জামায়াত এমপি’র অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল, তোলপাড়

জামায়াত এমপি’র অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল, তোলপাড়

ফন্ট সাইজ:

একটি ভাইরাল ভিডিও। এরপর মুহূর্তেই দেশ জুড়ে তুমুল আলোচনা, বিতর্ক, সমালোচনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন। সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে এক তরুণীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে দেখা যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় চলছে তোলপাড়। এ ঘটনায় নানা বক্তব্য আসছে বিভিন্ন পক্ষ থেকে। দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়া এ ঘটনার তদন্ত করে গাজী নজরুলের বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে জামায়াত।

ভিডিও’র ঘটনাকে কেউ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বলে প্রচার করছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। এমপি গাজী নজরুল অবশ্য বিবৃতি দিয়ে ওই তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে জানিয়েছেন। তরুণী ও তার বাবাও ভিডিও বার্তায় বিয়ের বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তাদের এই দাবির পরও বিয়ে এবং তাদের সম্পর্কের বিষয়ে নানা তথ্য আসছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যা জামায়াতের জন্য এক বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর একে একে মুখ খোলেন গাজী নজরুল ইসলাম, ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম বেগম, তার বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ, এমপি’র প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল নেতারা। তাদের সবার বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু একটিই, ভিডিওতে থাকা তরুণী গাজী নজরুল ইসলামের বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী এবং ঘটনাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার হিসেবে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত লিখিত বিবৃতিতে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১৭ই জুন পারিবারিকভাবে এবং তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমে মরিয়ম বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তাই ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে প্রচার করা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তিনি জানান, গত ১৩ই জুলাই প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ বাইরে গিয়ে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন। তার অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা তাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করে এবং ব্যবহৃত ভাড়ার গাড়িটি আটকে রেখে আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়া হয়।
গাজী নজরুল ইসলামের দাবি, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বের পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই পুরো ঘটনার পরিকল্পনা করা হয়। পরে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

তিনি এ ঘটনাকে নিজের সামাজিক মর্যাদা ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম বেগমও প্রকাশ্যে এসে বলেন, উনি আমার স্বামী। আমাদের বিয়ে হয়েছে। সেদিন আমরা ঘুরতে গিয়ে আমার বাবার অফিসে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। জানান, চলতি বছর তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, তিন লাখ টাকা দেনমোহরে গত ১৭ই জুন তার মেয়ের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়। তার ভাষ্য, ঘটনার দিন তারা তার মগবাজারের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকেই ভিডিওটি ধারণ করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, তার অফিসের সহকারী ওবায়দুল্লাহ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
ভাইরাল ভিডিও নিয়ে আলোচনার মধ্যেই গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম একটি ভিডিওবার্তায় বলেন, আমার স্বামী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়ম বেগমের বৈধ বিবাহ হয়েছে। এটি নিয়ে যারা কুৎসা রটাচ্ছে, আমি তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধ না হলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো। প্রথম স্ত্রীর এই বক্তব্যের পর ভিডিওটিকে ঘিরে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে। ভিডিওটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি আমরা খতিয়ে দেখছি।
তিনি আরও বলেন, বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ তার জানা না থাকলেও দল জেনেছে, বেশ কিছুদিন আগেই বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে।
এমপি গাজী নজরুল ইসলামের অভিযোগ, ব্যক্তিগত শত্রুতা, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনার সূত্রপাত। তার দাবি, ভিডিওটি ইচ্ছাকৃতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

অন্যদিকে ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে দেশ জুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, রাজনৈতিক নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা এবং জেলা জামায়াতের বক্তব্য একই অবস্থানে রয়েছে। তাদের দাবি, মরিয়ম বেগম তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী এবং ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা সত্য নয়। তবে ভিডিওটি কীভাবে ধারণ করা হয়েছে, কারা এটি প্রকাশ করেছে, জিম্মি ও চাঁদাবাজির অভিযোগের বাস্তবতা কী এবং পুরো ঘটনার প্রকৃত নেপথ্য কী, সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো মিলছে না।

তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর এমপি গাজী নজরুলের বিষয়ে সাংগঠনিক পদক্ষেপ: জামায়াত
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
গতকাল দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।

বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘অতি সমপ্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।’
বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজখবর নেয়া হবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর দলের সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন