদেশি, এই দেশের নাগরিক। অতএব কাউকে পাহাড়ি, হাজং বা গারো বলে দূরে সরিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, কথায় কথায় ‘অনগ্রসর জনগোষ্ঠী’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। আমি চাই না কলমাকান্দা-দুর্গাপুরে এই শব্দটি থাকুক। আমি চাই আপনারা সমান মর্যাদায় এগিয়ে যান। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাস্তবায়নাধীন ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের মধ্যে ২৮টি সেলাই মেশিন ও ৪২টি বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ২৮৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষাবৃত্তির অর্থ প্রদান করা হয়। ডেপুটি স্পিকার বলেন, হাজংদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও এর কোনো স্বীকৃত বর্ণমালা বা পাঠ্যবই নেই। নতুন প্রজন্ম যেন তাদের মাতৃভাষা ভুলে না যায়, সে জন্য আমি হাজং ভাষার একটি বই প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বইটি প্রকাশ করা হবে। এসময় তিনি উপকারভোগীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা যারা আজ এই প্রণোদনা পাচ্ছেন, এটি কারও দয়া বা সাহায্য নয়। এ দেশের নাগরিক হিসেবে এটি আপনাদের অধিকার। প্রধানমন্ত্রী আপনাদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই এই উপহার দিয়েছেন। মাদক প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাদক থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা। দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় মূল্যবোধকে কাজে লাগাতে হবে।
প্রত্যেক ধর্মই মানুষকে সৎ কাজের শিক্ষা দেয় এবং অন্যায় ও অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকতে বলে। এ কারণেই আমি মন্দিরভিত্তিক হাজং ভাষা শিক্ষা প্রকল্প হাতে নিয়েছি। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার যে উপবৃত্তির টাকা দিচ্ছে, তা হয়তো একজন শিক্ষার্থীর পুরো পড়াশোনার ব্যয় বহনের জন্য যথেষ্ট নয়। তবে এটি একটি উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা। আপনারা মনে করবেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আপনাদের সন্তানের জন্য এটি একটি উপহার। একই সঙ্গে এটি একটি বার্তা—সন্তানকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে এবং ভালোভাবে লেখাপড়া করাতে হবে।
সরকার তার সামর্থ্য অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছে। এখন অভিভাবকদের দায়িত্ব সন্তানদের সুশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামছুজ্জামান আসিফ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ইসলাম মীম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. এ. খায়ের, ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভুঁইয়া, ওবায়দুল হক ও আনিছুর রহমান খান পাঠান প্রমুখ।
